ডিএনএ মিলতেই দেহাবশেষ হস্তান্তর করা হলো। প্রায় এক মাসের অপেক্ষার পরে প্রিয়জনের শেষ চিহ্নটুকু পেলেন বাড়ির লোকেরা। ২৬ জানুয়ারি মধ্যরাতে দক্ষিণ কলকাতার আনন্দপুরের নাজিরাবাদে দু’টি গুদামে ভয়াবহ আগুন লাগে। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার পরে ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার হয় মোট ২৭ জনের দেহাংশ। আগুনের তীব্রতায় অধিকাংশ দেহ পুড়ে যাওয়ায় তাৎক্ষণিক ভাবে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। বাড়ির লোকের DNA নমুনা চাওয়া হয়। সেই নমুনা পরীক্ষার পরে ১৮ জনকে শনাক্ত করা গিয়েছে। দেহগুলি শনিবার পরিবারের লোকজনের হাতে তুলে দেওয়া হয়।
এ দিন সকালেই ১৮ জনের বাড়ির লোকেজন নরেন্দ্রপুর থানায় পৌঁছে যান। সেখানে কাজকর্ম মিটিয়ে যান কাঁটাপুকুর মর্গে। সেখান থেকেই দেহাবশেষ তুলে দেওয়া হয়। দেহ বলে আর কিছুই অবশিষ্ট নেই। বাড়ির লোকেরা বলছেন, ‘যে টুকু আছে, সেটাই নিয়ে যাই এ বার।’
বেশির ভাগ পরিবারই পূর্ব মেদিনীপুরের। তমলুক, হলদিয়া, নন্দকুমার এলাকার। সকাল থেকে থমথমে মুখ করে থানার বাইরে দাঁড়িয়ে ছিলেন তাঁরা। কেউ সন্তানকে হারিয়েছেন, কেউ স্বামীকে। কারও দাদা এসেছেন, কারও কাকা। চোখ ঝাপসা, চোখেমুখে গভীর উদ্বেগ। এই এক মাস ধরে ভিতরে ভিতরে যুদ্ধ চলেছে। তাঁরা জানেন, বাড়ির ছেলেটা আর নেই। কিন্তু শেষ অবধি কী হবে বুঝতে পারছিলেন না। সেই টানাপড়েনের আজ অবসান।
তমলুকের দেবাদিত্য দিন্দার কাকা দাঁড়িয়েছিলেন থানার সামনে। তিনি বলেন, ‘দেবাদিত্যর রিপোর্ট আসেনি এখনও। বাকিদের সঙ্গে এসেছি।’ তিনি জানান, প্রশাসন সব রকম ভাবে সহযোগিতা করছে তাঁদের।
নন্দকুমারের বরগোদা থেকে এসেছেন সুজিত সিংয়ের পরিবারের লোক। ছেলে রামকৃষ্ণ মণ্ডলের দেহ নিতে এসেছেন নিরঞ্জন মণ্ডল। ভাই গোবিন্দ মণ্ডলও মারা গিয়েছেন, দাবি নিরঞ্জনের। তবে, তাঁর দেহ এখনই পাচ্ছেন না। কারণ, ডিএনএ রিপোর্ট হাতে আসেনি। নিরঞ্জনের কথায়, ‘এখনও অনেকেরই রিপোর্ট আসেনি।’