• পরিচয় দেওয়ার সুযোগটুকুও দেয়নি কেউ! চোর সন্দেহে গণপিটুনিতে নিভে গেল ইঞ্জিনিয়ার সৌম্যদীপের প্রাণ...
    ২৪ ঘন্টা | ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • ই গোপী: নাইট ডিউটিতে যাওয়ার পথে 'চোর' সন্দেহে গণপিটুনির শিকার হলেন এক তরুণ মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার। টানা ১০ দিন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে অবশেষে হার মানলেন তিনি। শুক্রবার রাত ১০:৩৪ মিনিটে ভুবনেশ্বরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে মৃত্যু হয় ৩৩ বছর বয়সী সৌম্যদীপ চন্দের। শনিবার মধ্যরাতে যখন তাঁর নিথর দেহ পশ্চিম মেদিনীপুরের কেশিয়াড়ী ব্লকের গিলাগেড়িয়া গ্রামে পৌঁছায়। কান্নায় ভেঙে পড়ে গোটা গ্রাম।

    পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রে খবর, গত ৮ ফেব্রুয়ারি রাতে খড়গপুরে নিজের কর্মস্থলে নাইট ডিউটি করার জন্য বাড়ি থেকে বের হয়েছিলেন সৌম্যদীপ। খড়গপুর লোকাল থানার অন্তর্গত আনারকলি এলাকায় পৌঁছালে একদল লোক তাঁকে 'চোর' সন্দেহে আটকে ফেলে। অভিযোগ, সৌম্যদীপ বারবার নিজের পরিচয় দেওয়ার চেষ্টা করলেও উত্তেজিত জনতা তা কানে তোলেনি। তাঁকে বেধড়ক মারধর করা হয়। খবর পেয়ে পুলিস তাঁকে উদ্ধার করে প্রথমে খড়গপুর মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি করে। কিন্তু শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় দ্রুত তাঁকে ভুবনেশ্বরের হাই-টেক হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। সেখানে আইসিইউ-তে চিকিৎসাধীন থাকাকালীন শুক্রবার রাতে তিনি শেষ নিঃশ্বাস করে।

    সৌম্যদীপের অকাল মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। শনিবার রাতে দেহ গ্রামে পৌঁছালে কান্নার রোল ওঠে। একজন উচ্চশিক্ষিত তরুণকে এভাবে অমানবিক পিটুনির শিকার হতে হবে, তা মেনে নিতে পারছে না গ্রামবাসীরা। সৌম্যদীপের কাকা হরেকৃষ্ণ চন্দ ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, 'সৌম্যদীপ ইঞ্জিনিয়ার ছিল, নিজের কাজে যাচ্ছিল। ও নিজের পরিচয় দিতে চাইলেও কেউ শোনেনি। আমরা এই জঘন্য অপরাধের সঙ্গে জড়িত প্রত্যেকের কঠোরতম শাস্তি চাই।'

    এই ঘটনায় খড়গপুর লোকাল থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। জনরোষের নামে আইন হাতে তুলে নিয়ে একজন নিরপরাধ যুবককে পিটিয়ে মারার ঘটনায় পুলিস সিসিটিভি ফুটেজ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ানের ভিত্তিতে অভিযুক্তদের শনাক্ত করার চেষ্টা করছে। তবে এই ঘটনা আবারও তথাকথিত 'মব জাস্টিস' বা গণপিটুনির ভয়াবহতা এবং প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে।

  • Link to this news (২৪ ঘন্টা)