• কাশ্মীরে সেনাবাহিনীর অভিযানে খতম তিন জৈশ জঙ্গি, অপারেশন জ়োন-এ নিখুঁত নেভিগেশন ‘টাইসন’-এর
    এই সময় | ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • কিশতওয়ারের ছাতরুর ঘন জঙ্গল। অন্ধকারে কয়েক মিটার দূরের দৃশ্যপটও ঘোলাটে। আঁধার কেটে সন্তর্পণে এগিয়ে যাচ্ছে প্যারা স্পেশাল ফোর্স। তাদের কয়েক হাত সামনে ক্ষিপ্র গতিতে ছুটছে ‘টাইসন’। তীক্ষ্ণ দৃষ্টি, জ্বলজ্বল করছে দু’টি চোখ। ঘ্রাণশক্তিকে কাজে লাগিয়ে লক্ষ্যবস্তুর দিকে এগিয়ে যাওয়ার জন্য সে-ই নির্ভুল ‘নেভিগেশন’। অপারেশন জ়োন-এ বিপদের ভয়ও ছিল। কিছুক্ষণের মধ্যেই শত্রু শিবির থেকে উড়ে আসে একঝাঁক গুলি। টাইসনের সামনের ডান পা ছুঁয়ে বেরিয়ে যায় একটি গুলি। তবে সে থামেনি। তাকে ফলো করে যাওয়া প্যারা স্পেশাল ফোর্সকে পৌঁছে দিয়েছে সঠিকস্থানে। শনিবার রাতে ছাতরুর জঙ্গলে লুকিয়ে থাকা তিন জঙ্গিকে খতম করার অপারেশনে সেই আসল ‘হিরো’।

    টাইসন হলো প্যারা স্পেশাল ফোর্সের সদস্য এক প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত স্নিফার ডগ। জঙ্গিদের আস্তানায় পৌঁছে দেওয়ার জন্য শনিবার রাতের অপারেশনে সেনাবাহিনীকে যোগ্য সঙ্গত দেয় টাইসনও। অপারেশনেই মাঝেই চোট পায় সে। উধমপুরের সেনা হাসপাতালে বিমানে করে উড়িয়ে নিয়ে যাওয়া হয় তাকে। সেখানে চিকিৎসার পরে সে এখন স্থিতিশীল এবং সুস্থ হয়ে উঠছে।

    জঙ্গি কার্যকলাপ রুখতে এর আগেও বহু খেল দেখিয়েছে টাইসন। সেনা কর্মকর্তারা একটি সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, টাইসন এর আগেও বেশ কয়েকটি বড় অভিযানের অংশ ছিল। বিস্ফোরক সনাক্তকরণ, সন্দেহজনক লোকেশন খুঁজে বের করা এবং জঙ্গিদের ট্র্যাক করার জন্য সেনাবাহিনীর কাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে সে। ঘন অরণ্য বা পাহাড়ি এলাকায় তল্লাশির কাজে সেনাবাহিনীর অন্যতম ভরসা এই সারমেয়।

    ছাতরুর পাসারকুট এলাকায় শনিবার গভীর রাতে একটি অভিযান চালায় সেনাবাহিনী। ওই জঙ্গলে একটি কুঁড়ে ঘরে লুকিয়ে ছিল তিন জঙ্গি। রাতেই জঙ্গি ও সেনার মধ্যে তুমুল গুলির লড়াই হয়। সংঘর্ষের মাঝেই ওই ঘরে আগুন ফেহরে যায়। সেনা সূত্রে খবর, গুলির লড়াইয়ে তিন জঙ্গির মৃত্যু হয়েছে, তারা হলো রুবানি ওরফে আবু মাভিয়া এবং জ়ুবেইর, এবং জৈশের শীর্ষ কম্যান্ডার সইফুল্লা বালোচ।

  • Link to this news (এই সময়)