শঙ্করাচার্য স্বামী অভিমুক্তেশ্বরানন্দের বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে এফআইআর দায়ের করার নির্দেশ প্রয়াগরাজের বিশেষ পকসো আইন আদালত। প্রয়াগরাজ জেলার পকসো আদালতের বিচারক বিনোদকুমার চৌরাসিয়া অভিমুক্তেশ্বরানন্দ এবং তাঁর শিষ্য স্বামী মুকুন্দানন্দ গিরির বিরুদ্ধে এফআইআর করে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন।
১৩ জানুয়ারি ২০২৫ থেকে ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ পর্যন্ত সময়ের মধ্যে এই অপরাধ সংঘটিত হয়েছে বলে পুলিশের তদন্তে দাবি করা হয়েছে। দুই জন নাবালককে শারীরিক ভাবে হেনস্থা করা হয়েছে বলে অভিযোগ। ২০২৫ সালের কুম্ভমেলা এবং ২০২৬ সালের প্রয়াগরাজে মাঘমেলাকে ঘিরে আয়োজিত ধর্মীয় শিবিরে এই ঘটনা ঘটে। এক নির্যাতিত নাবালক প্রায় ১৪ বছর বয়সি ছিল এবং দ্বিতীয় নির্যাতিত নাবালকের বয়স ছিল ১৭ বছর।
শ্রীকৃষ্ণ জন্মভূমি মুক্তি নির্মাণ ট্রাস্ট এবং শাকুম্ভরী পীঠাধীশ্বরের সভাপতি আশুতোষ ব্রহ্মচারী গত ২৮ জানুয়ারি য়াগরাজ আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। আবেদনের শুনানি শেষে, ধর্ষণ এবং পকসো বিশেষ আদালত এফআইআর করার নির্দেশ দেওয়া হয়।
পুলিশ তদন্তে জানিয়েছে, অভিযুক্তদের মেডিক্যাল পরীক্ষা, ডিজিটাল প্রমাণ এবং ফরেন্সিক পরীক্ষা, মোবাইল লোকেশন ডেটা যাচাই করা হয়েছে। তদন্তে অভিমুক্তেশ্বরানন্দ সরস্বতী এবং তাঁর শিষ্য স্বামী মুকুন্দানন্দ গিরির বিরুদ্ধে বেশ কিছু তথ্যপ্রমাণ মিলেছে। নির্যাতিতদের বয়ান রেকর্ড করা হয়েছে।
যদিও নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করে স্বামী অভিমুক্তেশ্বরানন্দ সরস্বতী একটি সংবাদমাধ্যমে বলেছেন, ‘আদালতের নিজস্ব নিয়ম আছে। তবে আমরা আদালতে জানিয়েছি এই মামলা সম্পূর্ণ মিথ্যা।’ অভিযোগকারী আশুতোষ ব্রহ্মচারীর বিরুদ্ধেও সরব হয়েছন তিনি। অভিমুক্তেশ্বরানন্দ বলেন, ‘আশুতোষ নামের ব্যক্তি উত্তরপ্রদেশের শামলি জেলার কান্ধলা থানায় হিস্ট্রি-শিটার হিসেবে নথিভুক্ত। এমন অনেক লোক আছেন যাদের বিরুদ্ধে তিনি (আশুতোষ) মিথ্যা মামলা করেছেন... এর অর্থ কী? এর অর্থ হল সনাতন ধর্ম বাইরের কোনও ব্যক্তির দ্বারা হুমকির মুখে নেই বরং এর ভেতরের লোকেরাই হিন্দু ধর্মকে ধ্বংস করতে চায়, যারা শঙ্করাচার্য নামক প্রতিষ্ঠানটিকে ধ্বংস করতে চায়।’