ব্রতীন দাস: গনিখান চৌধুরী, মৃত্যু ২০০৬ সাল। প্রিয়রঞ্জন দাশমুন্সি, মৃত্যু ২০১৭। কিন্তু প্রয়াণের এত বছর পরও তাঁরা আছেন রাজনীতির ময়দানে। ভোট এলে ফিরে আসেন দু’জনেই। এবারও গৌড়বঙ্গে বিশেষ করে মালদহ ও উত্তর দিনাজপুরে ভোট বৈতরণী পার হতে গনি-প্রিয় আবেগই একমাত্র সম্বল কংগ্রেসের। বরকত সাহেবের অসম্পূর্ণ কাজ কিংবা প্রিয় দা’র অধরা স্বপ্নকে বাস্তবায়িত করার আশ্বাস দিয়েই ভোটের ময়দানে নামতে কোমর বাঁধছে হাত শিবির। কিন্তু তারপরও লক্ষপূরণ নিয়ে খটকা রয়ে যাচ্ছে কংগ্রেসের অন্দরে। আর তাই রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধীকে প্রচারে এনে নিজেদের মরা গাঙে জোয়ার আনার চেষ্টায় কংগ্রেস মরিয়া। এনিয়ে দিল্লিতে জোর দরবার চালাচ্ছে প্রদেশ কংগ্রেসের পাশাপাশি মালদহের কোতোয়ালি পরিবার। সম্প্রতি তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে কংগ্রেসে ফিরে আসা মৌসম বেনজির নুর স্বীকার করে নিয়েছেন, মালদহে ভোটের হাওয়া ঘোরাতে আজও গনি আবেগই ভরসা। তাছাড়া রাহুল-প্রিয়াঙ্কার প্রচারে আসাও জরুরি। দিল্লিতে গিয়ে এব্যাপারে তিনি যে বারবার আর্জি জানাচ্ছেন, তা নিয়েও রাখঢাক রাখেননি মৌসম। বলেন, ‘আমি একাধিকবার দিল্লিতে গিয়ে রাহুল গান্ধী ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধীকে মালদহে প্রচারে আসার জন্য অনুরোধ জানাচ্ছি। বিশেষ করে প্রিয়াঙ্কাকে আসতে বলছি। ওঁর প্রতি মহিলাদের একটা আবেগ রয়েছে। এটাকে ভোটবাক্সে কাজে লাগাতে চাই।’
অন্যদিকে, উত্তর দিনাজপুরে প্রিয়রঞ্জনকে ছাড়া ভোট করানো যে সম্ভব নয়, তা মানছেন কংগ্রেসের জেলা সভাপতি মোহিত সেনগুপ্ত। তাঁর কথায়, ‘প্রার্থী যাঁরাই হোন না কেন, আমাদের জেলায় প্রিয় দা’ই মুখ। তিনি এই জেলার জন্য যা করেছেন, আর কেউ পারেননি।’ বামেদের হাত ছেড়ে গৌড়বঙ্গে ভালো ফলের আশায় প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি শুভঙ্কর সরকার। দলের ইস্তাহারে উত্তরবঙ্গে আইটি হাব, ক্রীড়া বিশ্ববিদ্যালয় সহ গুচ্ছ প্রতিশ্রুতি রাখছেন তাঁরা। শুভঙ্করের আশ্বাস, কেন্দ্রে কংগ্রেস ক্ষমতায় এলে প্রিয় দা যেখানে চেয়েছিলেন, সেখানেই এইমস হবে।
যদিও ভোটবাক্সে এসবে কোনো লাভ হবে না, বলছেন তৃণমূল কংগ্রেসের মালদহের জেলা সভাপতি আব্দুর রহিম বক্সি। তিনি বলেন, কংগ্রেস যতই রাহুল-প্রিয়াঙ্কাকে প্রচারে নিয়ে আসার চেষ্টা করুক না কেন, মানুষ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন সরকারের উন্নয়ন দেখছেন। এবার ভোটেও মালদহে কংগ্রেস শূন্যই থাকবে।
গনি খানের দুই ভাই আবু হাসেম খান চৌধুরী (ডালু) ও আবু নাসের খান চৌধুরী (লেবু) বয়সের ভারে অসুস্থ। গনির একদা গড় রক্ষায় হাল ধরার মরিয়া চেষ্টায় ডালুপুত্র ইশা খান চৌধুরী। বাবার মালদহ দক্ষিণ কেন্দ্রে গত লোকসভা নির্বাচনে জিতে সাংসদ হন তিনি। কিন্তু মৌসম তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ হতেই ভাগ হয়ে যায় কোতোয়ালি পরিবার। সাত বছর পর ভোটের মুখে মৌসমের ঘর ওয়াপসি অবশ্য ভালোভাবে নিচ্ছেন না কংগ্রেস কর্মীদের একাংশ। বৈষ্ণবনগরে কংগ্রেসে ভাঙন ধরেছে। তাছাড়া নতুন প্রজন্মের ভোটাররা গনিখানকে দেখেননি। ফলে তাঁদের স্মৃতি কিংবা আবেগে নেই বরকত সাহেব। তাঁরা পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে ভোট দিতে চান। উত্তর দিনাজপুরেও প্রিয় দা’র গড় কালিয়াগঞ্জে প্রায় নিশ্চিহ্ন কংগ্রেস। মোহিত রায়গঞ্জে আর আলি ইমরান রমজ ওরফে ভিক্টর গোয়ালপোখর ও চাকুলিয়ায় হাত শিবিরের অস্তিত্ব প্রমাণে মরিয়া।