পুরসভার বোর্ড উধাও, বেআইনি ভরাটে নিশ্চিহ্ন ১২ কাঠার পুকুর
বর্তমান | ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, হাওড়া: প্রশাসনের কড়া হুঁশিয়ারিকে কার্যত বুড়ো আঙুল দেখিয়ে প্রকাশ্য দিবালোকে চলছে পুকুর বোজানোর কাজ। হাওড়া পুরসভার ৫০ নম্বর ওয়ার্ডের কোনা পর্বতপাড়ায় প্রায় ১২ কাঠা আয়তনের একটি পুকুর ধীরে ধীরে মাটি, পাথর ও রাবিশ ফেলে ভরাট করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে শাসকদল আশ্রিত প্রোমোটারদের বিরুদ্ধে। অভিযোগ, প্রশাসনের নোটিস-সতর্কবার্তা কিছুই তোয়াক্কা করা হচ্ছে না। পরিবেশ আইন ও পুর আইনের স্পষ্ট বিধিনিষেধ থাকা সত্ত্বেও কীভাবে দিনের পর দিন এই কাজ চলছে, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এলাকাবাসী।
স্থানীয়দের দাবি, গত সাত-আট মাস ধরে বেনারস রোড সংলগ্ন শিবমন্দিরের কাছে পরিকল্পিতভাবে পুকুরটি বুজিয়ে ফেলা হচ্ছে। প্রথমদিকে রাতের অন্ধকারে ছোট গাড়িতে করে রাবিশ এনে ফেলা হত। বিষয়টি নজরে আসতেই বাসিন্দাদের একাংশ প্রতিবাদ জানায়। গত জানুয়ারিতে হাওড়া পুরসভার তরফে দু’বার ‘পুকুর ভরাট আইনত নিষিদ্ধ ও দণ্ডনীয়’ লেখা বোর্ড টাঙানো হয়। কিন্তু রাতারাতি সেই বোর্ড উধাও হয়ে যায়। অভিযোগ, এরপর আরও বেপরোয়াভাবে চলে পুকুর ভরাটের কাজ। এখন দিনের আলোতেই ট্রিপারের পর ট্রিপার রাবিশ ফেলা হচ্ছে। বর্তমানে পুকুরটির প্রায় ৯০ শতাংশ ভরাট হয়ে গিয়েছে, জল রয়েছে মাত্র দশ শতাংশে। এলাকাবাসীর আশঙ্কা, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে অচিরেই অস্তিত্ব হারাবে জলাশয়টি।
তাৎপর্যপূর্ণ হল, শাসকদলের ৫০ নম্বর ওয়ার্ডের প্রাক্তন কাউন্সিলার ত্রিলোকেশ মণ্ডল স্বীকার করেছেন, স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্বের একাংশ এই বেআইনি কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত। বাসিন্দাদের দাবির ভিত্তিতে তিনি হাওড়া পুরসভা ও জেলাশাসকের দপ্তরে লিখিত অভিযোগ জানিয়েছেন। তাঁর কথায়, ‘সব দপ্তরে জানিয়েছি। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না। প্রশাসনের হুঁশিয়ারিও মানা হচ্ছে না।’ নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বহু বাসিন্দা জানিয়েছেন, বর্ষাকালে আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকার জল এসে জমত এই পুকুরেই। নিত্যপ্রয়োজনে পুকুরের জল ব্যবহার করতেন তাঁরা। পুকুরটি সম্পূর্ণ বুজে গেলে নিকাশির চরম সমস্যা হবে বলে আশঙ্কা। কেউ কেউ অভিযোগ করেন, প্রতিবাদ করতে গিয়ে শাসানিও শুনতে হয়েছে। ফলে ভয়ে মুখ খুলতে সাহস পাচ্ছেন না অনেকে। শনিবার ফের এলাকায় সতর্কতামূলক বোর্ড টাঙিয়েছে হাওড়া পুরসভা। পুর কমিশনার প্রসেনজিৎ চক্রবর্তী বলেন, ‘চারদিনের মধ্যে পুকুরটিকে আগের অবস্থায় ফেরানোর জন্য নোটিস দেওয়া হয়েছে। অন্যথায় লিলুয়া থানায় ভরাটের সঙ্গে যুক্ত প্রত্যেকের বিরুদ্ধে জামিন অযোগ্য ধারায় এফআইআর দায়ের করা হবে।’