• 'বাবরি' মসজিদে কত টাকা দান করলেন এই তৃণমূল নেতা
    আজকাল | ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • আজকাল ওয়েবডেস্ক: মুর্শিদাবাদের রেজিনগর থানার ছেতিয়ানি এলাকায় হুমায়ুন কবীরের প্রস্তাবিত 'বাবরি' মসজিদ নির্মাণের ট্রাস্টকে এক লক্ষ এগারো হাজার টাকা দান করলেন তৃণমূল কংগ্রেসের নওদা ব্লক সভাপতি তথা মুর্শিদাবাদ জেলা পরিষদের শিক্ষা কর্মাধ্যক্ষ শফিউজ্জামান। রমজান মাসের প্রথম দিন গত ১৯ তারিখ 'ওয়েস্ট বেঙ্গল ইসলামিক ফাউন্ডেশন অফ ইন্ডিয়া'-র নামে নওদার একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের শাখায় ১ লক্ষ ১১ হাজার টাকার চেক শফিউজ্জামান জমা করেছেন বলে জানা গিয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেসের ব্লক সভাপতি হুমায়ুন কবীরের এই 'ট্রাস্টি বোর্ড'কে লক্ষাধিক টাকা দেওয়ায় নতুন করে বিতর্ক ছড়িয়েছে। 

    প্রসঙ্গত, প্রস্তাবিত বাবরি মসজিদ তৈরি করার বিষয়ে 'একগুঁয়ে' মনোভাব নিয়ে চলায় গত ডিসেম্বর মাসে ভরতপুরের তৃণমূল বিধায়ক হুমায়ুন কবীরকে দল সাসপেন্ড করে। তারপর হুমায়ুন তৃণমূলের সঙ্গে দূরত্ব তৈরি করে নিজের নতুন রাজনৈতিক দল 'জনতা উন্নয়ন পার্টি' গঠন করেন। রাজ্যে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে তাঁর দলের প্রতীকে শতাধিক আসনে লড়াই করার কথাও ঘোষণা করেছেন হুমায়ুন। এত কিছুর পরও তৃণমূলের ব্লক সভাপতি হুমায়ুনের বাবরি মসজিদ নির্মাণকল্পে কেন টাকা দিলেন তা নিয়ে অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন।

    পবিত্র কোরানের তেলাওয়াতের মাধ্যমে গত ১১ ফেব্রুয়ারি ছেতিয়ানি এলাকায় বাবরি মসজিদের মূল ফটকের ভিত ঢালাই করার মধ্য দিয়ে মসজিদ নির্মাণের কাজ শুরু হয়েছে। ইঞ্জিনিয়াররা দু'বছর সময় নিতে চলেছেন এই মসজিদের নির্মাণ কাজ শেষ করার জন্য। 

    যদিও হুমায়ুনের এই মসজিদের ট্রাস্টকে দেওয়া অনুদান রাজনীতির ঊর্ধে উঠে করেছেন বলে দাবি করেছেন নওদার ব্লক সভাপতি শফিউজ্জামান। তিনি বলেন,"বাবরি মসজিদ নির্মাণের বিষয়ে উদ্যোগী হওয়ার জন্য হুমায়ুন কবীরকে দল সাসপেন্ড করেনি। তিনি দলীয় নেতৃত্বের বিরুদ্ধে গিয়ে বিভিন্ন দল বিরোধী মন্তব্য করেছেন এবং দল বিরোধী কাজে যুক্ত ছিলেন। সেই কারণে দল তাঁকে সাসপেন্ড করেছে।" 

    শফিউজ্জামান আরও বলেন,"একজন মুসলিম হিসেবে আমার মসজিদ নির্মাণে দান করার সম্পূর্ণ অধিকার রয়েছে। রাজনীতির ঊর্ধ্বে উঠে আমি এই মসজিদের নির্মাণের জন্য দান করেছি।"

     যদিও হুমায়ুন ঘনিষ্ঠ একাধিক জনতা উন্নয়ন পার্টির নেতা দাবি করেছেন, সাম্প্রতিক সময়ে কয়েকটি জনসভায় গিয়ে তৃণমূলের নওদা ব্লক সভাপতি হুমায়ুন কবীরের প্রস্তাবিত বাবরি মসজিদ নিয়ে একাধিক 'বিরূপ' মন্তব্য করেছিলেন। সামাজিক মাধ্যমে সেই সমস্ত মন্তব্যের ভিডিও ভাইরাল হয়ে যাওয়ার পর জেলার সংখ্যালঘু সমাজের মধ্যে শফিউজ্জামানকে নিয়ে বিরূপ প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়। জনতা উন্নয়ন পার্টির নেতাদের বক্তব্য, নিজের করা 'ড্যামেজ' ঢাকতেই মসজিদ নির্মাণকল্পে রমজান মাসের প্রথম দিন ওই তৃণমূল নেতা লক্ষাধিক টাকা দান করেছেন। 

    গত কয়েকদিন আগেও তৃণমূল কংগ্রেসের বহরমপুর সাংগঠনিক জেলার চেয়ারম্যান তথা হরিহরপাড়ার বিধায়ক নিয়ামত শেখও হুমায়ুন কবীরের বাবরি মসজিদ নির্মাণের মধ্যে কোনও অন্যায় দেখতে পাননি। তিনি হুমায়ুনকে সমর্থন জানিয়েছিলেন। অন্যদিকে, মসজিদের ট্রাস্টে শফিউজ্জামানের টাকা দেওয়া প্রসঙ্গে মন্তব্য করতে গিয়ে জনতা উন্নয়ন পার্টির চেয়ারম্যান হুমায়ুন কবীর বলেন, " কিছুদিন আগে ওই ব্যক্তি প্রকাশ্যে বলে বেড়াচ্ছিলেন বাবরি মসজিদ হতে দেব না। সবরকম ভাবে বিরোধিতা করব। এরপর উনি যে গ্রামে বাস করেন সেখানকার লোকেরা তাঁকে 'হুমকি' দিতে থাকেন। বাড়ির পাশের লোকেদের 'হুক' খেয়ে উনি মসজিদের ট্রাস্টে টাকা দিয়েছেন। আমি বা ট্রাস্টের লোকেরা কেউ তাঁর কাছে টাকা চাইতে যাইনি। উনি যে বাবরি মসজিদের বিরোধী নন, তা প্রমাণ করার জন্যই এই টাকা দিয়েছেন।"
  • Link to this news (আজকাল)