• ছোট জাগুলিয়াতে ছিল ‘মহানায়ক’-এর শখের ‘ভ্রমর’, কেমন আছে সেই বাগানবাড়ি?
    এই সময় | ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • ‘এই পথ যদি না শেষ হয়/তবে কেমন হতো, তুমি বলো তো…’, যতই আধুনিক বলিউড কিংবা হলিউডের গান শুনুন, এই গান শুনলে আজও মনের মধ্যে প্রেমের উদ্রেক হয় না এমন বাঙালি খুঁজে পাওয়া দুষ্কর। কিংবা মন খারাপ থাকলে ‘দেওয়া নেওয়া’ ছায়াছবি থেকে শ্যামল মিত্রের গলায় এবং ‘মহানায়ক’-এর লিপসিঙ্কে ‘গানে ভুবন ভরিয়ে দেবো’ — এ গান কমবেশি সবাই শুনেছেন। অ্যান্টনি ফিরিঙ্গি হোক কিংবা ধন্যি মেয়ে, উত্তমকুমারের অভিনয়ের জাদুতে মজেছেন সবাই।

    ভবানীপুরের গিরিশ মুখার্জি রোডের সাদা বাড়িটা উত্তমকুমার বহু বছর থেকেছেন। গিরিশধাম নামের সেই বাড়িটাই দেখেছে অখ্যাত অরুণকুমার চট্টোপাধ্যায় কী ভাবে হয়ে উঠলেন বাংলার অন্যতম সফল ম্যাটিনি স্টার উত্তমকুমার। ওই বাড়িতেই বিয়ে হয়েছিল গৌরীদেবীর সঙ্গে। তবে, ‘ছোটি সি মুলাকাত’ ছবিটা বক্স অফিসে ব্যর্থ হলে আর্থিক ভাবে বেশ সমস্যায় পড়েছিলেন মহানায়ক। বাধ্য হয়ে তাঁর প্রিয় বাড়িটা তখন বিক্রি করে দিতে বাধ্য হন। তবে, লাউডন স্ট্রিটে তাঁর বাড়িটা আজও অক্ষত আছে। আর আছে, উত্তর ২৪ পরগনার ছোট জাগুলিয়ায় উত্তমকুমারের সাধের বাগানবাড়িটি।

    জাগুলিয়ার এই বাগানবাড়িটা বেশ প্রিয় ছিল মহানায়কের। শখ করে বাড়িটার নাম রেখেছিলেন ‘ভ্রমর’। পরে বাড়ির মালিকানা উত্তমকুমারের ভাই তরুণকুমারের কাছে চলে গেলেও, বাড়িটা আজও পরিচিত মহানায়কের নামেই। পরে, অনেক হাত ঘুরে এখন বাড়ির মালিক এস কে মফিজুল ইসলাম। নিজের ভালোবাসায় বাড়িটাকে আগলে রেখেছেন এই উত্তমভক্ত।

    মহানায়কের প্রতি ভালোবাসা থেকেই এই বাগানবাড়ি কিনেছেন মফিজুল। তাঁর ইচ্ছে, বর্তমান প্রজন্মের কাছে মহানায়কের ঐতিহ্যকে তুলে ধরা। সেই লক্ষ্যেই এই বাড়িটিতে মহানায়কের নামে সংগ্রহশালা তৈরি করার ইচ্ছে রয়েছে তাঁর। এই বছরেই মহানায়কের জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে এই বাগানবাড়িটি নবরূপে উদ্বোধন করার ইচ্ছে র‍য়েছে তাঁর। বাড়ির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের অনুষ্ঠান মহানায়কের বংশের কারও হাত ধরেই করার পরিকল্পনা মফিজুলের।

    কিন্তু কেন কেন এমন পরিকল্পনা? মফিজুল ইসলাম জানালেন, শুধুই মহানায়কের প্রতি ভালোবাসা থেকেই এই উদ্যোগ। ছোটবেলা থেকেই উত্তম কুমারের অভিনয় তাঁকে মুগ্ধ করেছে। বর্তমান প্রজন্মকে উত্তমকুমারের সেই ঐতিহ্যের কথা জানানোই তাঁর লক্ষ্য।

    মফিজুল জানতেন, ছোট জাগুলিয়ায় উত্তমকুমারের বাগানবাড়ি রয়েছে। তাই মহানায়কের বাগানবাড়িটি বিক্রি হচ্ছে জেনে কিনে নেন তিনি। বাড়িটি কেনার পর থেকেই বাড়িটিকে সংগ্রহশালা তৈরি করার লক্ষ্যে কাজ করছেন তিনি। বাড়িটি কেনার সময়ে স্মৃতি হিসেবে ছিল মহানায়কের ব্যবহৃত একটি খাট, সিলিং ফ্যান। পাশাপাশি সেইসময় থেকে চলা ইলেকট্রিক বিল আজও একই নামেই রয়েছে।

    বাগানবাড়িটি ভাড়া দেওয়া কিংবা বাগান নিয়ে ব্যবসার কোনও পরিকল্পনা এখনই নেই মফিজুলের। সংগ্রহশালা তৈরি করতে তিনি খুঁজে চলেছেন তাঁর ব্যবহৃত সরঞ্জাম, জিনিসপত্র। সকলের কাছে এই বাগানবাড়ির প্রচার করতে পরিচিতদের মধ্যে খুবই সামান্য অর্থের বিনিময়ে কয়েকজনকে পিকনিক করতে দিয়েছেন এই শীতের মরশুমে। তবে, ভবিষ্যতে তাঁর পরিকল্পনা ভিন্ন। এই সংগ্রহশালার জিনিসপত্রের জন্য মফিজুলের পক্ষ থেকে ইতিমধ্যেই তরুণকুমারের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। অভিনেতার পরিবারও এই পরিকল্পনাকে স্বাগত জানিয়েছেন।

  • Link to this news (এই সময়)