এই সময়: দিন তিনেক আগেই উত্তরবঙ্গের এক পদ্ম-বিধায়ককে দলে টেনে গেরুয়া শিবিরকে বার্তা দিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস। শনিবার আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে রাজ্যের সর্বোচ্চ অসামরিক সম্মান বঙ্গবিভূষণ দেওয়া হলো বিজেপির রাজ্যসভার সাংসদ— নগেন্দ্র রায় ওরফে অনন্ত মহারাজকে।
মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) হাত থেকে সম্মাননা নেওয়া কোচবিহারের রাজবংশী সম্প্রদায়ের ওই নেতাকে নিয়ে জোর চর্চা শুরু হয়েছে রাজনৈতিক মহলে। অনন্ত বিষয়টিকে সরকারি অনুষ্ঠান বলে বিতর্ক এড়ানোর চেষ্টা করলেও কেন্দ্রের সমালোচনা তাঁর মনোভাব নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। এর আগেও শাসক দলের সঙ্গে তাঁর সখ্যর বিষয় সামনে এসেছিল।
বিজেপি বিষয়টিকে সে সময়ে গুরুত্ব দিতে না চাইলেও ভোটের মুখে পদ্ম-সাংসদের সঙ্গে শাসক দলের এমন রসায়ন রাজ্যের প্রধান বিরোধী দলকে বিড়ম্বনায় ফেলেছে। যে মঞ্চে অনন্ত মহারাজকে সম্মানিত করা হয়েছে, সেই মঞ্চে দাঁড়িয়ে কেন্দ্রীয় সরকার তথা বিজেপিকে এ দিন কড়া ভাষায় হুঁশিয়ারি দেন মুখ্যমন্ত্রী। তবে সে সময়ে মহারাজ মঞ্চে ছিলেন না।
এ দিন মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গেই দেশপ্রিয় পার্কের অনুষ্ঠানস্থলে ঢোকেন অনন্ত। মঞ্চে তাঁর আসনও ছিল মমতার ঠিক ডান পাশে। মুখ্যমন্ত্রী জানান, রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষের আর্থ সামাজিক উন্নয়নে বিজেপির সাংসদের প্রচেষ্টার কারণেই তাঁকে সম্মানিত করা হলো। প্রতি বছর ২১ ফেব্রুয়ারি, ভাষা দিবসে রাজ্য সরকারের তরফে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সেখানে সমাজের নানা ক্ষেত্রে অবদানের জন্য একাধিক ব্যক্তিত্বকে বঙ্গবিভূষণ এবং বঙ্গভূষণ সম্মান দেওয়া হয়।
এ বারের মঞ্চে প্রথমেই সম্মানিত করা হয় রাজ্যসভার সাংসদ কোচবিহারের অনন্ত মহারাজকে। তবে সরকারের তরফে সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া তালিকায় ২ নম্বরে রয়েছে মহারাজের নাম। সেটা অবশ্য অন্যদের মতো ছাপা অক্ষরে নয়— হাতে লেখা। প্রশ্ন উঠেছে, তা হলে কি একেবারে শেষ লগ্নে সম্মতি দেওয়ার পরে তাঁর নাম লেখা হয়েছে? এই প্রশ্নের জবাব অবশ্য কোনও পক্ষ থেকেই মেলেনি। রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষের জন্য অনন্তর কাজকর্ম এবং অবদানকে সম্মান জানাতেই রাজ্য সরকার তাঁকে বঙ্গবিভূষণ দিয়েছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী।
অনুষ্ঠান মঞ্চেও বেশিক্ষণ থাকেননি অনন্ত। সম্মান প্রদানের পালা শেষ হতেই বিমান ধরার তাড়া থাকায় চলে যান তিনি। তবে যাওয়ার আগে মমতাকে ধন্যবাদ জানান। রাজবংশী ভাষায় একটি কবিতাও পাঠ করেন। অনুষ্ঠানে বেশি কিছু না-বললেও পরে বাইরে বেরিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি। অনন্তর অভিযোগ, ‘১৯৪৭–এ ভারতে যুক্ত হয়েছিলেন রাজবংশী সম্প্রদায়ের মানুষরা। সেই থেকে এখনও বঞ্চনা, লাঞ্ছনা, তিরস্কারের শিকার হচ্ছেন রাজবংশীরা। আমি বিজেপি সাংসদ হলে কী হবে? আমাদের জন্য তো কেন্দ্র কিছু করেনি।’ উল্লেখ্য, ২০২৪–এর লোকসভা ভোটের পরে কোচবিহারে অনন্ত মহারাজের বাড়িতে গিয়ে তাঁর সঙ্গে দেখাও করেছিলেন মুখ্যমন্ত্রী।
উত্তরবঙ্গ বরাবরই বিজেপির শক্ত ঘাঁটি। বিধানসভা ভোটের আগে সেই উত্তরবঙ্গের বিধায়কের দলত্যাগ, সাংসদের সঙ্গে শাসক দলের ঘনিষ্ঠতা নানা প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে। তবে বিজেপি সরকারি ভাবে বিষয়টিকে গুরুত্ব দিতে নারাজ। রাজ্য বিজেপির প্রাক্তন সভাপতি তথা কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার বলেন, ‘রাজ্য সরকার বঙ্গবিভূষণ দিয়েছে, উনি নিয়েছেন।’ আর রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য বলেন, ‘ভালোই তো। রাজ্যসভায় তিনি আমার সহকর্মী। ভীষণ ভাল লাগছে। আমার সহকর্মী যে সম্মানই পান, আমার ভালো লাগে।’