অলকাভ নিয়োগী, বিধাননগর: বিশ্ববাংলা সরণি যেন অঘোষিত ‘রানওয়ে’! সুযোগ পেলেই ওভারস্পিড। কখনও আবার সিগন্যাল না মেনে হুস করে পেরিয়ে যাওয়া! আইন না মানার প্রবণতা জায়গায় জায়গায়। ভিআইপি রোডের একাধিক পয়েন্টেও একই দৃশ্য। এই অবস্থায় বেপরোয়া গাড়ি-বাইক চালকদের উপর নিয়ন্ত্রণ আনতে নিউটাউনের কয়েকটি স্পটে আগেই চালু হয়েছে স্বয়ংক্রিয় ট্রাফিক চালানের ব্যবস্থা। এবার অন্যান্য জায়গায়ও একইভাবে রাশ টানতে চলেছে বিধাননগর কমিশনারেট। জানা গিয়েছে, নিউটাউনের বিশ্ববাংলা সরণি এবং ভিআইপি রোডের ১৯টি স্পষ্ট চিহ্নিত হয়েছে। প্রতিটি স্পটে বসবে একাধিক অটোমেটিক ক্যামেরা। আইন ভাঙলেই গাড়ি বা বাইকের মালিকের মোবাইলে সরাসরি চলে যাবে ট্রাফিক চালান।
বিধাননগর কমিশনারেট এলাকার মধ্যে নিউটাউনের পাঁচটি জায়গায় অটোমেটিক ক্যামেরায় ট্রাফিক চালানের ব্যবস্থা চালু হয়েছে ২০২৪ সালের আগস্ট মাস থেকে। সাফল্যও এসেছে। সতর্ক হয়েছেন চালকরা। সরকারি নথিতেই সেই প্রমাণ পেয়েছে ট্রাফিক পুলিশ। ওই ব্যবস্থা চালু হওয়ার পর প্রথম মাসেই ৪১ হাজার গাড়ি-বাইকের মালিকের কাছে চালান গিয়েছিল। জরিমানা ধার্য হয়েছিল সব মিলিয়ে প্রায় ৬ কোটি টাকা। বহু চালক চালানের মেসেজ পাওয়ার পর টের পেয়েছেন, নিউটাউনে বসানো অটোমেটিক ক্যামেরায় ধরা পড়ে গিয়েছে তাঁদের জারিজুরি। এরপর স্বভাবতই গাড়ির গতি অনেকটা নিয়ন্ত্রণে আসতে শুরু করে। পরের মাসে অটোমেটিক ক্যামেরায় ছবি ওঠার ভিত্তিতে চালান যায় মাত্র ৪ হাজার গাড়ি-বাইকের নামে।
কমিশনারেটের এক পদস্থ কর্তা বলেন, ‘বেপরোয়া গতি বা সিগন্যাল ভাঙার প্রবণতা বেশি দেখা যায়, এমন ১৯টি গুরুত্বপূর্ণ স্পট চিহ্নিত হয়ে গিয়েছে। এয়ারপোর্ট থেকে লেকটাউন, চিনার পার্ক থেকে সল্টলেক—জায়গায় জায়গায় থাকবে একাধিক অত্যাধুনিক ক্যামেরা। সাংসদ ও বিধায়কের এলাকা উন্নয়ন তহবিলের টাকায় ওই ক্যামেরা বসানো হবে। সেই টাকাও অনুমোদিত হয়ে গিয়েছে।’ সূত্রের খবর, ট্রাফিক পুলিশের জন্য বিভিন্ন ধরনের অটোমেটিক ক্যামেরা রয়েছে। তার মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ হল ‘এএনপিআর’ বা ‘এলপিআর’ ক্যামেরা। এএনপিআর অর্থাৎ ‘অটোমেটিক নম্বর প্লেট রিকগনিশকন’ ক্যামেরা। এই ক্যামেরায় গাড়ির নম্বর প্লেট ‘রিড’ করা যায়। আর এলপিআর হল ‘লাইসেন্স প্লেট রিকগনিশন’। অর্থাৎ যাঁর নামে গাড়ি বা বাইকের রেজিস্ট্রেশন থাকে, নিয়ম ভাঙলে এই ক্যামেরা দিয়ে তাঁর মোবাইল নম্বরে জরিমানার মেসেজ চলে যায়। এছাড়াও রয়েছে, ‘আরএলভিডি’ ক্যামেরা। যাকে বলা হয় রেড লাইট ক্যামেরা। লাল সিগন্যাল ভাঙলেই এই ক্যামেরার মাধ্যমে ‘কেস’ যায়। এছাড়াও রয়েছে ‘স্পিড ক্যামেরা’, ‘পয়েন্ট টু পয়েন্ট’ ক্যামেরা। স্পিড ক্যামেরায় গতি মাপা যায়। দু’টি জায়গার মধ্যে গাড়ির গড় গতি মাপার কাজে ব্যবহৃত হয় ‘পয়েন্ট টু পয়েন্ট’ ক্যামেরা। এরকম নানা ধরনের অত্যাধুনিক ও অটোমেটিক ক্যামেরা বসানো হবে চিহ্নিত স্পটগুলিতে।