• পথেই তৃণমূলের সাথী হলেন প্রতীক, ‘ডিল’ টিকিট? দলবদলের কারণ ব্যাখ্যা কমরেডের
    এই সময় | ২১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • ‘বিদ্রোহ’ ছিল দলের অভ্যন্তরে। এ বার ‘বিদ্রোহ’ বিপক্ষ দলের হয়ে রাজনীতির ময়দানে। শূন্য হয়ে যাওয়া সিপিএম টার্গেট নয়, তাঁর লক্ষ্য বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াই। শনিবার জোড়াফুলের পতাকা হাতে তুলে কমরেড প্রতীক উর বললেন, ‘এই সময়ে বিজেপির মতো ফ্যাসিস্ট শক্তির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য, বিজেপিকে আটকানোর জন্যে যে ভাবে গোটা দেশে মানুষের কণ্ঠরোধ হয়েছে, তার বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্যে সবথেকে বড় শক্তি হলো তৃণমূল কংগ্রেস।’

    নির্বাচনের পূর্বে দল বদল করার আগে অনেক নেতারই প্রাথমিক উদ্দেশ্য থাকে টিকিট পাওয়া। প্রতীকের দলবদলের জল্পনার মাঝে বেশ কিছু সিপিএম নেতাকেও বলতে শোনা যায়, কোনও একটি ‘ডিল’ করেই প্রতীক তৃণমূলে যাচ্ছেন। সেই অভিযোগের উত্তরে এ দিন প্রতীক বলেন, ‘হ্যাঁ আমার সঙ্গে ডিল হয়েছে। বিজেপিকে পশ্চিমবঙ্গের মাটিতে আটকাব, এটাই ডিল হয়েছে।’

    ‘ডিল’ শব্দটা দীর্ঘদিন ধরেই পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে ভাসিয়ে রেখেছে বাম ব্রিগেড। ২০১৬ থেকেই সিপিমের দাবি ছিল, কেন্দ্রে ক্ষমতাসীন দল বিজেপির সঙ্গে হাতে হাত মিলিয়ে চলছে তৃণমূল কংগ্রেস। পাল্টা তৃণমূল কংগ্রেসের দাবি, ২০১৯ সাল থেকে নীচু স্তরে বাম ভোট গিয়ে পড়েছে বিজেপির ভোটবাক্সে। সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক মহম্মদ সেলিমের সঙ্গে জনতা উন্নয়ন পার্টির নেতা হুমায়ুন কবীরের ‘গোপন’ বৈঠক, ওয়েলফেয়ার পার্টির সঙ্গে আলোচনা, এসডিপিআইয়ের সভায় বাম প্রতিনিধিকে পাঠানোর প্রসঙ্গ তুলে প্রতীক বললেন, ‘পরিষ্কার হয়ে গিয়েছে, কে কোন ডিল করেছে।’

    তৃণমূলে যোগদানে পরে আগামী বিধানসভা নির্বাচনে প্রতীক দক্ষিণ ২৪ পরগনার কোনও আসন থেকে জোড়াফুল চিহ্নে লড়বেন এই রকম খবর রটেছে সংবাদমাধ্যমে। কয়েকটি বিধানসভা কেন্দ্রের নামও উঠে এসেছে। তৃণমূলের যোগদানের আগে আমতলার দলীয় কার্যালয়ে সৰ্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে প্রতীক একপ্রস্থ বৈঠক করেন। সেখানেই কি নির্বাচনে টিকিট পাওয়ার বিষয়টি পাকা করে নেন প্রতীক? তৃণমূল সাংসদ অভিষেকের উত্তর, ‘প্রতীক উর আমায় নিজে এসে বলেছেন, দল যদি আমায় টিকিট দেয়, আমি টিকিট নেব না।… আমি সংগঠনের কাজ করব। আজকের দিনে ক'জনকে পাওয়া যাবে, যিনি রাজনীতিতে কিছু চাওয়া-পাওয়ার জন্যে আসেননি।’

    ‘প্রশ্নহীন আনুগত্য’ সহ্য করতে না পেরেই রাজনীতির ময়দানে ‘শত্রু শিবিরে’ পা বাড়িয়েছেন, এমনটাই দাবি করেছেন প্রতীক। তবে ‘বিদ্রোহী’দের তালিকায় তিনি যে কেবল একা নন, সেই কথাও স্পষ্ট করে দিয়েছেন দলত্যাগী বাম নেতা। প্রাক্তন দলের ‘কর্পোরেট কালচার’-এর বিরুদ্ধে তিনি হয়তো ‘হুইসেল ব্লোয়ার’, কিন্তু তালিকা আরও দীর্ঘ সেই কথাও এ দিন শোনা যায় প্রতীকের মুখে। তাঁর বক্তব্য, ‘দলে দমবন্ধ করা পরিস্থিতির মধ্যে অনেকেই মুখ খোলা শুরু করেছেন। আমি রাজপ্রাসাদের বাইরে দাঁড়িয়ে জিজ্ঞাসা করেছি, রাজা একটু থামুন! ওই প্রাসাদের মধ্যে ঘুমন্ত শিশু জেগে উঠেছে, প্রশ্ন করবে, ‘রাজা তোর কাপড় কোথায়?’

    মাটি কামড়ে লড়ে যাওয়ার ‘প্রতীক’ কি ‘শিশুসুলভ’ সিদ্ধান্ত নিলেন? নাকি আমতলার তৃণমূল পার্টি অফিসের সামনের রাস্তায় জোড়াফুলের পতাকা হাতে তুলে নেওয়া কমরেড এ বার নতুন সংগ্রামী রাজপ্রাসাদ তৈরি করবেন, তার জবাব দেবে সেই রাজনীতি। অর্থাৎ, সম্ভাবনার খেলা।

  • Link to this news (এই সময়)