• এসআইআর-এর চাপে গঙ্গায় ঝাঁপ বিএলও-র‌
    আজকাল | ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • আজকাল ওয়েবডেস্ক: অতিরিক্ত কাজের চাপ। সময়মতো শেষ হয়নি সেই কাজ। মানসিক চাপে গঙ্গায় ঝাঁপ দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা এক বিএলও-র। যে ঘটনায় আবারও শোরগোল ছড়িয়েছে এলাকায়। 

    জানা গেছে, ঘটনাটি ঘটেছে হুগলির শ্রীরামপুরে। ওই বিএলও-র নাম, মহম্মদ কায়ামুদ্দিন। উত্তর ২৪ পরগনার টিটাগড়ের বাসিন্দা তিনি‌। পেশায় এক স্কুলের শিক্ষক। আজ, শনিবার তিনি টিটাগড় থেকে শ্রীরামপুরে গিয়েছিলেন। ফেরিঘাট থেকে লঞ্চে উঠেছিলেন। মাঝ নদীতে আসার পরেই হঠাৎ সেই লঞ্চ থেকে গঙ্গায় ঝাঁপ দেন তিনি। 

    সঙ্গে সঙ্গে ফেরির কর্মীরা তাঁকে বাঁচানোর জন্য দ্রত জলে ঝাঁপ দেন। খানিকক্ষণ পরেই মাঝ গঙ্গা থেকে তাঁকে উদ্ধার করা হয়। বর্তমানে তাঁর শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল রয়েছে। লঞ্চেই তাঁর সঙ্গে একটি ব্যাগ ছিল। সেই ব্যাগে এসআইআরের ফর্ম ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র রয়েছে। 

    ওই বিএলও জানিয়েছেন, এসআইআর প্রক্রিয়ার জন্য অত্যধিক কাজের চাপে মানসিকভাবে বিধ্বস্ত হয়ে পড়েছিলেন। অনেক তথ্য, পরিসংখ্যান আপলোড করা বাকি ছিল। অল্প কয়েকদিনের মধ্যেই কাজ শেষ করতে পারবেন না বলে আতঙ্কে ভুগছিলেন। এসআইআর চাপের জন্যেই আত্যমহত্যার পথ বেছে নিয়েছিলেন। 

    চলতি মাসেই এমন আরেকটি ঘটনা ঘটেছিল। স্কুলের মধ্যেই গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন এক বিএলও। ঘটনাটি ঘটেছিল উত্তর ২৪ পরগণার বাগদা থানার পাথুরিয়া প্রাইমারি স্কুলে। ওই বিএলও'র নাম, সরজিত হালদার। ওই স্কুলেই শিক্ষকতা করেন। বাড়ি বাগদা থানার পারমাদন এলাকায়। 

    গ্রামবাসীরা দেখতে পেয়ে তাঁকে উদ্ধার করে বনগাঁ মহাকুমা হাসপাতালে ভর্তি করেন৷ কী কারণে আত্মহত্যার চেষ্টা করলেন, সেবিষয়ে তদন্ত শুরু হয়েছে। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, তিনি বাগদা ৩০ নম্বর পার্টের বিএলও ছিলেন৷ পরিবারের দাবি, অতিরিক্ত কাজের চাপে তিনি আত্মহত্যার চেষ্টা করে থাকতে পারেন ৷

    রাজ্যে এসআইআর চালু হওয়ার পর থেকেই বিভিন্ন জায়গা থেকে মৃত্যুর খবর পাওয়া যাচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রেই অভিযোগ উঠেছে অত্যাধিক কাজের চাপের ফলে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন বিএলও-রা। সেরকম ভাবেই কাজের চাপ সহ্য করতে না পেরে মানসিক দুশ্চিন্তায় এই বিএলও আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। 

    সোমবার সকালে এক ছাত্রের অভিভাবক স্কুলে একটি প্রয়োজনে গিয়ে দেখেন স্কুলেরই একটি ঘরের সিলিং ফ্যান থেকে ঝুলে রয়েছেন শিক্ষক সরজিত হালদার। সঙ্গে সঙ্গে স্থানীয় লোকজনকে ডেকে তাঁকে নামিয়ে বনগাঁ মহকুমা সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। বর্তমানে তিনি কিছুটা সুস্থ আছেন বলে জানা গিয়েছে। 

    স্থানীয় বাগদা থানার পুলিশ তদন্ত করে দেখছে ঘটনাটি। তাঁর স্ত্রী-র অভিযোগ, এসআইআর তালিকা বেরনোর পর ভবিষ্যতে তাঁর উপর চাপ তৈরি হতে পারে সেকথা ভেবেই তিনি কয়েকদিন থেকে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছিলেন। তাঁকে বোঝানোর চেষ্টা করা হয়েছিল। 

    এদিন খবর পেয়ে বনগাঁ মহকুমা হাসপাতালে ছুটে আসেন পরিবারের সদস্যরা। বিএলও'র আত্মীয়া বিশাখা বিশ্বাস বলেন, বাড়িতে কোনও অশান্তি ছিল না ৷ বিএলও হওয়ার পর থেকেই একটা চাপা আতঙ্কের মধ্যে থাকতেন। সে কারণেই আত্মহত্যা করতে পারেন। 

    স্কুলের প্রধান শিক্ষক দিলীপ পালা বলেন, 'চুপচাপ থাকতেন। এখন খুব বেশি কথা বলতেন না। কিন্তু কী কারণে আত্মহত্যা করলেন স্কুলের মধ্যে, তা বুঝতে পারছি না৷ আমরা হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে ভর্তি করেছি।' 

    বাগদা পশ্চিম ব্লক তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতি নিউটন বালা বলেন, 'পারমাদনের বাসিন্দা শিক্ষক সরজিত হালদার-কে নিজের বাড়ির বুথের কাজ না দিয়ে বাগদা বিধানসভার ৩০ নম্বর বুথের বিএলও হিসেবে কাজের দায়িত্ব দিয়েছিল নির্বাচন কমিশন। স্বভাবতই অপরিচিত অঞ্চলে কাজের দায়িত্ব পেয়ে প্রথম থেকেই দুশ্চিন্তায় ছিলেন। সেই সঙ্গে ছিল কাজের চাপ। বিএলও-রা বেয়ারা হিসেবে কাজ করছেন। ফটো তোলা এবং ফটো পাঠিয়ে দেওয়াই তাঁদের কাজ। এঁদের কোনও গাফিলতি নেই। এসআইআর লিস্ট বেরোনোর পর যদি কোনও উল্টোপাল্টা হয়, তার দায়ভার বিজেপি এবং বিজেপি পরিচালিত নির্বাচন কমিশনকে দিতে হবে। এদেরকে ছাড়া হবে না। মানুষ এর জবাব দেবেন।'
  • Link to this news (আজকাল)