চক্ররেল, মেট্রোরেলের দাবি শিলিগুড়িতে, শহরের সম্প্রসারণ অত্যন্ত জরুরি, মানলেন মেয়র
বর্তমান | ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, শিলিগুড়ি: শিলিগুড়ি শহর সম্প্রসারণ অত্যন্ত জরুরি। রবিবার তৃণমূল কংগ্রেস পরিচালিত শিলিগুড়ি পুরসভার বর্তমান বোর্ডের চতুর্থ বর্ষ পূর্তি অনুষ্ঠানে একথা বলেন মেয়র গৌতম দেব। একই সঙ্গে তাঁর আক্ষেপ, এখানে তৃণমূলের এমপি ও এমএলএ নেই। খণ্ডিত ক্ষমতার মধ্যেই চার বছরে এখানে হাজার হাজার কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হয়েছে। কেন্দ্রের বিরুদ্ধে অসহযোগিতার অভিযোগ তুলেও উন্নয়নের স্বাদ বদলের চেষ্টা করছেন বলে দাবি মেয়রের। বিধানসভা ভোটের মুখে শহরের উন্নয়ন নিয়ে মেয়রের এমন বক্তব্য ঘিরে রাজনীতির আঙ্গিনায় জোর চর্চা শুরু হয়েছে।
২০২২ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি পুরসভার বোর্ড গঠন করে তৃণমূল। সেজন্য এদিন দীনবন্ধু মঞ্চে বোর্ডের চতুর্থ বর্ষ পূর্তি তথা বার্ষিক সাধারণ সভা করা হয়। শহরের যানজট সমস্যা নিয়ে সরব হন ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের এক নাগরিক। তিনি বলেন, দৈনিক অফিস টাইমে শহরের হিলকার্ট রোড, বিধানরোড, বর্ধমান রোড সহ অধিকাংশ রাস্তা যানজটে জেরবার হয়ে পড়ছে। তাছাড়া, রাজ্যের দ্বিতীয় বৃহত্তম এই শহরে মেট্রোরেল এবং চক্ররেল পরিষেবা জরুরি।
জবাবে মেয়র বলেন, এই শহরের সবচেয়ে বড় সমস্যা ট্রাফিক। তা মেটাতে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নেওয়া হচ্ছে। তবে জনসংখ্যার চাপ ক্রমবর্ধমান। তাই শহর সম্প্রসারণ করা জরুরি। এজন্য ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ি এবং মাটিগাড়ার কিছুটা অংশ নিতে হবে। আমি মন্ত্রী থাকাকালীন ফুলবাড়িতে প্ল্যান মাফিক কিছু রাস্তা, সেতু করেছি। বর্তমানে শহর বাড়ানোর বিষয়ে আইআইটি খড়গপুরকে দিয়ে সার্ভে করাচ্ছে এসজেডিএ।
এখানেই থামেননি মেয়র। কিছুটা আক্ষেপের সুরে বলেন, মেট্রোরেল, চক্ররেল পুরসভার এক্তিয়ারের মধ্যে পড়ে না। এব্যাপারে ইচ্ছে থাকলেও কিছু করার নেই। কারণ, ২০২২ সালে এখানে খণ্ডিত ক্ষমতা পেয়েছি। শুধুমাত্র পুরসভার পেয়েছি। এমপি ও এমএলএ আমাদের নেই। তবে ২০০৯ সালে শহরের পরিবহণ ব্যবস্থা চাঙা করতে উদ্যোগী হয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আমাদের দাবি মতো তিনি রেলমন্ত্রীকে দিয়ে এনজেপি থেকে বাগডোগরা পর্যন্ত রেল বাস পরিষেবা চালু করেছিলেন। তা বাতাসি পর্যন্ত বাড়ানো এবং আমবাড়ির সঙ্গে যুক্ত করার প্রস্তাব কার্যকর হয়নি। সেই পরিষেবাও বন্ধ। দার্জিলিং মেলকে এনজেপি থেকে সরিয়ে হলদিবাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। বর্ধমান রোড উড়ালপুলের নির্মাণ কাজ পূর্তদপ্তর শেষ করলেও রেল কর্তৃপক্ষ এখন তা করেনি। এসবই কেন্দ্রীয় অসহযোগিতা।
সভায় নাগরিকদের কেউ বয়স্কদের জন্য ১০ বেডের হোম, শহরের পার্কিংজোন ও নতুন রাস্তা তৈরির দাবি করেছেন। মেয়র বলেন, হোমের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করব। তবে, বয়স্কদের সহায়তা করতে একটি করে কার্ড দেওয়া হচ্ছে। ১৭০কোটি টাকায় হিলকার্ট রোডের সমান্তরাল রাস্তা তৈরির প্রকল্প রাজ্যের কাছে পাঠানো হয়েছে। নিবেদিতা রোড সংস্কার করছি। তবে শহরে প্রচুর সমস্যা আছে। আমি নিজেও সন্তোষজনক জায়গায় পৌঁছতে পারিনি। সভায় মেয়র ছাড়াও ডেপুটি মেয়র রঞ্জন সরকার সহ মেয়র পরিষদ সদস্য, কাউন্সিলার ও আধিকারিকরা হাজির ছিলেন। তবে নাগরিকদের উপস্থিতির হার ছিল কম। পাল্টা পুরসভার বিরোধী দলনেতা বিজেপির অমিত জৈন বলেন, নিজের ব্যর্থতা আড়াল করতেই কেন্দ্রের বিরুদ্ধে অভিযোগ করছেন মেয়র।