• ‘বদলে দেওয়া হয়েছে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট নম্বর...’, বাংলা আবাস যোজনায় ফের দুর্নীতির অভিযোগ
    এই সময় | ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • ফোনে মেসেজ ঢুকলেও ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে আসেনি টাকা। ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট নম্বর পাল্টে দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন বাংলা আবাস যোজনার এক উপভোক্তা। ফের বাংলা আবাস যোজনায় দুর্নীতির অভিযোগ ঘিরে সরগরম মালদা।

    মালদার ইংলিশবাজারের পরে এ বার কালিয়াচকের চরি অনন্তপুর। ট্যাব কেলেঙ্কারির আদলে আধার নম্বর ও ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট নম্বর পরিবর্তন করে আবাস যোজনার টাকা লোপাটের চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ। তৃণমূল পরিচালিত গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রধান, উপপ্রধানের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ তুলে সরব হয়েছেন উপভোক্তারা। যদিও অভিযোগ অস্বীকার করেছেন উপপ্রধান। মালদার কালিয়াচক তিন নম্বর ব্লকের চরি অনন্তপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের ঘটনায় শুরু রাজনৈতিক চাপানউতোর।

    আবাস যোজনার টাকা না পাওয়ার অভিযোগ তুলেছেন অনন্তপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের বাসিন্দা আদরি মণ্ডল। ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট নম্বর পাল্টে দিয়ে একজনের টাকা অন্যজনের অ্যাকাউন্টে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বৃদ্ধা উপভোক্তা। তাঁর দাবি, ফোনে ষাট হাজার টাকা প্রাপ্তির মেসেজ দেখে ব্যাঙ্কে গিয়ে জানতে পারেন তাঁর অ্যাকাউন্টে কোনও টাকা ঢোকেনি। বিভিন্ন দপ্তর ঘুরে তিনি জানতে পারেন তাঁর নামে বরাদ্দ টাকা অন্যের অ্যাকাউন্টে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।

    এর পরেই ব্লক দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন আদরি মণ্ডল। তাঁর অভিযোগ, সঠিক ভাবে সমস্ত তথ্য দিয়ে ফর্ম ফিলআপ করা হলেও পরে চালাকি করে কেউ তাঁর ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট নম্বর বদলে দিয়েছে। এই বিষয়ে বৃদ্ধা ও তাঁর পুত্র রমল মণ্ডল অভিযোগ তুলেছেন যে এই দুর্নীতির সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছেন এলাকার উপপ্রধান। মদত রয়েছে প্রধানের। অভিযুক্তদের শাস্তির দাবি করেছেন তাঁরা।

    এই ঘটনায় সরব বিজেপিও। বলেন,‘এমন ঘটনা তো এই প্রথম নয়। এই দুর্নীতি তৃণমূল প্রথম থেকেই করে আসছে। হরিশ্চন্দ্রপুরে এর আগে ত্রাণের টাকা নিয়েও এমন দুর্নীতি সামনে এসেছিল।’

    এই অভিযোগ অস্বীকার করে উপপ্রধান শ্যামল মণ্ডল বলেন,‘এই উপভোক্তার লিস্ট এখানকার নয়। পরে সরকার তদন্ত করে প্রকৃত উপভোক্তাদেরই টাকা বরাদ্দ করেছেন। শুধু শুধু বদনাম করছেন উনি। ফোন মেসেজ এসেছে কেন টাকা ঢোকেনি, সেটা তো আমাদের জানার কথা নয়। ঘরের টাকা যা কিছু করবে সরকার করবে। এটা তো আমাদের কোনও হাত নেই।’ তবে শুধু আদরি মণ্ডল নন, এলাকায় বেশ কয়েকজনের সঙ্গে এই ঘটনা ঘটেছে বলে মেনে নিয়েছেন চরি অনন্তপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের উপপ্রধান শ্যামল মণ্ডল। তবে তাঁদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন তিনি।

    মালদা জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের মুখপাত্র আশিস কুণ্ডু টাকা না পাওয়ার বিষয়টি নিয়ে তদন্তের আশ্বাস দিয়েছেন। তিনি বলেন,‘এই অভিযোগ তৃণমূল বরদাস্ত করবে না। কেন্দ্রের শত বঞ্চনার পরে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় উপভোক্তাদের অ্যাকাউন্টে টাকা পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করছে। সেই টাকা যদি কেউ আত্মসাৎ করে তা হলে তাঁকে ছেড়ে দেওয়া হবে না।’

  • Link to this news (এই সময়)