• দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা রক্ষায় একের পর এক কঠিন অভিযান, ‘জিএম’ সম্মান মুর্শিদাবাদের হিমাংশুকে
    এই সময় | ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • সাহসিকতার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করে ‘মেডেল ফর গ্যালান্ট্রি’ (জিএম) সম্মানে ভূষিত হলেন সিআরপিএফ-এর সাহসী সিপাহি হিমাংশু হালদার। মুর্শিদাবাদ জেলার জলঙ্গির ভারত–বাংলাদেশ সীমান্ত সংলগ্ন প্রত্যন্ত গ্রাম চোঁয়াপাড়ার ভূমিপুত্র হিমাংশু ঝুঁকিপূর্ণ অভিযানে অসীম সাহস, অদম্য মনোবল ও কর্তব্যনিষ্ঠার নজির গড়ে জাতীয় সম্মানের আসনে স্থান করে নিলেন।

    সম্প্রতি অসমের গুয়াহাটির সরুসজাই স্টেডিয়ামে সেন্ট্রাল রিজ়ার্ভ পুলিশ ফোর্স-এর ৮৭ তম প্রতিষ্ঠা দিবস অনুষ্ঠানে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ওই মেডেল তাঁর গলায় পরিয়ে দেন। অমিত শাহ-এর হাত থেকে ওই সম্মান গ্রহণ শুধু হিমাংশুর ব্যক্তিগত সাফল্যই নয়, এটা গোটা বাহিনীর, মুর্শিদাবাদের, বাংলার এবং সমগ্র ভারতের গর্ব বলে মনে করছেন এলাকাবাসী। তাঁর পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, সীমান্তের মাটিতে বড় হয়ে ওঠা হিমাংশু ছোটবেলা থেকেই দেশপ্রেমের গল্প শুনতেন। এর থেকেই সেনা–পোশাকের প্রতি তাঁর প্রবল আকর্ষণ তৈরি হয়। ছোট থেকে স্বপ্ন দেখেছিলেন দেশসেবা করবেন।

    স্কুলজীবনে সীমান্তরক্ষী জওয়ানদের সঙ্গে আলাপচারিতা সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়ার ক্ষেত্রে তাঁকে অনুপ্রাণিত করেছিল। পড়াশোনা শেষ করে সেই স্বপ্নপূরণ করার মধ্য দিয়ে দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা রক্ষায় একের পর এক কঠিন অভিযানে নিজের সাহসিকতার প্রমাণ দেন তিনি। বিপজ্জনক অপারেশনে দৃঢ়তা ও বীরত্বের স্বীকৃতিতেই শেষ পর্যন্ত তাঁর গলায় উঠল গ্যালান্ট্রি মেডেল।

    এক দিকে, দেশের নিরাপত্তায় কড়া বার্তা—নকশাল দমনে চূড়ান্ত লড়াই। অন্য দিকে, সীমান্তের মাটির ছেলের বীরত্বের স্বীকৃতি। বার্তা স্পষ্ট—দেশের নিরাপত্তা ও অখণ্ডতার প্রশ্নে ঐক্যবদ্ধ লড়াই-ই একমাত্র পথ। আজ হিমাংশু হালদার শুধু একটি নাম নয়, তিনি অনুপ্রেরণা। তাঁর সাহসিকতাকে স্যালুট জানাচ্ছে গোটা দেশ। গর্বে উজ্জ্বল মুর্শিদাবাদও।

  • Link to this news (এই সময়)