এআই ইমপ্যাক্ট সামিটে ভারতীয় যুব কংগ্রেসের ‘শার্টবিহীন’ বিক্ষোভ নিয়ে কংগ্রেসকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করলেন সমাজবাদী পার্টির প্রধান এবং INDIA জোটের শরিক নেতা অখিলেশ যাদব। শনিবার ঝাঁসিতে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে তিনি জানান, এই ধরনের প্রতিবাদ দেশের জন্য ‘লজ্জাজনক’।
এ প্রসঙ্গে অখিলেশ বলেছেন, ‘আমাদের মধ্যে মতভেদ থাকতে পারে। গোটা দেশ জানে বিজেপি মিথ্যা বলে। কিন্তু বিদেশি প্রতিনিধিদের সামনে দেশের সম্মানহানি হয়— এমন কিছু করা থেকে বিরত থাকা উচিত ছিল।’ তিনি ইঙ্গিত দেন, আন্তর্জাতিক মঞ্চে এই ধরনের বিক্ষোভ দেশের ভাবমূর্তির উপর প্রভাব ফেলতে পারে।
শুক্রবার নয়াদিল্লির ভারত মণ্ডপমে আয়োজিত এআই ইমপ্যাক্ট সামিটের ভিতরে ইন্ডিয়ান ইয়ুথ কংগ্রেসের কর্মীরা ‘শার্টবিহীন’ অবস্থায় বিক্ষোভ দেখান। তাঁরা প্রতিবাদমূলক বার্তা লেখা টি-শার্ট প্রদর্শন করেন এবং প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বিরুদ্ধে স্লোগান তোলেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়। পুদুচেরি এবং ইন্দোরে বিজেপি ও কংগ্রেস কর্মীদের মধ্যে পাল্টা বিক্ষোভ এবং সংঘর্ষের ঘটনাও সামনে আসে।
এর আগে বিজেপি সাংসদ অনুরাগ ঠাকুর কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধী এবং যুব কংগ্রেসকে ‘ভারতবিরোধী’ বলে আক্রমণ করেন। তিনি বলেন, ‘তাঁরা গণতন্ত্রের নিয়ম ভেঙেছেন। তাঁরা কি মোদীর বিরোধিতা করছেন, না দেশের বিরোধিতা করছেন? কংগ্রেস আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারতের বদনাম করছে। মোদীর বিরোধিতা করতে গিয়ে তাঁরা এখন দেশের বিরোধিতা শুরু করেছেন।’
অন্য দিকে, কংগ্রেস নেতারা যুব কংগ্রেসের এই বিক্ষোভের পক্ষে সওয়াল করেন। কর্ণাটকের মন্ত্রী প্রিয়াঙ্ক খাড়গে বলেন, এই ধরনের প্রতিবাদ হয়তো সঠিক পদ্ধতিতে হয়নি, কিন্তু অনুষ্ঠানে চিনা পণ্যের উপস্থিতি নিয়ে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে, তা নিয়েই বিজেপির লজ্জা পাওয়া উচিত। কর্ণাটকের আরেক মন্ত্রী ঈশ্বর খান্ড্রে বলেছেন, ‘প্রতিবাদ করা এই দেশের নাগরিকদের মৌলিক অধিকার। কেন্দ্রীয় সরকারের ভুল নীতির বিরুদ্ধে তাঁরা প্রতিবাদ করেছেন। এতে ভুল কী আছে?’
এই ঘটনার পর পুলিশ চার জন যুব কংগ্রেস কর্মীকে গ্রেফতার করেছে। শনিবার পাতিয়ালা হাউস আদালত তাঁদের জামিনের আবেদন খারিজ করেছে এবং পাঁচ দিনের পুলিশ হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক।