• সকালের তুলনায় সন্ধ্যার অফিস টাইমে মন্থর শহর
    বর্তমান | ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • স্বার্ণিক দাস, কলকাতা: ‘সকালে সেক্টর ফাইভে অফিসে পৌঁছতে সময় লাগে ১ ঘণ্টা। সিগন্যালে কিছু জায়গায় যানজট থাকলেও খুব একটা ভোগায় না। কিন্তু সন্ধ্যায় অফিস থেকে ফিরতে কালঘাম ছুটে যায়। দেড় ঘণ্টারও বেশি সময় লেগে যায় তখন। আর চিংড়িঘাটা-বাইপাস কানেক্টরের জ্যামে আটকালে তো কথাই নেই। ভোগান্তির একশেষ।’

    নিত্যদিনের দুর্ভোগ-কাহিনি শোনাচ্ছিলেন সখের বাজারের শতরূপ দাশগুপ্ত। জেমস লং সরণির কাছেই তাঁর বাড়ি। সন্ধ্যার যানজটে নাকাল হওয়ার এমন অভিজ্ঞতা শুধুমাত্র সেক্টর ফাইভের এই আইটি কর্মীরই নয়। শহরের প্রায় সমস্ত অফিসফেরত যাত্রীর বক্তব্যই কমবেশি এক! বিশ্বজুড়ে ট্রাফিক ব্যবস্থা ও যানজট নিয়ে সমীক্ষা চালানো সংস্থা ‘টমটম’-এর ট্রাফিক সূচকেও তারই প্রতিচ্ছ্ববি। তাদের সমীক্ষা রিপোর্ট বলছে, কলকাতায় সকালের অফিস টাইমের তুলনায় সন্ধ্যার অফিস টাইমে যানবাহনের গতি অনেক শ্লথ। সকালের তুলনায় সন্ধ্যায় প্রায় ১৯ শতাংশ বেশি যানজট তৈরি হচ্ছে। যদিও সকালের অফিস টাইমে শহরের বহু স্কুলের পড়ুয়ারা রাস্তায় থাকে। কিন্তু সন্ধ্যায় অফিস থেকে বাড়ি ফেরার সময় রাস্তায় সেই চাপ থাকে না। স্কুলবাস, পুলকার তখন রাস্তায় থাকে না বললেই চলে। তাহলে সন্ধ্যায় বেশি যানজটের কারণ কী? লালবাজারের দাবি, সন্ধ্যায় অফিস ফেরত যাত্রীদের পাশাপাশি ব্যবসা-বাণিজ্যও বন্ধ হওয়ার সময়। যেকোনো কাজে বাইরে বেরনো লোকজন সন্ধ্যায় ফেরেন। অনেকে আবার সন্ধ্যায় গাড়ি নিয়ে কাছেপিঠে বেরিয়ে পড়েন। সব মিলিয়ে গাড়ির চাপ তৈরি হয়।

    ‘টমটম’ ট্রাফিক সূচক জানাচ্ছে, কলকাতায় সকালের অফিস টাইমে প্রতি ১০ কিমি পেরতে গড়ে ৩৩ মিনিটের কিছু বেশি সময় লাগে। এই সময় শহরের ৬০ শতাংশের বেশি রাস্তায় যানজট লেগে থাকে। যানবাহনের গতি থাকে ঘণ্টায় গড়ে ১৮ কিলোমিটার। সকাল সাড়ে ৮টা থেকে বেলা ১১টা পর্যন্ত এটাই কলকাতার প্রতিদিনের চিত্র (শনি ও রবি বাদে)। দুপুরে কিছুটা ফাঁকা থাকে রাস্তাঘাট। বিকেল ৫টা থেকে রাত সাড়ে ৮টা পর্যন্ত ফের যানজটে নাকাল হওয়া শুরু হয়। এই সময় ১০ কিমি অতিক্রম করতে গড়ে ৩৮ মিনিটের বেশি সময় লাগে। ৮০ শতাংশ রাস্তাই চলে যায় যানজটের কবলে। এই সময় যানবাহনের গড় গতিবেগ কমে হয় ১৫.৮ কিমি প্রতি ঘণ্টা। ওই সমীক্ষায় আরও একটি মারাত্মক তথ্য উঠে এসেছে। কলকাতায় ২০২৫ সালে যানজটের কারণে ১১৩ ঘণ্টা কাজের সময় নষ্ট হয়েছে। ২০২৪ সালের তুলনায় কমেছে শহরে যানবাহনের গড় গতিবেগও। এর জন্য নির্দিষ্ট এলাকায় বছর বছর গাড়িঘোড়ার সংখ্যা বৃদ্ধিকেই দায়ী করছে লালবাজার।
  • Link to this news (বর্তমান)