• শুনানিতে নথি দিলেও নাম থাকা নিয়ে সংশয়ে অনেকে, মেদিনীপুরে উৎকণ্ঠা নিয়ে অপেক্ষা
    এই সময় | ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • এই সময়: আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের দিন ঠিক হয়ে রয়েছে। লজিকাল ডিসক্রিপেন্সি নিয়ে শুনানি পর্বও শেষ। যদিও তিন জেলাতেই শুনানিতে অংশ নেওয়ার ভোটার সংখ্যা যথেষ্ট। এমনকী শুনানি হয়ে যাওয়া কেসগুলির ক্ষেত্রে সেই সব তথ্য ঠিকমতো আপলোড করার জন্য নির্বাচন কমিশনের তরফে নির্দেশও এসেছে।

    যদিও একেবারে শেষ মুহূর্তে সমস্ত তথ্য আপলোড করা যাবে কি না তা নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন ইআরওদের অনেকে। সে ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তা না করা গেলে পূর্ণাঙ্গ সঠিক ভোটার তালিকা প্রকাশে বিলম্ব হতে পারে বলে মনে করছে অনেকে। পূর্ব মেদিনীপুর জেলায় মোট ৫ লক্ষ ১৬ হাজার লজিকাল ডিসক্রিপেন্সি সংক্রান্ত ব্যক্তির নাম নথিভুক্ত করা হয়েছিল। এঁদের প্রত্যেককে শুনানির নোটিস পাঠানো হয়।

    সূত্রের খবর, নির্ধারিত দিনের মধ্যে প্রায় ১২০০ জন শুনানিতে উপস্থিত থাকতে পারেননি। অপরদিকে, যাঁরা শুনানিতে অংশগ্রহণ করেছিলেন, তাঁদের সমস্ত তথ্য যাচাই করে আপলোডের কাজ সম্পূর্ণ হয়েছে। জেলাশাসক ইউনিস ঋষিন ইসমাইল জানান, শুনানিতে অনুপস্থিত ব্যক্তিদের মধ্যে কয়েক’শো জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে এবং আরও অনেকের ঠিকানা যাচাই করেও তাঁদের খুঁজে পাওয়া যায়নি।

    ফলে প্রশাসনের আশঙ্কা, যাঁরা শুনানিতে উপস্থিত হননি এবং যাঁদের সম্পর্কে পর্যাপ্ত তথ্য যাচাই করা যায়নি, তাঁদের নাম চূড়ান্ত তালিকায় বাদ পড়তে পারে। ভোটার তালিকায় নাম বদল নিয়ে চাঞ্চল্য দেখা দিয়েছে পাঁশকুড়ায়। মাংলই গ্রামের বছর সাতান্নর বিজয়কৃষ্ণ বেরার নাম ২০০২ সালের ভোটার তালিকায়। ছিল। ২০২১ সালে নতুন তালিকায় বিজয়কৃষ্ণের নাম বদলে হয়ে যায় শেখ রাজেশ আলি। অথচ তাঁর বাবার নাম একই থেকে যায় ভুবনচন্দ্র বেরা। এমনকি বিজয়কৃষ্ণের এপিক নম্বরও বদল হয়নি। বিজয়কৃষ্ণের দাবি, তিনি ভোটার কার্ড সংশোধনের জন্য আবেদন জানিয়েছিলেন। কিন্তু হয়নি।

    ফলে ২০২৩ এবং ২০২৪–এ তিনি ভোট দিতে পারেননি। সার- এর ফর্ম পূরণের সময় স্থানীয় বিএলওর মাধ্যমে বিজয়কৃষ্ণ ২০০২ এর ভোটার তালিকার নথি পেশ করেন। কিন্তু তাতেও লাভ হয়নি। শেখ রাজেশ আলি নামেই খসড়া তালিকা প্রকাশিত হয়। শুনানিতে ডাক পেয়ে বিজয়কৃষ্ণ সমস্ত নথি জমা করেছেন। বিজয়কৃষ্ণের দাবি, রাজেশ আলির বাবার নাম হিসেবে আমার বাবার নাম লেখা রয়েছে। এটা নির্বাচন কমিশনের ভুল।

    পাঁশকুড়ার বিডিও মোহন ভার্মা বলেন, ‘২০২১–এর ভোটার তালিকা অটো আপডেট হওয়ার সময় বিজয়কৃষ্ণ বেরার নাম বদলে শেখ রাজেশ আলি হয়ে যায়। সার- এর ৮ নম্বর ফর্ম পূরণ করে সংশোধনের জন্য পাঠানো হয়েছে।’ স্থানীয় বিএলও গোপাল সিং বলেন, ‘বিজয়কৃষ্ণ বেরা প্রকৃত ভোটার। ২০০২–এর তালিকায় ওঁর নাম সঠিক রয়েছে। ওই নথি ধরে সার- এর ফর্ম পূরণ করেছিলাম। কিন্তু তাও ভুল এসেছে। নতুন করে সংশোধনীর আবেদন করা হয়েছে।’

    পশ্চিম মেদিনীপুর জেলা নির্বাচন দপ্তরের প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, লজিকাল ডিসক্রিপেন্সির কারণে প্রায় ৭ লক্ষ নাম তালিকায় সমস্যাজনক হিসেবে উঠে এসেছে। এর জন্য প্রায় ৪ লক্ষ ৮০ হাজার ভোটারকে শুনানিতে ডাকা হয়েছিল। সেই শুনানিও শেষ হয়েছে। তবে শুনানিতে কতজন ভোটার অনুপস্থিত ছিলেন, প্রশাসনের তরফে তা জানানো হয়নি। জেলার এক নির্বাচন আধিকারিক জানান, নির্বাচন কমিশনের নির্দেশ মেনে প্রতিদিন স্পেশাল চেকিং চলছে।

    তিনি বলেন, ‘জোর কদমে কাজ চলছে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই পুরো প্রক্রিয়া শেষ করার চেষ্টা হচ্ছে। যারা শুনানিতে অনুপস্থিত ছিলেন, তাঁদের বিষয়ে কমিশনের নির্দেশ অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ করা হবে।’ ঝাড়গ্রাম জেলায় লজিকাল ডিস্ক্রিপেন্সিতে ৮৩ হাজার ভোটারকে নোটিস পাঠানো হয়। জেলাশাসক আকাঙ্ক্ষা ভাস্কর বলেন, ‘লজিকাল ডিস্ক্রিপেন্সিতে নোটিস পাঠানো ভোটারদের মধ্যে ৫৪০ জন ছাড়া সকলেই শুনানিতে হাজির ছিলেন।

    অনুপস্থিতদের অনেকেই পরিযায়ী শ্রমিক, কর্মসূত্রে বিদেশে বসবাস–সহ নানা কারণে শুনানিতে হাজির হননি। বিজয়কৃষ্ণ বেরার ঘটনা সামনে আসায় অনেকেই চিন্তায় পড়েছেন। শুনানিতে নথি জমা দিয়েছেন এমন অনেকেরই প্রশ্ন, কমিশনের ভুলে ভুল তথ্য আপলোড হলে তার দায় কে নেবে? সে ক্ষেত্রে চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশিত হলে সেখানে তাঁদের নাম থাকবে তো! লজিকাল ডিস্ক্রিপেনসিতে শুনানিতে হাজির না হওয়া ভোটারদের আগামী দিনে কী হবে তার উত্তর পেতে মুখ্য নির্বাচন কমিশনের নির্দেশিকার দিকেই নজর রয়েছে জেলা নির্বাচন কমিশনের।

  • Link to this news (এই সময়)