• ভিলেজ পুলিশ থেকে তৃণমূলের ব্লক সাধারণ সম্পাদক! সিমলাপালে তুঙ্গে রাজনৈতিক বিতর্ক
    আজ তক | ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • Bankura Simlapal News: বাঁকুড়ার সিমলাপাল ব্লকে তৃণমূলের নতুন ব্লক কমিটি ঘোষণার পরই তুঙ্গে রাজনৈতিক তরজা। কমিটির সাধারণ সম্পাদক পদে জায়গা পেয়েছেন এক ভিলেজ পুলিশ কর্মী। তারপরেই এই নিয়োগকে কেন্দ্র করে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক চাপানউতোর। বিজেপির অভিযোগ, শাসক দল এবং পুলিশের সম্পর্ক নিয়ে যে প্রশ্ন দীর্ঘদিন ধরে উঠছে, এই ঘটনা তারই প্রমাণ।

    তৃণমূল সূত্রে জানা গিয়েছে, সিমলাপাল ব্লকের বিক্রমপুর গ্রামের বাসিন্দা মধুসূদন কর্মকার বর্তমানে ভিলেজ পুলিশ হিসেবে কর্মরত। ২০১২ সাল থেকে তিনি এই দায়িত্ব পালন করছেন। সম্প্রতি তৃণমূল কংগ্রেসের সিমলাপাল ব্লক কমিটির নতুন তালিকা প্রকাশিত হয়েছে। সেই তালিকাতেই সাধারণ সম্পাদক পদে নাম রয়েছে মধুসূদনের। আর তা প্রকাশ্যে আসতেই রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে তীব্র বিতর্ক।

    ভিলেজ পুলিশ হয়ে দলের গুরুত্বপূর্ণ পদে
    স্থানীয় সূত্রের দাবি, ভিলেজ পুলিশ হিসেবে কর্মরত থাকা অবস্থাতেই মধুসূদনকে দীর্ঘদিন তৃণমূলের বিভিন্ন দলীয় কর্মসূচিতে সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে দেখা গিয়েছে। দলীয় মিটিং, মিছিল এবং সংগঠনের বিভিন্ন কার্যক্রমে তাঁকে উপস্থিত থাকতে দেখা যেত। তবে এবার তাঁকে সরাসরি ব্লক কমিটির সাধারণ সম্পাদক পদে বসানোয় প্রশ্ন উঠেছে প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা নিয়ে।

    রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের মতে, ভিলেজ পুলিশ প্রশাসনের একটি অংশ হিসেবে কাজ করেন। সেই অবস্থানে থেকে কোনও রাজনৈতিক দলের গুরুত্বপূর্ণ পদে থাকা কতটা শোভন, তা নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে।

    বিজেপির কটাক্ষ, 'তৃণমূল ও পুলিশ এক হয়ে গিয়েছে'
    এই ঘটনাকে হাতিয়ার করে শাসক দলের বিরুদ্ধে সরব হয়েছে বিজেপি। দলের স্থানীয় নেতৃত্বের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই তাঁরা দাবি করে আসছেন যে রাজ্যে শাসক দল এবং পুলিশের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। সিমলাপালের এই ঘটনা সেই অভিযোগকেই আরও জোরালো করছে বলে দাবি বিজেপির।

    বিজেপির বক্তব্য, একজন ভিলেজ পুলিশকে শাসক দলের ব্লক কমিটির সাধারণ সম্পাদক করা হলে প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে সন্দেহ তৈরি হওয়া স্বাভাবিক। এই ঘটনার মাধ্যমে গণতান্ত্রিক কাঠামো প্রশ্নের মুখে পড়েছে বলেও দাবি বিরোধী শিবিরের।

    ‘উন্নয়নে বিভিন্ন পেশার মানুষ শামিল হচ্ছেন’
    অন্যদিকে, এই বিতর্কে তৃণমূল নেতৃত্বের তরফে পাল্টা ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে। ব্লক তৃণমূল নেতৃত্বের দাবি, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উন্নয়নমূলক কাজের অনুপ্রেরণায় বিভিন্ন পেশার মানুষ স্বেচ্ছায় তৃণমূলের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছেন। মধুসূদন কর্মকারও তাঁদের মধ্যে একজন।

    দলের বক্তব্য, কোনও ব্যক্তি যদি দলের আদর্শে বিশ্বাস করেন এবং সংগঠনের কাজ করতে চান, তবে তাঁকে দায়িত্ব দেওয়ার মধ্যে কোনও অসঙ্গতি নেই। তাঁর পেশা ভিলেজ পুলিশ হলেও দলীয় দায়িত্ব পালন করতে কোনও বাধা নেই বলেই দাবি তৃণমূলের।

    অস্বস্তিতে শাসক শিবির?
    প্রকাশ্যে তৃণমূল নেতৃত্ব এই নিয়োগকে সমর্থন করছে। তবে রাজনৈতিক মহলের মতে, বিষয়টি শাসক দলের অন্দরেও কিছুটা অস্বস্তি তৈরি করেছে। স্থানীয় বিধায়কও বিষয়টি নিয়ে সরাসরি মন্তব্য এড়িয়ে গিয়েছেন বলে জানা গিয়েছে। ফলে বিতর্ক আরও ঘনীভূত হয়েছে।

    ভোটের আগে বাড়ছে রাজনৈতিক উত্তাপ
    রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, ততই বিভিন্ন জেলায় রাজনৈতিক টানাপোড়েন বাড়ছে। তারই মধ্যে সিমলাপালের এই ঘটনা নতুন করে রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়িয়েছে। রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই বিতর্ক আগামী দিনে রাজ্য রাজনীতিতে আরও বড় ইস্যু হয়ে উঠতে পারে। বর্তমানে বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা চলছে। প্রশাসন বা রাজ্য সরকারের তরফে এখনও পর্যন্ত কোনও আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। 
  • Link to this news (আজ তক)