• বিশ্বভারতীতে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালন
    আজকাল | ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • আজকাল ওয়েবডেস্ক: আন্তর্জাতিক বাংলাদেশ ভবনকে হেরিটেজ ওয়াক-এর মধ্যে রাখার পরিকল্পনা রয়েছে আগামী ভবিষ্যতে। তবে সবটাই নির্ভর করছে ভারত ও বাংলাদেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের উন্নতির ওপর। আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উদযাপন শেষে এমনটাই জানালেন বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রবীরকুমার ঘোষ।

    শনিবার আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে আবেগঘন পরিবেশের সাক্ষী থাকল বিশ্বভারতী। প্রতিবছরের মতো এ বছরও স্থানীয় ও বাংলাদেশি পড়ুয়াদের উদ্যোগে যথাযথ মর্যাদায় দিনটি পালিত হয়। সকাল থেকেই শান্তিনিকেতনে উৎসবের আমেজ দেখা যায়। পূরবী গেট থেকে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা বের হয়। 'আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি, আমি কি ভুলিতে পারি' গান গাইতে গাইতে ছাত্রছাত্রীরা এগিয়ে যান আন্তর্জাতিক বাংলাদেশ ভবনের উদ্দেশ্যে। প্রায় পাঁচশোরও বেশি পড়ুয়া, গবেষক, অধ্যাপক ও কর্মী এই শোভাযাত্রায় অংশ নেন বলে বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গিয়েছে। শোভাযাত্রার আবেগে মুখর হয়ে ওঠে আশপাশের পরিবেশ।

    শোভাযাত্রা শেষে আন্তর্জাতিক বাংলাদেশ ভবনে মূল অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সেখানে শহিদ বেদীতে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ করে ভাষা শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়। উপাচার্য প্রবীরকুমার ঘোষ-সহ বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যান্য আধিকারিক ও শিক্ষকরা উপস্থিত ছিলেন। পাঠভবন, শিক্ষাসত্র, সংগীত ভবন এবং কলাভবনের পড়ুয়ারা রবীন্দ্রসংগীত ও মাতৃভাষাভিত্তিক অন্যান্য গান পরিবেশন করেন। বাংলা ভাষার পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের ছাত্রছাত্রীরাও নিজেদের মাতৃভাষায় পরিবেশনার প্রস্তুতি নেন। সন্ধ্যা সাড়ে ছটার অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ, থাইল্যান্ড, শ্রীলঙ্কা সহ বিভিন্ন দেশ থেকে আগত শিক্ষার্থীরা নিজেদের সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মাধ্যমে মাতৃভাষার বৈচিত্র্য তুলে ধরেন বলে জানা যায়।

    অনুষ্ঠান শেষে উপাচার্য হেরিটেজ ওয়াক প্রসঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেন। ইউনেস্কোর ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইটের স্বীকৃতি পাওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহ্যকে সুশৃঙ্খলভাবে দর্শনার্থীদের সামনে তুলে ধরতে হেরিটেজ ওয়াক শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যেই দেশ-বিদেশের পর্যটকদের কাছে তা জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ঐতিহাসিক ভবন, গুরুদেব রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্মৃতিবিজড়িত স্থান ও শিক্ষাঙ্গন এই হেরিটেজ ওয়াকের অন্তর্ভুক্ত। ভবিষ্যতে আন্তর্জাতিক বাংলাদেশ ভবনকেও এই পরিক্রমার মধ্যে আনার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান তিনি। তবে সেই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হবে কি না, তা নির্ভর করছে ভারত ও বাংলাদেশের পারস্পরিক সম্পর্কের ওপর। প্রশাসনিক অনুমতি ও কূটনৈতিক পরিস্থিতি অনুকূল হলে তবেই এই উদ্যোগ এগোবে।

    উল্লেখ্য, প্রায় ৭৫ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত আন্তর্জাতিক বাংলাদেশ ভবন ইতিমধ্যেই একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামো হিসেবে পরিচিত। ভাষা ও সংস্কৃতির মেলবন্ধনের ক্ষেত্রে এই ভবনের তাৎপর্য বিশেষ। উপাচার্য জানান, আপাতত বিষয়টি প্রাথমিক স্তরে রয়েছে এবং সময় নিয়ে পর্যবেক্ষণ করা হবে। সম্পর্ক উন্নত হলে ভবিষ্যতে দর্শনার্থীদের জন্য এই ভবন উন্মুক্ত করার বিষয়ে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।

    অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে বাংলাদেশ ভবন প্রাঙ্গণে একটি লাল চন্দনের চারা রোপণ করেন উপাচার্য প্রবীরকুমার ঘোষ। মাতৃভাষা দিবসের তাৎপর্যকে স্মরণীয় করে রাখতেই এই বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি বলে জানা যায়। ভাষা শহিদদের স্মরণ, মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষা এবং আন্তর্জাতিক সাংস্কৃতিক সম্পর্ক সুদৃঢ় করার বার্তা দিয়েই শেষ হয় দিনের অনুষ্ঠান।
  • Link to this news (আজকাল)