বিধান সরকার: বাম রাজনীতির একদা লড়াকু মুখ প্রতীক উর রহমানের ঘাসফুল শিবিরে যোগদান নিয়ে রাজ্য রাজনীতিতে বইছে তীব্র বিতর্কের ঝড়। দীর্ঘদিনের সতীর্থের এই আকস্মিক দলবদল নিয়ে এবার মুখ খুললেন সিপিআইএমের রাজ্য রাজনীতির অন্যতম কাণ্ডারি মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায়। কোন্নগরের সভা থেকে তাঁর সেই প্রতিক্রিয়ায় যেমন ধরা পড়ল ব্যক্তিগত বিষাদ, তেমনই ফুটে উঠল রাজনৈতিক লড়াইয়ের ঝাঁঝালো মেজাজ।
শনিবার কোন্নগর মাস্টার পাড়ায় সিপিআইএমের গণ অর্থ সংগ্রহ কর্মসূচিতে যোগ দিতে এসে মীনাক্ষী মুখোপাধ্যায় সোজাসুজি বিঁধলেন তাঁর একদা 'কমরেড' প্রতীক উরকে। মীনাক্ষী বলেন, "কমরেড প্রতীক উর আর আমি একসঙ্গে পুলিসের ব্যারিকেডের এপারে দাঁড়িয়ে মার খেয়েছি। চাকরির দাবি আর দুর্নীতির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে ও আমাদের একজন কর্মী ছিল।" তবে সতীর্থের এই পদক্ষেপে তিনি যে ব্যক্তিগতভাবে ব্যথিত, তাও স্পষ্ট করে দিয়ে বলেন, প্রতীককে নিয়ে কথা বলার মতো মানসিক অবস্থা তাঁর নেই।
মীনাক্ষীর মতে, ব্যক্তি প্রতীক উর চলে গেলেও লড়াই থামবে না। যারা আজও জান কবুল করে লাল ঝান্ডা হাতে দুর্নীতি আর গুন্ডারাজের বিরুদ্ধে লড়ছে, তারাই দলের প্রকৃত সম্পদ। প্রতীকের দাবি ছিল বিজেপিকে রুখতে তৃণমূলই একমাত্র ভরসা। এর পাল্টা মীনাক্ষী তোপ দাগেন, "বিজেপিকে হাত ধরে টেনে বাংলার জল-হাওয়ায় পুষ্ট করেছে এই তৃণমূলই। বাম জমানায় এদের দাঁত ফোটানোর ক্ষমতা ছিল না।"
মীনাক্ষী সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতি বাঁচানোর লড়াইয়ে এক ইঞ্চি জমিও তাঁরা ছাড়বেন না। একের পর এক তরুণ মুখ লাল ঝান্ডা হাতে লড়াইয়ে শামিল হচ্ছে এবং আগামীর লড়াইয়ে তারাই হবে তুরুপের তাস।