নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: নিজের অজান্তেই তাঁর নথি ব্যবহার করে ব্যাংকে মোট ৩৭টি অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছে। বেশ কয়েকটি অ্যাকাউন্ট থেকে লোনও নেওয়া হয়েছে। সাবমার্সিবল পাম্প বসানোর জন্য একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের খোদামবাড়ি শাখায় গিয়ে এমনই অবাক করা তথ্য জেনে আকাশ থেকে পড়ার জোগাড় নন্দীগ্রাম-২ ব্লকের ঘোলপুকুরিয়ার সত্যজিৎ মাইতির। তিনি পেশায় একজন সেনা জওয়ান। তাঁর অজান্তে তাঁরই নথির ব্যবহার করে এভাবে অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছে। বেশ কয়েকটি লোন নেওয়ায় তাঁর সিবিল স্কোর ভীষণ খারাপ। তাই এই মুহূর্তে লোন সম্ভব নয় বলে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ তাঁকে জানিয়েছে। শনিবার ওই সেনা জওয়ান তমলুকে সাইবার ক্রাইম থানার দ্বারস্থ হন।
২০১৯ সালে সেনাবাহিনীর চাকরি পেয়েছেন ঘোলপুকুরিয়ার সত্যজিৎ মাইতি।
বাড়িতে পানীয় জলের সমস্যা। তাই একটি সাবমার্সিবল পাম্প বসানোর জন্য ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা ঋণ নিতে চারদিন আগে খোদামবাড়ির ওই ব্যাংকের শাখায় গিয়েছিলেন। সেখানে লোনের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য যাচাই করতে গিয়ে দেখা যায়, ওই সেনা জওয়ানের সিবিল স্কোর খুব খারাপ। এপর্যন্ত তাঁর নামে মোট ৩৭টি অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছে। বেশকিছু অ্যাকাউন্ট ব্যাংকে খোলা। কিছু অ্যাকাউন্ট অর্থলগ্নি সংস্থায় খোলা। ওইসব অ্যাকাউন্টে ছ’টি ফোন নম্বর যুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া, চারটি ইমেল আইডি ব্যবহার করা হয়। এই মুহূর্তে ৩৫টি অ্যাকাউন্ট বন্ধ। বাকি দু’টি অ্যাকাউন্টে প্রায় আড়াই লক্ষ টাকার লোন রয়েছে। কীভাবে এই ঘটনা ঘটল, তা সত্যজিৎবাবু বুঝতে পারছেন না। তবে, তাঁর পরিচয়পত্র ব্যবহার করেই ৩৭টি অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছে বলে তাঁকে জানানো হয়েছে।
শনিবার নন্দীগ্রামের বাড়ি থেকে তমলুক সাইবার ক্রাইম থানার খোঁজ করে প্রথমে জেলাশাসক অফিসে চলে আসেন ওই সেনা জওয়ান। তারপর পুলিশ সুপারের অফিস চত্বরে অবস্থিত সাইবার ক্রাইম থানায় যান। সেখানে গোটা ঘটনা খুলে বলেন।
সত্যজিৎবাবু বলেন, আমার আধার, ভোটার ও প্যানকার্ড ব্যবহার করে অজানা ব্যক্তিরা ঢালাও অ্যাকাউন্ট খুলেছে। তারপর লোন নিয়েছে। সেইসব অ্যাকাউন্টে আমার নম্বর দেওয়া ছিল না। অন্য ফোন নম্বর ও ইমেল অ্যাড্রেস দেওয়া ছিল। কীভাবে এই ঘটনা ঘটল, সেবিষয়ে তদন্ত হওয়া জরুরি। তাই সাইবার ক্রাইম থানার দ্বারস্থ হয়েছি।
সম্প্রতি অনেক ব্যাংক গ্রাহক সাইবার ক্রাইম থানায় আসছেন। তাঁদের বক্তব্য, অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করা আছে। সাইবার ক্রাইম থানার পুলিশ সেইসব অ্যাকাউন্টের তথ্য খতিয়ে দেখে জানতে পারে, সাইবার প্রতারণার ঘটনায় অ্যাকাউন্টগুলি ব্যবহার করা হয়েছে। যেকারণে বিভিন্ন রাজ্যের পুলিশ ওইসব অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করে দিয়েছে। কীভাবে সাধারণ মানুষের অ্যাকাউন্ট সাইবার প্রতারকদের কাছে পৌঁছাল, সেটা অজানা। কিন্তু প্রতিদিন এরকম গ্রাহকদের ভিড় বাড়ছে সাইবার ক্রাইম থানায়। তবে, নন্দীগ্রামের সেনা জওয়ান সত্যজিৎ মাইতির ঘটনা অভিনব। কীভাবে এই ঘটনা ঘটল তা তদন্ত হলে জানা যাবে।