আজকাল ওয়েবডেস্ক: দেশজুড়ে জাতীয় সড়কের টোল প্লাজাগুলিতে ক্যাশ লেনদেন বন্ধ করার পরিকল্পনা করছে ন্যাশনাল হাইওয়ে অথোরিটি অফ ইন্ডিয়া।
এই প্রস্তাব কার্যকর হলে আগামী ১ এপ্রিল থেকে সমস্ত টোল প্লাজায় ডিজিটাল পেমেন্ট চালু হয়ে যাবে পুরোদমে। আগেই জানা গিয়েছিল, দেশজুড়ে জাতীয় সড়কগুলিতে যাতায়াতের ক্ষেত্রে বড়সড় ডিজিটাল পরিবর্তনের পথে হাঁটতে চলেছে কেন্দ্র।
জানা গিয়েছিল, আগামী ১ এপ্রিল থেকে জাতীয় সড়কের টোল প্লাজাগুলিতে ক্যাশ লেনদেন পুরোপুরি নিষিদ্ধ করার প্রস্তুতি নিচ্ছে কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহণ মন্ত্রক।
এই নিয়ম কার্যকর হলে যাত্রীদের টোল দিতে হবে শুধুমাত্র ফাসট্যাগ অথবা ইউপিআইয়ের মাধ্যমে। মূলত জাতীয় সড়ক দিতে যাতায়াতের সময় টোল প্লাজায় যানজট কমানো এবং যাত্রাপথকে আরও দ্রুত ও স্বচ্ছ করাই এই উদ্যোগের লক্ষ্য।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, জাতীয় সড়কের টোল প্লাজায় শুধুমাত্র ডিজিটাল টোল পেমেন্ট করা যাবে। এর মাধ্যমে গোটা দেশে টোল ব্যবস্থা একটি সার্ভারের সঙ্গে জুড়ে যাবে এবং ইলেকট্রনিক টোল ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হবে।
সংস্থার দাবি, এই পরিবর্তনের ফলে যান চলাচল সহজ হবে, টোল প্লাজায় যানজট কমবে এবং টোল লেনদেনে স্বচ্ছতা ও সামঞ্জস্য বাড়বে।
পরিসংখ্যান বলছে, গত কয়েক বছরে ফাস্ট্যাগ ব্যবহারের হার ৯৮ শতাংশের বেশি হয়েছে। যা কিনা দেশের টোল ব্যবস্থায় বড়সড় পরিবর্তন এনেছে। বর্তমানে অধিকাংশ টোল প্লাজাতেই ফাস্ট্যাগের মাধ্যমে পেমেন্ট নেওয়া হয়।
যাত্রীদের সুবিধার জন্য জাতীয় সড়কের টোল প্লাজাগুলিতে ইউপিআই পেমেন্ট ব্যবস্থাও চালু করা হয়েছে। বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, বৈধ ও কার্যকর ফাস্ট্যাগ ছাড়া কোনও গাড়ি টোল প্লাজায় প্রবেশ করলে নগদে টোল দিলে নির্ধারিত ফি-র দ্বিগুণ দিতে হয়।
তবে একাংশের মতে টোল প্লাজায় নগদে লেনদেনের কারণে যানজট বাড়ে। এনএইচএআই মনে করছে, সম্পূর্ণ ডিজিটাল পদ্ধতি চালু হলে যানবাহন নিয়ন্ত্রণ সহজ হবে।
দেশজুড়ে ১১৫০টির বেশি টোল প্লাজায় পরিষেবা আরও দ্রুত হবে। দাবি করা হচ্ছে, টোল প্লাজায় ক্যাশ লেনদেন করতে গেলে বেশ খানিকটা সময় খরচ হয়।
ফলে, রাস্তায় গাড়ির লাইন পড়ে যাচ্ছে। সে কারণেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হচ্ছে কেন্দ্রের তরফে। এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে টোল প্লাজায় দীর্ঘ লাইনের সমস্যা অনেকটাই কমবে বলে আশা করা হচ্ছে। খুচরো টাকা দেওয়া বা হাতে রশিদ নেওয়ার ঝামেলা থাকবে না।
ফলে সময় বাঁচানোর পাশাপাশি যাতায়াত হবে আরও স্বাচ্ছন্দ্যের। এছাড়াও টোল প্লাজায় বারবার গাড়ি থামানো ও চালু করার প্রয়োজন না থাকায় উল্লেখযোগ্য পরিমাণে জ্বালানি সাশ্রয় হবে বলে দাবি করছে কেন্দ্র।
ডিজিটাল লেনদেনের ফলে প্রতিটি টোল প্লাজার কাছে প্রত্যেকটি গাড়ির রেকর্ডও থাকবে বলে দাবি কেন্দ্রীয় পরিবহণ মন্ত্রকের। ইতিমধ্যেই, দেশের সমস্ত জাতীয় সড়কে ফাসট্যাগ ব্যবস্থা চালু হয়ে গেছে।
আগামী এপ্রিল থেকে ক্যাশ ব্যবস্থা পুরোপুরি বন্ধ হলে এই ফাসট্যাগ বা ইউপিআই একমাত্র ভরসা। এই নয়া টোল ব্যবস্থা চালু করা হচ্ছে ভবিষ্যতের মাল্টি-লেন ফ্রি ফ্লো টোলিং ব্যবস্থার প্রথম ধাপ হিসেবে।
আন্তর্জাতিক মানের প্রযুক্তি ব্যবহার করে এমন ব্যবস্থা গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। এই নয়া প্রযুক্তিতে গাড়িগুলি কোনও ধরনের ব্যারিয়ার ছাড়াই স্বাভাবিক গতিতে টোল এলাকা অতিক্রম করতে পারবে।
ইতিমধ্যেই দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ২৫টি টোল প্লাজায় এই ‘নো-স্টপ’ টোলিং ব্যবস্থার পাইলট প্রকল্প চালু রয়েছে এবং তার ফলাফল খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এই পরিস্থিতিতে যাত্রীদের আগেভাগেই প্রস্তুত থাকার পরামর্শ দিচ্ছে কর্তৃপক্ষ। ফাসট্যাগ ব্যবহারকারীদের নিজেদের অ্যাকাউন্ট সক্রিয় রয়েছে কি না এবং পর্যাপ্ত ব্যালান্স আছে কি না, তা দ্রুত যাচাই করে নিতে বলা হয়েছে।
যাঁরা এখনও ফাস ট্যাগ ব্যবহার করেন না, তাঁদের স্মার্টফোনে ইউপিআই পেমেন্টের ব্যবস্থা প্রস্তুত রাখার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। নতুন নিয়ম চালু হলে টোল প্লাজায় ডিজিটাল পেমেন্টে অক্ষম যানবাহনকে সমস্যায় পড়তে বা জরিমানার মুখে পড়তে হতে পারে বলেও ইঙ্গিত মিলছে।