সাইবার প্রতারণায় অ্যাকাউন্ট ভাড়া! ভাটপাড়া থেকে অ্যাকাউন্ট হোল্ডারকে গ্রেপ্তার
বর্তমান | ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, তমলুক: সাইবার প্রতারকদের অ্যাকাউন্ট ভাড়া দেওয়ার অভিযোগে তমলুক সাইবার ক্রাইম থানার পুলিশের হাতে ভাটপাড়ার এক যুবক ধরা পড়েছে। ধৃতের নাম কুণাল মুখোপাধ্যায়। তার অ্যাকাউন্টে প্রতারণার ১৫লক্ষ টাকা ঢোকে। সেই টাকা তুলেও নেওয়া হয়। শনিবার রাতে ওই যুবককে ভাটপাড়া থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। রবিবার ধৃতকে পূর্ব মেদিনীপুর সিজেএম কোর্টে তোলা হলে বিচারক ছ’দিনের পুলিশি হেপাজত মঞ্জুর করেন। সরকারি আইনজীবী সফিউল আলি খান বলেন, ধৃতের অ্যাকাউন্টে সাইবার প্রতারণার টাকা ঢোকার ঘটনা ঘটেছে। তার জামিনের আবেদন খারিজ করে বিচারক পুলিশ কাস্টডিতে পাঠিয়েছেন।
উল্লেখ্য, গত ২৮জানুয়ারি হলদিয়া ভবানীপুর থানার বসানচকের চিন্ময় পাত্র ৬৩ লক্ষ টাকা সাইবার প্রতারণার ঘটনায় তমলুক সাইবার ক্রাইম থানায় এফআইআর করেন। নিজের ইলেকট্রনিক্স সরঞ্জামের ব্যবসা আছে। তাঁকে ইলেকট্রনিক্স সরঞ্জাম সরবরাহ করার টোপ দেয় রাজা নামে এক দালাল। ভরসা করেই ২৪আগস্ট ও ২৮আগস্ট ইলেকট্রনিক্স সরঞ্জাম অর্ডার করেছিলেন ওই ব্যবসায়ী। দালালের পাঠানো দু’টি অ্যাকাউন্ট নম্বরে ওই ব্যবসায়ী ৬৩লক্ষ টাকা পাঠিয়ে দেন। কিন্তু, প্রতিশ্রুতি মতো সরঞ্জাম না আসায় চিন্ময় পাত্রের সন্দেহ হয়। তিনি সেই দালালের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হন। প্রতারিত হয়েছেন জানতে পেরে ১৬ডিসেম্বর ন্যাশনাল সাইবার ক্রাইম থানায় এফআইআর করেন। এরপর ২৮জানুয়ারি তমলুক সাইবার ক্রাইম থানায় এফআইআর করেন। সোশ্যাল মনিটরিং সেলের অফিসার ইনচার্জ দিলীপকুমার গুপ্ত ওই ঘটনার তদন্ত করছেন।
হলদিয়ার ওই ব্যবসায়ীর ৬৩লক্ষ টাকা প্রতারণা মামলায় জোড়া অ্যাকাউন্টের সূত্র ধরে পুলিশ তদন্ত শুরু করে। অ্যাকাউন্ট হোল্ডারের পরিচয় খুঁজতে গিয়েই ভাটপাড়ার বাসিন্দা কুণাল মুখোপাধ্যায়ের নাম সামনে আসে। তদন্তকারী অফিসারের নেতৃত্বে একটি টিম ভাটপাড়া গিয়ে কুণালকে গ্রেপ্তার করে। তার অ্যাকাউন্টে ওই সাইবার প্রতারণায় ১৫লক্ষ টাকা ঢুকেছিল এবং সেই টাকা দফায় দফায় সরানো হয়েছে বলে পুলিশ জানতে পেরেছে। আপাতত ওই অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ করা হয়েছে। পাশাপাশি কুণালকে জেরা করে ওই কেসের সঙ্গে আরও কারা জড়িত সেটা বের করতে চাইছেন সাইবার ক্রাইম থানার অফিসাররা।
অনেক সময় সাইবার প্রতারকরা প্রতারণার টাকা সরাতে নিরীহ ব্যক্তিদের অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে। আবার, সাইবার প্রতারকদের অ্যাকাউন্ট ভাড়া দেওয়ার ঘটনাও হামেশাই ঘটে। প্রতারণার টাকা সরানোর জন্য ওইসব অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করা হয়। কুণাল নিজের অ্যাকাউন্ট ভাড়া দিয়েছিল বলে পুলিশ জেনেছে। তাই তাকে জেরা করা প্রয়োজন। সেজন্য ধৃতকে ছ’দিনের পুলিশি হেপাজতে নিয়ে আরও তথ্য পেতে চাইছেন তদন্তকারী অফিসাররা।