• সাদা হাতি পোষা! বহিরাগত প্রতি নেতার বিলাসে বঙ্গ বিজেপির মাসে খরচ ২ লক্ষ
    বর্তমান | ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • সুখেন্দু পাল, বর্ধমান: ভিন রাজ্যের নেতাদের জন্য দামি গাড়ি, নামী হোটেলের বন্দোবস্ত। প্রতি মাসে মাথাপিছু খরচ? প্রায় দু’লক্ষ টাকা! প্রতিটি বিধানসভা কেন্দ্রে ভিন রাজ্যের তিন থেকে পাঁচজন নেতা ‘বিশেষ দায়িত্বে’ এসেছেন। তাঁদের বিলাসব্যসন বজায় রাখতেই এলাহি আয়োজন করতে হচ্ছে বঙ্গ বিজেপিকে। আর এই সব নেতার জন্য বিপুল টাকা বরাদ্দ হওয়ায় দলের অন্দরেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। বুথপিছু খরচ না বাড়িয়ে কেন ভিন রাজ্যের নেতাদের জন্য মোটা টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে? কয়েক দিন আগে দলের এক বৈঠকেও বিষয়টি ওঠে। কয়েকটি জেলার নেতারা সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, বহিরাগত নেতাদের পিছনে পড়ে থাকার দরকার নেই। তাঁদের জন্য দল যথেষ্ট খরচ করছে। তাঁরা সাংগঠনিক কাজে যখন যে সহযোগিতা চাইবেন, সেটা দিতে হবে। তবে, তাঁদের ঘনিষ্ঠ হওয়ার দরকার নেই। গুরুত্ব বাড়ানোর জন্য তাঁদের সঙ্গে ছবি পোস্ট করারও প্রয়োজন নেই।

    এই নিদানও যে ঠেকায় পড়েই, তা নিয়ে গুঞ্জন চলছে বঙ্গ বিজেপির অন্দরে। ভোট আসন্ন। এই পরিস্থিতিতে সংগঠনের বদলে যাবতীয় মনোযোগ যদি বহিরাগত অবাঙালি নেতাদের দিকে চলে যায়, তা বাংলার ভোট টানার জন্য খুব উপকারী হবে না।

    দলের এক নেতা বলছিলেন, ‘বিধানসভা কেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা নেতাদের জন্য আলাদা গাড়ির ব্যবস্থা করতে হবে। তাঁরা কোন ব্র্যান্ডের গাড়িতে চড়বেন, সেটা নিজেরাই ঠিক করে দিচ্ছেন। শহরের নামী হোটেলে থাকার ব্যবস্থা করতে হচ্ছে। তবে, অন্য বিস্তারক বা প্রবাসীরা কোথাও ঘরভাড়া নিয়ে, বা পার্টি অফিসে থাকছেন। তাঁদের জন্য‌ তেমন বাড়তি খরচ হচ্ছে না। বিধানসভা কেন্দ্রে যাঁদের বাড়তি দায়িত্ব দিয়ে পাঠানো হয়েছে, তাঁদেরই শুধু কদর অন্য রকম। তাঁরা সবাই নিজেদের রাজ্যে সংগঠনের বড়ো পদে রয়েছেন। কেউ কেউ প্রাক্তন মন্ত্রীও। ২৯৪ কেন্দ্রে তিনজন করে দায়িত্বে থাকলে সংখ্যাটা দাঁড়ায় ৮৮২। অর্থাৎ মাসে খরচ হচ্ছে ১৭ কোটি ৬৪ লক্ষ টাকা। সংখ্যাটা আরও বাড়তে পারে। কিন্তু কমবে না।’ বিজেপি নেতা প্রধানচন্দ্র পাল বলেন, ‘বুথকর্মীদের প্রাধান্য দেওয়া দরকার। তাঁরাই তো দলের মেরুদণ্ড। সর্বভারতীয় দলে অন্য রাজ্যের নেতারা এখানে প্রচারের জন্য আসতেই পারেন। কিন্তু স্থানীয় কর্মী ছাড়া তাঁরা এগতে পারবেন না।’

    তবে, বহিরাগত নেতাদের জন্য বিপুল টাকা খরচের পরও লাভ কতটা হবে, তা নিয়ে দলের অনেকেই সংশয়ে। বিজেপির আর এক নেতা বলেন, ‘বুথে কর্মসূচির জন্য‌ খরচ দিতে হলে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব নানা অঙ্ক কষে। তা ঠিকমতো খরচ হচ্ছে কি না, তা নিয়ে চুলচেরা বিশ্লেষণ চলে। কিন্তু বাইরের নেতাদের জন্য বিপুল পরিমাণ টাকা খরচ করতে তাদের বাধছে না! জেলার নেতা, কর্মীদের জন্য বাইকের তেল খরচও নেতৃত্ব দিতে চায় না। আর বহিরাগত নেতারা আলাদা বিলাসবহুল গাড়ি চড়ছেন। তাঁদের চায়ের খরচ থেকে জলের বোতল—সবকিছুরই দাম নেতৃত্ব মেটাচ্ছে।’
  • Link to this news (বর্তমান)