• পানিহাটিতে তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব, আমন্ত্রণ পত্রে দলনেত্রীর নাম না থাকায় অনুষ্ঠান বয়কট পুরপ্রধানের
    এই সময় | ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • এই সময়, পানিহাটি: বিধানসভা ভোটের (Assembly Election) আগে তৃণমূল নেত্রী (TMC) মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় দলের নেতা–কর্মীদের মনোমালিন্য ভুলে একসঙ্গে ঝাঁপিয়ে পড়তে বললেও পানিহাটিতে শাসকদলের কোন্দল কিছুতেই থামছে না। এ বার মহিলা তৃণমূল কংগ্রেসের ডাকে আয়োজিত একটি সভার আমন্ত্রণ পত্র ছাপা নিয়ে পানিহাটিতে তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ কাজিয়া ফের প্রকাশ্যে চলে এল। আমন্ত্রণ পত্রে দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamamta Banerjee) এবং দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের নাম ও ছবি না থাকায় ওই সভা বয়কট (Boycott) করেন পানিহাটির পুরপ্রধান থেকে দলের একাধিক প্রথমসারির নেতা। শুধু তাই নয়, বিষয়টি নিয়ে সমাজমাধ্যমে সোচ্চার হয়েছেন দলেরই একাংশ। এই ঘটনায় বিধানসভা নির্বাচনের আগে অস্বস্তিতে পড়েছে শাসকদল।

    দলীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, পশ্চিম পানিহাটি মহিলা তৃণমূল কংগ্রেসের উদ্যোগে শনিবার বিকেলে লোক সংস্কৃতি ভবনে ওই সভার আয়োজন করা হয়েছিল। দলের অন্দরেই অভিযোগ উঠেছে, এ দিনের সভার জন্য যে আমন্ত্রণ পত্র বিলি করা হয়েছে, তাতে প্রধান অতিথি হিসেবে দমদম লোকসভা কেন্দ্রের সাংসদ সৌগত রায়, বিধায়ক নির্মল ঘোষ, পুরপ্রধান সোমনাথ দে–সহ স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বের নাম রয়েছে। কিন্তু তাতে কোথাও মমতা কিংবা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় নাম অথবা ছবি নেই। সাদা কাগজে জেরক্স (Xerox) করা ওই আমন্ত্রণ পত্র নিয়ে দলের একাংশ বেজায় ক্ষুব্ধ। তাঁরা প্রশ্ন তুলছেন, দলীয় আমন্ত্রণ পত্রে কেন দলনেত্রীর নাম দেওয়া হলো? তাছাড়া আমন্ত্রণ পত্রে কেন তৃণমূলের কোনও দলীয় প্রতীক ব্যবহার করা হলো না? শুধু তাই নয়, ওই চিঠিতে ব্যারাকপুর–দমদম সাংগঠনিক জেলা মহিলা তৃণমূল কংগ্রেসের অনেক পদাধিকারীর নাম নেই। এর জন্য সভায় আমন্ত্রিত হয়েও যাননি পানিহাটির পুরপ্রধান সোমনাথ দে।

    পানিহাটির পুরপ্রধান সোমনাথ দে বলেন, ‘তৃণমূলের ঐতিহ্য ও পরম্পরা অনুযায়ী, যে কোনও দলীয় কর্মসূচি অথবা সভা–সমিতির জন্য যখন কোনও আমন্ত্রণ পত্র কি​ংবা চিঠি দেওয়া হয়, তাতে দলনেত্রী এবং দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের নাম ও ছবি ব্যবহার করা হয়। দলের তরফে চিঠি পাঠালেও তাতে দলের প্রতীক থাকে। এক্ষেত্রে সেটা করা হয়নি। তাই আমি ওই সভাতে যাইনি। কারা কী উদ্দেশ্যে এটা করল, জানি না।’ সোমনাথ দে’র মতো সভায় গরহাজির ছিলেন তৃণমূলের মুখপাত্র (Tmc Spokeperson) এবং কাউন্সিলার তথা দলের পূর্ব পানিহাটির সভাপতি সম্রাট চক্রবর্তী। বিষয়টি নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় সরব হয়েছেন তিনি। তাঁর কথায়, ‘দিদি (মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়) এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে বাদ দিয়ে হয় নাকি তৃণমূল কংগ্রেস? জোড়াফুল প্রতীকও থাকবে না?’

    সম্রাট বলেন, ‘তৃণমূল মানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (Abhisek Banerjee)। দলের যে কোনও মিটিংয়ে তাঁদের নাম ও দলীয় প্রতীক থাকবে এটাই স্বাভাবিক। যাঁরা এটা করলেন, তাঁরা কি দলের বাইরে নিজেকে ভাবতে শুরু করেছেন?’ আর এক প্রাক্তন কাউন্সিলার তথা প্রবীণ নেতা সুব্রত রায় ওরফে বাদল সোশ্যাল মিডিয়ায় লিখেছেন, ‘পদ নয়, পতাকা। কর্মীদের অনুভূতি, আবেগ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং কর্মীদের রক্তের শিরায় শিরায় সেই অনুভূতি ও আবেগ প্রবাহিত। তাঁদের নাম বাদ দিয়ে কোনও রাজনৈতিক কর্মসূচি প্রাসঙ্গিক নয়।’ একই ইস্যুতে সরব হয়েছেন পুর পারিষদ তাপস দে–ও। ব্যারাকপুর–দমদম সাংগঠনিক জেলা মহিলা তৃণমূল কংগ্রেসের সভানেত্রী সোনালী সিংহ রায় বলেন, ‘বিষয়টি আমার জানা নেই। তবে পানিহাটিতে আমাদের বর্ষীয়ান নেতা তথা বিধায়ক নির্মল ঘোষ রয়েছেন। মূলত দলের কর্মসূচি বিধায়কদের অধীনেই হয়। আমি এ নিয়ে পানিহাটির বিধায়কের সাথে কথা বলব।’

    যদিও নির্মল ঘোষ বলেন, ‘আমিও বিষয়টি জানি না। তা ছাড়া ওই চিঠির ছবি তো কেউ সমাজমাধ্যমে দেননি। ফলে তাঁদের নাম করে ভোটের আগে কেউ ভুয়ো পোস্ট করছে কি না, তার গ্যারান্টি কী আছে?’ এ নিয়ে কটাক্ষ করতে ছাড়ছে না বিরোধীরা।

  • Link to this news (এই সময়)