• গুজবের জেরে গণপিটুনি, মৃত্যু হলো ইঞ্জিনিয়ারের
    এই সময় | ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • এই সময়, খড়্গপুর: দিন বারো আগে গুজবের জেরে মার খেতে হয়েছিল যুবককে। সে দিন থেকেই তাঁর চিকিৎসা (Treatment) শুরু হয়। কিন্তু শেষ রক্ষা হলো না। যে ভয়টা করা হচ্ছিল, সেটাই হলো। সৌম্যদীপ চন্দ (৩৩) নামে ওই যুবকের মত্যু হলো। তাঁর বাড়ি কেশিয়াড়ির গিলাগেড়িয়া গ্রামে। শুক্রবার রাতে তিনি মারা যান। এই ঘটনায় পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সৌম্যদীপের কাকু রিন্টু চন্দ বলেন, ‘গুজবে যে ভাবে আমাদের ছেলের মৃত্যু হলো, এমন যেন আর কারও ক্ষেত্রে না হয়। সবাইকে অনুরোধ, কাউকে সন্দেহ হলে পুলিশের হাতে তুলে দিন। প্রাণ কেড়ে নেবেন না।’

    মারধরের ঘটনাটি ঘটেছিল ৮ ফেব্রুয়ারি। সে দিন বাড়ি থেকে রাতের ডিউটি করতে গ্রামের পথে কারখানায় যাচ্ছিলেন সৌম্যদীপ। খড়্গপুর গ্রামীণ থানা এলাকার ভেটিয়ার কাছে তাঁকে তাঁড়া করেন এলাকার বাসিন্দারা। মোটরবাইক থেকে নামিয়ে চলে গণপিটুনি। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে যখন উদ্ধার করে তখন সৌম্যদীপ গুরুতর জখম। পুলিশ তাঁকে উদ্ধার করে খড়্গপুর মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি করেছিল। পরে পরিবারের লোকজন তাঁকে ভুবনেশ্বরের হাইটেক মেডিক্যাল কলেজে (Hightek Medical College) ভর্তি করেন।

    প্রসঙ্গত, গত এক মাস ধরে ঝাড়গ্রাম ও পশ্চিম মেদিনীপুরের বেশ কিছু এলাকায় আধার চুরির (Theft) গুজব ছড়িয়েছে। হোয়াটস অ্যাপে ছড়িয়ে পড়ছে সেই সব গুজব। গ্রামবাসীরা বলছেন, তাঁরা জানতে পেরেছেন কেউ বা কারা রাতে গ্রামের বাড়ি বাড়ি গিয়ে দরজা খটখট করছে। কেউ দরজা খুললেই তার ঘরে ঢুকে দরকারি কাগজপত্র নিয়ে চম্পট দিচ্ছে। যদিও এখনও কোথাও এমন কোনও ঘটনার কোনও অভিযোগ জমা পড়েনি পুলিশের কাছে। এমনকী যাঁরা এ কথা বলছেন তাঁরাও এমন ঘটনা ঘটতে কোথাও দেখেননি। এ দিকে, আতঙ্কে গ্রামবাসীরা রাতে লাঠি হাতে পাহারা দিচ্ছেন বলে জানা গিয়েছে। অপরিচিত কাউকে রাতে গ্রামে দেখলেই ধরে ফেলা হচ্ছে। সৌম্যদীপকে যে ভাবে মারধর করা হয়েছে। সেরকম ঘটনা আরও কয়েকটি জায়গায় ঘটেছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। গুজবের জেরে যে গণপিটুনির (Mass Beaten) ঘটনা ঘটতে পারে তা আগাম আঁচ করেই একাধিক গ্রামে পুলিশের পক্ষ থেকে মাইকে প্রচার করা হয়েছে। এমনকী রাতে পাহারাও দেওয়া হয়েছে। তারপরেও আটকানো গেল না গুজবে গণপিটুনিতে মৃত্যুর ঘটনা।

    কয়েক দিনে গুজবের (Rumours) জেরে কেশিয়াড়িতে দুই যুবককে ধরে মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। একই ঘটনা বেশ কিছু গ্রামে ঘটছে। পুলিশ বারবার রাতে গ্রামে গিয়ে সাধারণ মানুষকে বোঝাচ্ছেন, আপনারা নিশ্চিন্তে ঘুমোন। রাতে পাহারায় থাকবে পুলিশ (Police)। কোথাও কোনও সন্দেহজনক কিছু দেখলে পুলিশকে জানান। তাতে কিছু ক্ষেত্রে কাজ হলেও সর্বত্র সুফল মিলছে এমন নয়। ফের গ্রামে গ্রামে সচেতনতা বাড়াতে পদক্ষেপ করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

  • Link to this news (এই সময়)