২১ ফেব্রুয়ারি, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে চলতি বছরের বঙ্গসম্মানের (Banga Samman) তালিকা প্রকাশ করল পশ্চিমবঙ্গ সরকারের তথ্য ও সংস্কৃতি বিভাগ। সিনেদুনিয়ায় অবদানের জন্য ছাব্বিশ সালে বঙ্গভূষণ সম্মান পাচ্ছেন পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়। অভিনেতা বর্তমানে বাংলা সিনেপাড়ার গণ্ডি পেরিয়ে হিন্দি ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতেও কাজ করছেন। অভিনয়ের পাশাপাশি পরিচালক হিসেবেও নিজের দক্ষতা প্রমাণ করেছেন পরমব্রত। আর সেই প্রেক্ষিতেই চলতিবারে বঙ্গসম্মানে ভূষিত করা হচ্ছে তাঁকে।
অন্যদিকে গানের জগতে অসামান্য অবদানের জন্য বঙ্গবিভূষণ পাচ্ছেন সঙ্গীতশিল্পী শ্রীরাধা বন্দ্যোপাধ্যায়, নচিকতা চক্রবর্তী, লোপামুদ্রা মিত্র, বাবুল সুপ্রিয়রা। তালিকায় নাম রয়েছে চিত্রশিল্পী গণেশ হালুই এবং কবি শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়েরও। পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়ের পাশাপাশি চলতিবারে বঙ্গভূষণ সম্মান পাচ্ছেন গায়ক মনোময় ভট্টাচার্য, রাঘব চট্টোপাধ্যায়, রূপঙ্কর বাগচীরা। সংশ্লিষ্ট তালিকায় কার্তিক দাস বাউল এবং অদিতি মুন্সীর নামও রয়েছে।
বঙ্গবিভূষণে সম্মানিত ইমন চক্রবর্তীর মন্তব্য, “আমি দিদির কাছে আজীবন কৃতজ্ঞ থাকব। রাজ্যের শ্রেষ্ঠ সম্মান দেওয়ার জন্য। বাংলা গানের, বাংলা ভাষার জয় হোক।” বঙ্গসম্মানে সম্মানিত হয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ধন্যবাদ জানিয়ে পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়ের মন্তব্য, “ভালো লাগছে। বাংলার দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সম্মান। সেটা ২১ ফেব্রুয়ারিতে পেয়ে আরও বেশি ভালো লাগছে। এই পুরস্কার আমার কাছে যে বিশেষ সম্মান, সেব্যাপারে কোনও সন্দেহ নেই। আমি যে আদ্যোপান্ত বিশ্ব নাগরিক, বিশ্বের যে কোনও জায়গায় একইরকমভাবে স্বচ্ছন্দ, সেটা আমার ঘনিষ্ঠরা সকলেই ভালো জানেন, তবে আমার প্রাথমিক পরিচয় আমি বাঙালি। তাই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তরফে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে বঙ্গসম্মান পেয়ে আমি আপ্লুত।” সম্প্রতি ফেডারেশনের সঙ্গে মতবিরোধের কারণে বারবার চর্চার শিরোনামে থেকেছেন পরমব্রত চট্টোপাধ্যায়। বিতর্কের আগুন যখন প্রায় নিভু নিভু, ঠিক সেসময়ে কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের মঞ্চে দেখা মেলে অভিনেতা-পরিচালকের। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জুন মালিয়ার সঙ্গে জুটিতে সঞ্চালনা করতে দেখা যায় পরমব্রতকে। সম্প্রতি এক ভিডিও বার্তায় অভিনেতা জানান, ফেডারেশনের বিরুদ্ধে আইনি পথে হাঁটা তাঁর ‘হঠকারী সিদ্ধান্ত’ ছিল। এবার অভিনেতা-পরিচালকের বঙ্গসম্মান প্রাপ্তিতে অনেকেই সেকথা মনে করিয়ে দিয়েছেন।
বঙ্গবিভূষণে ভূষিত হয়ে আপ্লুত লোপামুদ্রা মিত্রও। উচ্ছ্বসিত কণ্ঠে সংবাদ প্রতিদিন ডিজিটালকে গায়িকা জানালেন, “আমাদের রাজ্যের সর্ব্বোচ্চ সম্মান বঙ্গবিভূষণ। আগে বঙ্গভূষণও পেয়েছি। আমি অত্যন্ত সম্মানিত। বাংলা ভাষার দিনে যেন বাংলা ভাষার জায়গাটা রাখতে পারি, এটুকুই বলার।”