জেলার ২২টি বিধানসভায় নথি যাচাইয়ের দায়িত্বে ১০ বিচারক
বর্তমান | ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, বহরমপুর: মুর্শিদাবাদের সাড়ে চার লক্ষ ভোটারের নথি পুনরায় যাচাই করতে হবে। অর্থাৎ, জেলার এত ভোটার এখনও সন্দেহজনক! তাঁদের দেওয়া নথিতে সন্তুষ্ট নয় নির্বাচন কমিশন। সে কারণেই সেগুলি রিভিউয়ের জন্য পাঠানো হচ্ছে। এসআইআরের নিষ্পত্তিতে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটদের মাঠে নামাতে নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। মুর্শিদাবাদ জেলায় বিচারকদের তালিকা প্রকাশ করে একটি চূড়ান্ত বৈঠক করা হয়। রবিবার বহরমপুরের সার্কিট হাউসে সেই বৈঠকে হাজির ছিলেন জেলাশাসক নীতিন সিংহানিয়া, পুলিশ সুপার ধৃতিমান সরকার, জেলা ও মহকুমা আদালতের বিচারকরা। ম্যারাথন বৈঠকের পর বিচারকরা এদিনই জেলা প্রশাসনের আধিকারিকদের সঙ্গে বিডিও অফিস পরিদর্শন করেন। কীভাবে এসআইআরের কাজ হয়েছে, তা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে জেনে নেন। এক একজন ভোটারের সমস্ত নথি যাচাই করতে অন্তত ১০ মিনিট করে সময় লাগবে। কী করে এত নথি যাচাই হবে, তা নিয়ে চিন্তায় সকলে।
এদিনের বৈঠকে হাজির ছিলেন ১০ জন বিচারক। জেলার ২২টি বিধানসভার ভোটারদের নথি যাচাই করবেন তাঁরা। অর্থাৎ প্রতি দুই বিধানসভা পিছু একজন করে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ করা হচ্ছে। দুজনের ভাগে তিনটি বিধানসভার দায়িত্ব পড়তে পারে। তবে এই বিভাজন ভৌগোলিক দূরত্ব বিচার করে হবে, নাকি বিধানসভা ভিত্তিক ফর্মের সংখ্যা অনুসারে হবে, তা রবিবার বিকেল পর্যন্ত চূড়ান্ত হয়নি।
কারণ মুর্শিদাবাদে এমন কিছু বিধানসভা আছে, যেখানে কম সংখ্যক ভোটারের নথি পুনরায় যাচাই করতে হবে। আবার ভৌগোলিক দূরত্ব হিসেবে দেখা গেলে পাশাপাশি তিনটে বিধানসভায় অনেক সংখ্যক নথি যাচাই করতে হতে পারে। সে ক্ষেত্রে একজন বা দুজন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের উপর অতিরিক্ত চাপ পড়তে পারে।
তবে জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রতিটি বিধানসভায় বিডিও অফিসেই হিয়ারিংয়ের প্রধান কেন্দ্র করা হয়েছে। যে সমস্ত বিধানসভায় দু’টি ব্লক কিংবা ব্লকের পাশাপাশি পুরসভা আছে সেখানেও একটি বিডিও অফিসকে মূল এসআইআরের অফিস হিসেবে তৈরি রাখা হচ্ছে। সেখানেই সোমবার থেকে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটরা বসতে পারেন।
জেলা প্রশাসনের এক আধিকারিক বলেন, এদিন সকলে উপস্থিত থেকে কীভাবে পরবর্তী পর্যায়ের এসআইআরের নথি রিভিউ করা হবে, তা নিয়ে আলোচনা হল। ২২টি বিধানসভার মোট সাড়ে চার লক্ষ নথি খুঁটিয়ে পরীক্ষা করতে বেশ কিছুটা সময় লাগবে। কারণ একেক জন জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটকে গড়ে অন্তত ৪৫ হাজার করে নথি যাচাই করতে হবে। এদিন বৈঠক শেষে আমরা বহরমপুর ব্লকের হিয়ারিং ক্যাম্পে নিয়ে গিয়েছিলাম জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটদের। সেখানে গোটা প্রক্রিয়া দেখানোর পর যেটা দেখা গেল, এক একটি ফর্মের সঙ্গে থাকা নথি যাচাই করতে অন্তত ১০ মিনিট করে সময় লাগবে। হার্ড কপি ও সফট কপি দেখতে হচ্ছে। এরপর আবার যদি ডিসপোজ হওয়া নথি পুনরায় রিভিউ করার নির্দেশ দেয় কমিশন, তাহলে আরও কয়েক লক্ষ নথি রিভিউ করতে হতে পারে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটদের। সে ক্ষেত্রে এই প্রক্রিয়া কবে শেষ হবে তা বলা সম্ভব নয়।