• ভোটারদের ভবিষ্যৎ এবার বিচারকদের হাতেই!
    আজকাল | ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • আজকাল ওয়েবডেস্ক: পশ্চিমবঙ্গে বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়া  নভেম্বরে ২০২৫ থেকে শুরু হওয়ার পর থেকেই রাজ্যে রাজনৈতিক টানাপোড়েনের পাশাপাশি প্রশাসনিক জট তৈরি হয়। শেষে দেশের শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হতে হয় রাজ্য সরকারকে। সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানে তিনি সাওয়াল জবাব পর্যন্ত করেন এই এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে। অবশেষে দেশের সুপ্রিমকোর্টের বিধান অনুযায়ী দেশের নির্বাচন কমিশনকে পশ্চিমবঙ্গের এস আই আর প্রক্রিয়া নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হয়। বলা বাহুল্য দেশের সর্বোচ্চ আদালতের হস্তক্ষেপেই রাজ্যের বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ার সিদ্ধান্ত হয়। আর সেই নির্দেশ অনুযায়ী রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক কলকাতা হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতির সঙ্গে আজ দুপুর বেলা দুটোর সময় বৈঠক শেষে একাধিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ হয়। মূলত সিদ্ধান্ত গ্রহণ হয়, রাজ্যে 'লজিক্যাল ডিসক্রিপেন্সি' তালিকা নিয়ে যে গোলযোগ তার নিষ্পত্তির কারণে।

     সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অনুযায়ী এবং আজ হাই ভোল্টেজ বৈঠকের পর সিদ্ধান্তে আজ রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক দপ্তর জানিয়েছে --

    রাজ্যে জেলাভিত্তিক ২৯৪ টা বিধানসভা কেন্দ্রে  অ্যাডিশনাল ডিস্ট্রিক্ট জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট এবং ডিস্ট্রিক্ট জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (ADJM ও DJM) প্রতিটি বিধানসভায় নিষ্পত্তি কেন্দ্রে সিসিটিভি আওতায় কাজের নিষ্পত্তি হবে। 

    তবে নির্বাচন কমিশন আরও জানিয়েছে, আজ রাত বারোটা পর্যন্ত ঝাড়াই-বাছাই পর্বে লজিক্যাল ডিস্ক্রিপেন্সি তালিকা এক কোটি কুড়ি লাখ নয়, ৪৫-৫০ লক্ষ পরিমাণ ভোটার তালিকা প্রতিটি বিধানসভা কেন্দ্রে ঝাড়াই বাছাই হবে। কাজ হবে আজ ২১ ফেব্রুয়ারি রাত বারোটা পর্যন্ত। এবং তারপরেই সিদ্ধান্ত হবে এই ৪৫-৫০ লক্ষের মধ্যে কতজনের নামের তালিকা তৈরি হয়ে নিষ্পত্তি কেন্দ্রে স্কুটিনির জন্য যাবে।

     আগামীকাল সকালে জেলাভিত্তিকভাবে প্রতিটা বিধানসভা কেন্দ্র থেকে সেই তালিকা চলে যাবে হাইকোর্টে ও রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক দপ্তরে। সেখান থেকে এই তালিকা বিধানসভা কেন্দ্র ভিত্তিক (ADJM ও DJM) বিচারকদের মাধ্যমে নিষ্পত্তি হবে স্কুটিনির মাধ্যমে। তাদের সঙ্গে সহযোগিতায় কাজ করবেন মাইক্রো অবজারভার ও রাজ্য সরকারের কর্মীরা ৫০-৫০ শতাংশের ভিত্তিতে। 

     নির্বাচন কমিশন সূত্রে আরও খবর, এই ডকুমেন্ট এমনও রয়েছে যাদের তথ্য ঠিক নেই, অযোগ্য। যেমন - ম্যাট্রিকুলেশন সার্টিফিকেট তথ্য ঠিক নেই, ব্ল্যাঙ্ক ডকুমেন্ট, no admissible, SIR projeni-তে তথ্য যেখানে বাবা-মা এর তথ্য নেই, কোথাও জন্ম তারিখ আলাদা, এরকম ডকুমেন্ট গুলোই যাচাইয়ের আওতায় পড়বে।

    আর আগামীকাল স্পষ্ট হবে মূলত কতজনের নামের তালিকা নিষ্পত্তি কেন্দ্রে স্কুটিনি হবে। এবং সেই ভিত্তিতেই তালিকা তৈরির পর আগামী আটাশে ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ হবে। আজ রাত বারোটা পর্যন্ত যে ছাড়াই-বাছাই পর্ব চলবে সেখানে ইআরও ও এইআরও দের তত্ত্বাবধানে সমস্ত কাজ সম্পন্ন হবে। এরপর তাদের আর কোনো ভূমিকা থাকবে না বলেই নির্বাচন কমিশন সূত্রে খবর।  সিসিটিভি র নজরদারিতে স্কুটিনির কাজ করবেন বিধানসভা ভিত্তিক   (ADJM ও DJM ) জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট।
  • Link to this news (আজকাল)