• এবার বসিরহাট, প্রাক্তন বিধায়ক দীপেন্দু বিশ্বাস সহ বিরোধীদের ২৬ নেতা তৃণমূলে
    বর্তমান | ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, বারাসত: বেজে গিয়েছে বিধানসভা নির্বাচনের দামামা। ভোটের আগে দলবদলের ঘটনা নতুন কিছু নয়। এবার বসিরহাট সাংগঠনিক জেলায় বিরোধী শিবিরে ধস নামাল তৃণমূল। বিজেপি, কংগ্রেস ও সিপিএম ছেড়ে তৃণমূলে যোগদান করলেন একঝাঁক নেতা। তালিকায় রয়েছেন ফুটবল তারকা প্রাক্তন বিধায়ক দীপেন্দু বিশ্বাসও। রবিবার দুপুরে তাঁদের হাতে দলীয় পতাকা তুলে দেন তৃণমূলের বসিরহাট সাংগঠনিক জেলার সভাপতি বুরহানুল মুকাদ্দিম ওরফে লিটন। হাজির ছিলেন দলের চেয়ারম্যান সরোজ বন্দ্যোপাধ্যায়, বিধায়ক সপ্তর্ষি বন্দ্যোপাধ্যায়, রবিউল ইসলাম প্রমুখ।

    ভোটমুখী বাংলায় অতীতেও দলবদলের ঘটনা ঘটেছে। সিপিএমের রাজ্য কমিটির সদস্য প্রতীক উর রহমান সম্প্রতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরে তৃণমূলে যোগ দিয়েছেন। তার ২৪ ঘণ্টা কাটতে না কাটতেই এবার চমক দিল বসিরহাট। এবার শাসকদলে প্রত্যাবর্তন করলেন প্রাক্তন জাতীয় ফুটবলার দীপেন্দু বিশ্বাস। দীপেন্দুর রাজনৈতিক জীবনও কম নাটকীয় নয়। ২০১৪ সালে বসিরহাট দক্ষিণের বিধায়ক নারায়ণ মুখোপাধ্যায়ের মৃত্যুর পর উপনির্বাচনে তৃণমূলের প্রার্থী হিসাবে লড়েছিলেন দীপেন্দু। প্রধান প্রতিপক্ষ ছিলেন বিজেপির শমীক ভট্টাচার্য। সেবার জয়ের মুখ না দেখলেও ২০১৬ সালের বিধানসভা ভোটে বসিরহাট দক্ষিণ থেকে তৃণমূলের টিকিটে জয়ী হন তিনি। তবে, রাজনৈতিক সমীকরণ বদলাতে সময় লাগেনি। ২০২১ সালে বিধানসভা নির্বাচনের আগে দল বদলে তিনি যোগ দেন বিজেপিতে। তারপর ধীরে ধীরে তিনি সক্রিয় রাজনীতিতে ব্রাত্য হয়ে পড়েন বলেই মত রাজনৈতিক মহলের। দীর্ঘ জল্পনার অবসান ঘটিয়ে এদিন ফের পুরনো দলে ফেরা প্রসঙ্গে দীপেন্দুর দাবি, এলাকার সার্বিক উন্নয়নের স্বার্থে ও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুপ্রেরণায় আমি আবার ঘরে ফিরলাম। একটি ভুল বোঝাবুঝির কারণে দূরত্ব তৈরি হয়েছিল। এখন সবটাই অতীত। বসিরহাটের মানুষের জন্য কাজ করতে চাই। এইমঞ্চে চমক ছিল আরও। বসিরহাট ১ নম্বর ব্লক কংগ্রেসের সভাপতি আব্দুল কাদের সর্দার এদিন তৃণমূলে যোগ দেন। তিনি বলেন, কংগ্রেসে থেকে মানুষের জন্য কাজ করতে পারছিলাম না। তাই এই সিদ্ধান্ত। এ বিষয়ে তৃণমূলের বসিরহাট সাংগঠনিক জেলার সভাপতি বুরহানুল মোকাদ্দিম বলেন, এদিন বিজেপি, সিপিএম সহ অন্যান্য বিরোধী দলের ২৬ জল প্রথম সারির নেতা আমাদের দলে যোগ দিয়েছেন। প্রত্যেকেই মা-মাটি-মানুষের উন্নয়নে শামিল হতে চেয়েছেন। যাঁরা যোগ দিয়েছেন, তাঁরা পদাধিকারী। যেভাবে বিরোধী দলগুলি এলাকায় নিষ্ক্রিয় হচ্ছে, তাতে এটা স্পষ্ট যে, আগামী দিনে বাংলা ফের মমতাময় হবে।
  • Link to this news (বর্তমান)