• ট্যারিফ রায়ে নতুন বিতর্ক, বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে মোদীকে তোপ রাহুলের, ‘বিশ্বাসঘাতকতা প্রকাশ্যে’
    এই সময় | ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • বড় ধাক্কা খেয়েছেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর ট্যারিফকে ‘বেআইনি ও অসাংবিধানিক’ বলে ঘোষণা করেছে সুপ্রিম কোর্ট। তা হলে ভারত-আমেরিকার দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তির কী হবে? আদৌ সেই চুক্তি করে কোনও লাভ হবে কিনা সেই প্রশ্নও উঠে গিয়েছে। এই নিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে তীব্র আক্রমণ শানালেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। শনিবার X হ্যান্ডলে তিনি লিখেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রীর বিশ্বাসঘাতকতা প্রকাশ্যে।’

    ভারতীয় পণ্যে দুই দফায় ৫০ শতাংশ ট্যারিফ চাপিয়েছিলেন ট্রাম্প। দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তির ‘শর্তে’ তা ১৮ শতাংশে নেমে আসে। কিন্তু গতকাল অর্থাৎ শুক্রবার ট্যারিফকে ‘সম্পূর্ণ বেআইনি’ বলে রায় দিয়েছে আমেরিকার সুপ্রিম কোর্ট। ফলে জরুরি ভিত্তিতে আরোপ করা বাড়তি ট্যারিফ এবং রেসিপ্রোকাল ট্যারিফ, দু’টিই আপাতত বাতিল হয়ে গিয়েছে।

    তবে ট্রাম্প চুপ করে বসে থাকেননি। এর পাল্টা বিদেশি পণ্যের উপরে নতুন করে ১০ শতাংশ ট্যারিফ চাপিয়ে দিয়েছেন তিনি। ২৪ ফেব্রুয়ারি মধ্যরাত থেকে এই শুল্ক কার্যকর হবে। তবে এর সময়সীমা রয়েছে। ১৫০ দিন এই ট্যারিফ দিতে হবে দেশগুলিকে। আর সেটা ভারতীয় পণ্যেও। এই নিয়েই খোঁচা দিয়েছেন রাহুল। তিনি লিখেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রী দর কষাকষি করতে পারবেন না। তিনি আবার আত্মসমর্পণ করবেন। তাঁর বিশ্বাসঘাতকতা সবার সামনে চলে এসেছে।’

    প্রধানমন্ত্রীকে কড়া ভাষায় আক্রমণ শানিয়েছেন কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশও। তিনিও বাণিজ্য চুক্তির প্রসঙ্গ টেনে লিখেছেন, ‘মোদী যদি নিজের ভঙ্গুর ভাবমূর্তি ধরে রাখার জন্য মরিয়া না হয়ে আরও কয়েক দিন অপেক্ষা করতেন, তা হলে দেশের কৃষকদের এত দুর্ভোগ পোহাতে হতো না। দেশের সার্বভৌমত্বও সুরক্ষিত থাকত।’ ভারত-আমেরিকার বাণিজ্য চুক্তি প্রধানমন্ত্রীর আত্মসমর্পণের ফল বলেও কটাক্ষ করেন তিনি।

    একই ভাবে মোদী কেন তড়িঘড়ি দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি করতে গেলেন, সেই প্রশ্ন তুলেছেন কংগ্রেস নেতা রণদীপ সুরজেওয়ালাও। দেশের স্বার্থে কেন্দ্রীয় সরকার কবে রাশিয়া এবং ইরানের থেকে তেল কেনার কথা ঘোষণা করবে, তা জানতে চেয়েছেন তিনি। সঙ্গে প্রশ্ন তুলেছেন, ‘দেশের কৃষক ও শ্রমিকদের রক্ষায় প্রধানমন্ত্রী কি আমেরিকা থেকে কৃষি ও খাদ্যপণ্য আমদানি বন্ধ করবে কবে?’

  • Link to this news (এই সময়)