ভোটের আগেই কমিশনের প্রস্তুতি! রাজ্যে ৪৮০ কোম্পানি আধাসেনা
দৈনিক স্টেটসম্যান | ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
প্রশাসনিক সূত্রে জানা গিয়েছে, দুই দফায় এই বাহিনী মোতায়েন করা হবে, যার লক্ষ্য শান্তিপূর্ণ ও অবাধ নির্বাচন নিশ্চিত করা। সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রথম দফায় ১ মার্চ রাজ্যে পৌঁছবে ২৪০ কোম্পানি বাহিনী। এর মধ্যে থাকবে ১১০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় রিজার্ভ পুলিশ বাহিনী, ৫৫ কোম্পানি সীমান্ত নিরাপত্তা বাহিনী, ২১ কোম্পানি কেন্দ্রীয় শিল্প নিরাপত্তা বাহিনী, ২৭ কোম্পানি ভারত-তিব্বত সীমান্ত পুলিশ এবং ২৭ কোম্পানি সশস্ত্র সীমা বল। এরপর দ্বিতীয় দফায় ১০ মার্চ আরও ২৪০ কোম্পানি বাহিনী রাজ্যে মোতায়েন করা হবে। সেই তালিকায় রয়েছে ১২০ কোম্পানি সিআরপিএফ, ৬৫ কোম্পানি বিএসএফ, ১৬ কোম্পানি সিআইএসএফ, ২০ কোম্পানি আইটিবিপি এবং ১৯ কোম্পানি এসএসবি।
এই বিপুল সংখ্যক আধাসামরিক বাহিনীর মূল দায়িত্ব থাকবে স্পর্শকাতর ও অতি স্পর্শকাতর বুথে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, নিয়মিত টহলদারি চালানো, ভোটারদের আস্থা বাড়ানো এবং ইভিএম সুরক্ষিত রাখা। নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রতি ৯ সেকশনের মধ্যে ৮ সেকশন বাহিনী বুথ নিরাপত্তা ও এলাকায় টহলদারিতে নিয়োজিত থাকবে। বাকি ১ সেকশনকে রাখা হবে ‘কুইক রেসপন্স টিম’ হিসেবে, যাতে কোনও এলাকায় অশান্তি বা বড় ধরনের গন্ডগোল দেখা দিলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া যায়।
এব্যাপারে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রক রাজ্যের মুখ্যসচিব, স্বরাষ্ট্রসচিব এবং রাজ্য পুলিশের ডিজিপির কাছে ইতিমধ্যেই একটি বিস্তারিত চিঠি পাঠিয়েছে। সেখানে বাহিনী মোতায়েনের পূর্ণাঙ্গ পরিকল্পনা জানাতে বলা হয়েছে কেন্দ্রীয় রিজার্ভ পুলিশ বাহিনীর পশ্চিমবঙ্গ সেক্টরের আইজি সঞ্জয় যাদবকে। যিনি এবারের নির্বাচনে কেন্দ্রীয় বাহিনীর সমন্বয়ের দায়িত্বে থাকবেন। একই সঙ্গে এত বিপুল সংখ্যক জওয়ানের আবাসন, পরিবহণ, নিরাপত্তা এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় পরিকাঠামোর বন্দোবস্ত করার দায়িত্ব রাজ্য প্রশাসনের ওপরই বর্তাবে বলে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নির্বাচনের প্রস্তুতি আরও জোরদার করতে আগামী সোমবার মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দপ্তরে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক ডাকা হয়েছে। বিকাল ৫ টায় এই বৈঠক শুরু হবে। উপস্থিত থাকবেন মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ কুমার আগরওয়াল, বিশেষ পর্যবেক্ষক এন কে মিশ্র, রাজ্য পুলিশের ডিজি, আইজি সিআরপিএফ, রাজ্য সিএপিএফ কো-অর্ডিনেটর, কলকাতা পুলিশের কমিশনার এবং আইন-শৃঙ্খলা বিভাগের শীর্ষ আধিকারিকরা।
প্রশাসনিক মহলের মতে, নির্বাচনের নির্ঘণ্ট ঘোষণার আগেই এই বিশাল সংখ্যক কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ পদক্ষেপ বলে মনে করা হচ্ছে। নির্বাচন কমিশনের লক্ষ্য, ভোটের সময় কোনও ধরনের অশান্তি বা অনিয়ম রোধ করে রাজ্যে অবাধ ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করা। সেজন্যই এই পদক্ষেপ বলে সূত্রের খবর।