রাখতে হবে পুরনোদেরও, বাছাইয়ে বার্তা তৃণমূল নেত্রীর
আনন্দবাজার | ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
এখনও পর্যন্ত দলীয় স্তরের কোনও সমীক্ষায় সরকারের প্রত্যাবর্তনের পথে বড় কোনও বিঘ্নের আভাস নেই। তবে বিধানসভা ভোটের কৌশল ঠিক করতে সতর্ক হয়েই এগোতে চাইছে শাসক দল। বেশ কিছু নতুন মুখ সামনে আনার পাশাপাশি পুরনো নেতাদেরও নির্বাচনী লড়াইয়ে গুরুত্ব দিচ্ছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।
শাসক শিবির সূত্রের খবর, ভোটের আগে জেলা ধরে দফায় দফায় সমীক্ষা চালাচ্ছে তৃণমূলের পরামর্শদাতা সংস্থা। এলাকাভিত্তিক রিপোর্ট নিয়ে প্রার্থী তালিকা বাছাইয়ের জন্য আলোচনা চালাচ্ছেন তৃণমূল নেত্রী মমতা এবং দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। তিন দফার সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিষ্ঠান-বিরোধিতার হাওয়া মোকাবিলার জন্য যেমন বহু কেন্দ্রে মুখ বদলের পরিকল্পা রয়েছে, তেমনই পরিচিত কিছু নেতা-মন্ত্রীকে ময়দানে রেখে ‘ভারসাম্যে’রও চেষ্টা জারি আছে। শাসক দল সূত্রের খবর, কম-বেশি ২৫ জন পুরনো নেতাকে ফের প্রার্থী করার জন্য তাঁর নিজস্ব পছন্দের বার্তা দলে জানিয়ে দিয়েছেন তৃণমূল নেত্রী। কোনও তালিকাই অবশ্য এখনও চূড়ান্ত নয়। দলের শীর্ষ স্তরে আরও আলোচনাসাপেক্ষ।
এ বারের বিধানসভা নির্বাচনে যাঁদের ফের মনোনয়ন দেওয়া দরকার বলে মুখ্যমন্ত্রী তথা তৃণমূল নেত্রী মনে করছেন, সেই তালিকায় ফিরহাদ (ববি) হাকিম, অরূপ বিশ্বাস, শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, শশী পাঁজা, গৌতম দেব, জ্যোতিপ্রিয় (বালু) মল্লিক থেকে শুরু করে সব্যসাচী দত্ত, রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়দেরও নাম আছে বলে সূত্রের খবর। উল্লেখযোগ্য যে সব নেতাকে ফের প্রার্থী করার কথা হচ্ছে, তাঁরা সকলেই আগের কেন্দ্রেই যে দাঁড়াবেন, এমন নয়। এই বিষয়ে আলোচনা চলছে। শোভনদেবকে যেমন উত্তর ২৪ পরগনার খড়দহের বদলে এ বার দক্ষিণ কলকাতার বালিগঞ্জে দেখা যেতে পারে। এবং এই রকম চর্চায় থাকা নানা নামের মধ্যে বিজেপি হয়ে তৃণমূলে ফেরত আসা, কলকাতার প্রাক্তন মেয়র শোভন (কানন) চট্টোপাধ্যায়ের কথা এখনও শোনা যায়নি শাসক দলের অন্দরে। এখনও পর্যন্ত যা পরিস্থিতি, বেহালা পূর্বে রত্না চট্টোপাধ্যায়কেই রেখে দিয়ে বেহালা পশ্চিমে নতুন প্রার্থী দেওয়া হতে পারে।
সময়ের সঙ্গে তাল রেখেই তৃণমূলের নির্বাচনী যুদ্ধে এ বার বেশ কিছু নতুন মুখ থাকবে। তবে সূত্রের খবর, চতুর্থ বার সরকার গঠনের ব্যাপারে প্রত্যয়ী তৃণমূল নেত্রী চান, পুরনো ‘আস্থাভাজন’দের বড় অংশকেই সঙ্গে রাখতে। কাজের ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতা ও পুরনো কর্মীর ‘মর্যাদা’ই সেখানে বিবেচ্য। কলকাতার মধ্যে বর্ষীয়ান বিধায়ক পরেশ পাল যেমন এখন গুরুতর অসুস্থ। কিন্তু মমতা চান, পরেশ ভোটে লডুন। একান্তই তা অসম্ভব হলে তখন বিকল্প নামের কথা ভেবে দেখতে বলা হয়েছে। মানিকতলায় প্রয়াত সাধন পাণ্ডের স্ত্রী, বর্তমান বিধায়ক সুপ্তি পাণ্ডেকে পরিবর্তনের পক্ষে দলের একাংশ। কিন্তু তৃণমূল নেত্রী এখনও এক কথায় তাতে সায় দেননি। মধ্য কলকাতার আর এক বিধায়ক আবার তৃণমূল নেত্রীর কাছে নিজের বদলে তাঁর ছেলেকে প্রার্থী করার আর্জি জানিয়ে রেখেছেন বলে সূত্রের খবর। গত বার বিধানসভা ভোটের আগে শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে দল ছেড়ে বিজেপিতে গিয়েছিলেন এবং পরে ফিরে এসেছেন, এমন এক নেতাকে শুভেন্দুর জেলা পূর্ব মেদিনীপুরেই এ বার নির্বাচনে লড়তে পাঠানোর পক্ষপাতী তৃণমূল নেত্রী। অন্য দিকে, উত্তরবঙ্গে দলের পুরনো মুখ গৌতমকে এ বার শিলিগুড়িতে নিয়ে আসার ভাবনা রয়েছে। পদকজয়ী এক অ্যাথলিটকে উত্তরবঙ্গে তৃণমূলের প্রতীকে লড়তে দেখা যেতে পারে।
প্রাথমিক ভাবে রাজ্যসভা ও লোকসভার কয়েক জন সাংসদকে রাজ্যে নিয়ে এসে বিধানসভা ভোটে লড়ানোর পরিকল্পনা হয়েছিল। এই ক্ষেত্রেও দিল্লির সংসদীয় রাজনীতি ও রাজ্যে ‘চাহিদা’র মধ্যে ভারসাম্য রেখে ভেবেচিন্তে এগোনোর জন্য দলে পরামর্শ দিয়েছেন তৃণমূল নেত্রী। দলের এক নেতার কথায়, ‘‘কিছু সিদ্ধান্ত পাকা। বাকি অনেকগুলো বিষয়ে এখনও আলোচনা চলছে। দলনেত্রীর সম্মতি নিয়েই সে সব চূড়ান্ত হবে।’’