• ট্যারিফ বাতিলের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বিবৃতি জারি নয়াদিল্লির, কী বলল কেন্দ্র?
    এই সময় | ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • বড় ধাক্কা খেয়েছেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (American President Donald Trump)। তাঁর সাধের ট্যারিফকে (Tariff) ‘বেআইনি’ ঘোষণা করে দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। ফলে জরুরি ভিত্তিতে আরোপ করা অতিরিক্ত ট্যারিফ এবং রেসিপ্রোকাল ট্যারিফ, দু’টিই আপাতত বাতিল হয়ে গিয়েছে। এর ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বিবৃতি জারি করল কেন্দ্রীয় বাণিজ্য মন্ত্রক (Central Government) বলল, ‘রায়ের কী প্রভাব পড়তে পারে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।’

    ভারতীয় পণ্যে দুই দফায় ৫০ শতাংশ ট্যারিফ চাপিয়েছিলেন ট্রাম্প। দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তির ‘শর্তে’ তা ১৮ শতাংশে নেমে আসে। কিন্তু গতকাল অর্থাৎ শুক্রবার ট্যারিফকে ‘সম্পূর্ণ বেআইনি’ বলে রায় দিয়েছে আমেরিকার সুপ্রিম কোর্ট। ফলে জরুরি ভিত্তিতে আরোপ করা বাড়তি ট্যারিফ এবং রেসিপ্রোকাল ট্যারিফ, দু’টিই আপাতত বাতিল হয়ে গিয়েছে।

    তবে ট্রাম্প চুপ করে বসে থাকেননি। এর পাল্টা বিদেশি পণ্যের উপরে নতুন করে ১০ শতাংশ ট্যারিফ চাপিয়ে দিয়েছেন তিনি। ২৪ ফেব্রুয়ারি মধ্যরাত থেকে এই শুল্ক কার্যকর হবে। তবে এর সময়সীমা রয়েছে। ১৫০ দিন (Trade Act of 1974 – Section 122-এর আওতায় বাণিজ্য ঘাটতি বা আমদানির ফলে অর্থনীতিতে চাপ পড়লে সাময়িক ভাবে আরোপ করা হয়) এই ট্যারিফ দিতে হবে দেশগুলিকে। ভারতীয় পণ্যেও আপাতত ১০ শতাংশ অতিরিক্ত ট্যারিফ দিতে হবে জানিয়েছেন বাণিজ্য বিশেষজ্ঞদের একাংশ।

    এই পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় সরকার গোটা বিষয়ের উপরে নজর রাখছে বলে জানিয়ে সংক্ষিপ্ত বিবৃতি জারি করেছে কেন্দ্রীয় বাণিজ্য মন্ত্রক। তাতে বলা হয়েছে, ‘গতকাল ট্যারিফ নিয়ে আমেরিকার সুপ্রিম কোর্ট যে রায় দিয়েছে, তা আমরা দেখেছি। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একটি সাংবাদিক বৈঠকও করেছেন। ট্রাম্প প্রশাসনের তরফে কিছু পদক্ষেপের ঘোষণা হয়েছে। এর কী প্রভাব পড়তে পারে তা পর্যালোচনা করে দেখা হচ্ছে।’

    উল্লেখ্য, জাতীয় জরুরি আইনের ক্ষমতাবলে ট্যারিফ আরোপ করেছিলেন ট্রাম্প। আমেরিকার শীর্ষ আদালতের প্রধান বিচারপতি জন রবার্টস বলেন, ‘ট্যারিফ চাপানোর ক্ষেত্রে নিজের ক্ষমতার সীমা ছাড়িয়ে গিয়েছেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট।’ প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে ৯ বিচারপতির বেঞ্চে ট্যারিফ নিয়ে মামলা চলছিল। এ দিন ৬ জন বিচারপতি ট্যারিফ বেআইনি বলে রায় দেন। ৩ জন বিচারপতি ট্যারিফের পক্ষে ছিলেন।

    ট্যারিফের বিরুদ্ধে ব্যাবসায়ী এবং ১২টি ডেমোক্র্যাট-শাসিত প্রদেশের গভর্নররা প্রথমে নিম্ন আদালতে মামলা করেন। সেই সময়ে আদালতের পর্যবেক্ষণ ছিল, ট্রাম্প তাঁর জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতাকে কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন দেশের উপরে ট্যারিফ আরোপ করতে গিয়ে নিজের অধিকারের সীমা অতিক্রম করে গিয়েছেন। নিম্ন আদালতই ট্যারিফকে বেআইনি বলে রায় দিয়েছিল। ফেডেরাল সার্কিটের আপিল আদালত সেই রায়ই বহাল রাখে। সেই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টে যায় ট্রাম্প প্রশাসন। সেখানেও ধাক্কা খেতে হয়েছে ট্রাম্পকে।

  • Link to this news (এই সময়)