ভাইয়ের পড়াশোনার জন্য অনেক টাকার দরকার। তাই রাতে ফুড ডেলিভারি এজেন্টের কাজ নিয়েছিলেন। শনিবার রাতে যাচ্ছিলেন খাবার ডেলিভারি দিতে। সেই সময়ে একটি গাড়ি এসে পিষে দেয় যুবককে। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় হেম শঙ্করের (২৫)। পশ্চিম দিল্লির সুভাষ নগর মেট্রো স্টেশনের কাছে এই ঘটনায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ইতিমধ্যে ঘাতক গাড়ির চালককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। শুরু হয়েছে তদন্ত।
স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, দিল্লির রঘুবীর নগরে থাকতেন হেম শঙ্কর। মা আর দুই ভাইকে নিয়েই ছিল তাঁর সংসার। দুপুরে স্থানীয় একটি দোকানে কাজ করতেন। বাড়তি রোজগারের আশায় রাতে করতেন ডেলিভারি এজেন্টের কাজ। শনিবার রাত সাড়ে ৩টে নাগাদ জনকপুরীতে খাবার ডেলিভারি দিতে যাচ্ছিলেন তিনি। তখনই দুর্ঘটনা ঘটে।
একটি দ্রুত গতির গাড়ি হেম শঙ্করের গাড়িকে ওভারটেক করছিল। শেষ মুহূর্তে আচমকাই বাঁ দিকে ঘুরে যায়। টাল সামলাতে পারেননি হেম। উল্টে পড়ে যান। তাঁর উপর দিয়েই গাড়ি চালিয়ে দেন চালক। দুর্ঘটনার পরে স্থানীয় বাসিন্দারাই রক্তাক্ত হেমকে হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক। ছেলের মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর থেকে কান্না থামছে না মা রুক্মিণী শঙ্করের। তিনি বলেন, ‘আমার সব শেষ হয়ে গেল।’
দুর্ঘটনার পরেই গাড়ি থেকে নেমে পালানোর চেষ্টা করেছিলেন চালক। কিন্তু স্থানীয় বাসিন্দারাই তাঁকে ধরে পুলিশের হাতে তুলে দেন। পশ্চিম দিল্লির ডেপুটি কমিশনার শরদ ভাস্কর দাড়ারে বলেন, ‘ঘাতক গাড়ি চালক মোহিত কুমারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি দিল্লি পুরসভার ঠিকাদার।’ ধৃতের বিরুদ্ধে মদ্যপান করে গাড়ি চালানোর অভিযোগে মামলা রুজু করেছে পুলিশ।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, রাত ১০টা থেকে ভোর ৪টে পর্যন্ত নাইট শিফটে কাজ করতেন হেম। ছোট ভাই সমীর স্কুলে পড়ছে। তার পড়াশোনার খরচ জোগাড় করতেই ওভারটাইম খাটতেন তিনি। দুর্ঘটনার পরে অকূল পাথারে পড়েছে তাঁর পরিবার। এই ঘটনায় রাতের শিফটে কাজ করা ডেলিভারি এজেন্টদের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠে গিয়েছে।