• বর্ধমানে ফের শুরু হয়েছে জমি মাফিয়াদের দৌরাত্ম্য, নির্বিচারে চলছে জলাশয় ভরাট
    বর্তমান | ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: বর্ধমান শহরে ফের জমি মাফিয়াদের দৌরাত্ম্য শুরু হয়েছে। তারা নীরবে জলাভূমি ভরাটের কাজ শুরু করেছে। বর্ধমানের গোদার ২৬ নম্বর ওয়ার্ডে হেল্থ সিটির কাছে সেচখালের দু’পাশ প্রাচীর দিয়ে ঘিরে দেওয়া হয়েছে। সামান্য কিছু অংশে জল রয়েছে। বিশর বাঁধ জলাশয়ও আবর্জনা ফেলে ভরাটের কাজ চলছে। প্রতিদিনই অল্প অল্প করে আবর্জনা খালের মধ্যে ফেলা হচ্ছে। স্থানীয়দের দাবি, এই দুটি জলাশয় গোদা এলাকায় নিকাশি ব্যবস্থার ‘লাইফ লাইন’। এলাকার জল ওই খাল দু’টিতে পড়ে। তা সম্পূর্ণ ভরাট হয়ে গেলে নিকাশি ব্যবস্থা বেহাল হয়ে পড়বে। বর্ষার সময় এলাকা প্লাবিত হবে বলে স্থানীয়দের দাবি। জমি মাফিয়াদের নজর রয়েছে ঢলদিঘি এলাকার একটি পুকুরের দিকে। সেখানেও তারা ‘সাইলেন্ট অপারেশন’ শুরু করেছে বলে অভিযোগ। এর আগেও একাধিকবার ওই পুকুরটি ভরাটের চেষ্টা হয়েছিল। প্রশাসনের হস্তক্ষেপে তারা পিছু হটে।

    এলাকার বাসিন্দারা বলেন, গোদা এলাকায় জমি মাফিয়ারা সব থেকে বেশি বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। স্থানীয়রা তাদের ভয়ে সিঁটিয়ে রয়েছেন। কংগ্রেস নেতা গৌরব সমাদ্দার বলেন, তৃণমূল নেতাদের ইন্ধনেই জলাশয় ভরাট চলছে। সেচখাল, নদী, বাঁকা কোনও কিছুই ভরাট করতে তারা পিছু হটছে না। হাতে গোনা আর কয়েকটি জলাশয় রয়েছে। সেগুলিও হয়তো কিছুদিনের মধ্যে ভরাট হয়ে যাবে। তাতে শাসক দলের নেতারা লাভবান হলেও আগামী প্রজন্মকে এর খেসারত দিতে হবে। এমনিতেই একদিন ভারী বৃষ্টি হলেই বর্ধমান শহর জলমগ্ন হয়ে পড়ে। আগামী দিনে সব বাড়িতে জল ঢুকে যাবে। গোদার এক বাসিন্দা বলেন, এলাকার প্রভাবশালীদের মদতেই জলাশয় ভরাট চলছে। সেই কারণেই সেচখালের পাশে প্রাচীর দিয়ে ঘিরে দেওয়া হয়েছে। এলাকায় এর আগেও একাধিক জলাশয় ভরাট করা হয়েছে। অন্য‌ জলশয়গুলিতে প্রতিদনই পুরসভার আবর্জনা ফেলা হচ্ছে। সেগুলি ভরাট হয়ে গেলে প্লটিং করে বিক্রি করে দেওয়া হবে। গোদা এলাকায় সিন্ডিকেটের বাইরে গিয়ে জমি কেনাবেচা দায়। তৃণমূলের অবশ্য দাবি, এই ঘটনায় তাদের কেউ জড়িত নয়। যে বা যারা জড়িত রয়েছে তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসন পদক্ষেপ নেবে। তৃণমূল নেতা দেবু টুডু বলেন, কেউ জলাশয় ভরাট করলে প্রশাসন পদক্ষেপ নেবে। দল কখনই কোনও অনিয়ম সমর্থন করে না। বর্ধমান পুরসভার চেয়ারম্যান পরেশচন্দ্র সরকার বলেন, পুকুর বা জলাশয় ভরাট নিয়ে যখনই আমাদের কাছে অভিযোগ এসেছে তখনই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। পুকুর ভরাটকারীদের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করা হয়েছে। এছাড়া ভরাট হওয়া অংশ থেকে মাটি তোলা হয়েছে। গোদার বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একটি পুকুরও ভরাট করতে দেওয়া যাবে না। প্রয়োজনে আমাদের আধিকারিকরা এলাকা পরিদর্শনে যাবেন। • বর্ধমানের গোদা ছাব্বিশ নম্বর ওয়ার্ডে সেচ ক্যানেলের জায়গা পাঁচিল দিয়ে ঘিরে ফেলা হয়েছে।
  • Link to this news (বর্তমান)