আজকাল ওয়েবডেস্ক: অবশেষে দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান হতে চলেছে। আনন্দপুরের ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ হারানোদের পরিবারের কাছে। শনাক্ত হওয়া ১৮ জনের বাড়ির সদস্যরা শনিবার সকাল থেকেই নরেন্দ্রপুর থানায় এসে পৌঁছেছেন। সমস্ত আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পর তাঁরা সেখান থেকে যাবেন কলকাতার কাঁটাপুকুর মর্গে। সেখানেই তাঁদের হাতে তুলে দেওয়া হবে প্রিয়জনদের দেহাংশ। প্রিয়জনের অবশিষ্টটুকু পাওয়ার জন্য প্রায় এক মাস ধরে অপেক্ষা করে আছেন তাঁরা।
শনিবার সকাল থেকেই থানার বাইরে অপেক্ষা করছেন পরিবারের সদস্যরা। কারও মুখে কথা নেই, কারও চোখে অশ্রু জমে আছে নিঃশব্দে। কেউ বাড়ি থেকে বেরিয়েছেন সকাল সাড়ে ৬টায়, কেউ বা ৭টার মধ্যেই পৌঁছে গিয়েছেন, শুধু প্রিয়জনের শেষ চিহ্নটুকু ফিরে পাওয়ার আশায়। শোক, হতাশা আর দীর্ঘ প্রতীক্ষার ভার যেন স্পষ্ট তাঁদের মুখে।
উল্লেখ্য, গত ২৬ জানুয়ারি ভোর রাতে আনন্দপুরের নাজিরাবাদ এলাকায় ঘটে যায় এক মর্মান্তিক অগ্নিকাণ্ড। আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে যায় পাশাপাশি থাকা দু’টি গুদাম, একটি মোমো প্রস্তুতকারী সংস্থার এবং অন্যটি একটি ডেকোরেটরস কোম্পানির। আগুন নেভানোর পর ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার হয় মোট ২৭ জনের দেহাংশ। এতটাই ভয়াবহ ছিল আগুনের তীব্রতা যে, অধিকাংশ দেহ সম্পূর্ণভাবে পুড়ে যাওয়ায় পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।
পরবর্তীতে দেহাংশগুলির ডিএনএ পরীক্ষা করা হয়। সেই পরীক্ষার ভিত্তিতেই ইতিমধ্যে ১৮ জনের পরিচয় নিশ্চিত করা সম্ভব হয়েছে। আজ তাঁদের পরিবারের সদস্যদের হাতে তুলে দেওয়া হবে সেই দেহাবশেষ। প্রায় এক মাসের দীর্ঘ অনিশ্চয়তা, যন্ত্রণার পর অবশেষে প্রিয়জনের শেষ চিহ্নটুকু ফিরে পাওয়ার মুহূর্ত, কিন্তু তাতে শোকের ভার যেন আরও গভীর হয়ে উঠেছে।
যাদের দেহাংশ তুলে দেওয়া হবে তারা হলেন- ১) কার্তিক জানা বাড়ি নন্দকুমার, ২) নান্টু খাড়া, বাড়ি সুতাহাটা, ৩) সুব্রত খাড়া বাড়ি সুতাহাটা, ৪) প্রসেনজিৎ ঘড়া বাড়ি পাঁশকুড়া, ৫) সন্দীপ কুমার মাইতি বাড়ি নন্দকুমার, ৬) কৃষ্ণেন্দু ধারা বাড়ি পিংলা, ৭) গুরুপদ সাউ বাড়ি তমলুক ৮) বাসুদেব হালদার বাড়ি দক্ষিণ ২৪ পরগনা ৯) বাসুদেব বেরা বাড়ি পাঁশকুড়া ১০) বুদ্ধদেব জানা বাড়ি ময়না ১১) বিশ্বজিৎ সাউ বাড়ি পিংলা ১২) ক্ষুদিরাম দিন্দা বাড়ি তমলুক ১৩) শশাঙ্ক জানা বাড়ি তমলুক, ১৪) বিমল মাইতি বাড়ি তমলুক , ১৫) জয়দেব মাঝে বাড়ি পাঁশকুড়া, ১৬) রামকৃষ্ণ মন্ডল বাড়ি তমলুক, ১৭) সুজিত সিং বাড়ি নন্দকুমার ১৮) তপন কুমার দোলুই বাড়ি পাঁশকুড়া।