পঠনপাঠন ব্যাহত হওয়ার শঙ্কা, কেন্দ্রীয় বাহিনীকে থাকতে দিতে নারাজ বহু স্কুল
বর্তমান | ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, দক্ষিণ ২৪ পরগনা: ১ মার্চ থেকে জেলায় জেলায় ঢুকে যাবে কেন্দ্রীয় বাহিনী। বাহিনীর জওয়ানদের থাকার ব্যবস্থা করতে অনেক আগে থেকেই আসরে নেমে পড়েছিল বিভিন্ন থানা। মূলত বিভিন্ন স্কুলবাড়ি বাহিনীর অস্থায়ী আস্তানা হতে চলেছে। এই অবস্থায় বেঁকে বসেছে বহু স্কুল। জওয়ানদের যেন তাদের স্কুলে না রাখা হয়, সেই আর্জি জানাতে শুরু করেছে একাধিক প্রতিষ্ঠান। এর জন্য পঠনপাঠন ব্যাহত হওয়া ছাড়াও পূর্বের তিক্ত অভিজ্ঞতা, বাড়তি বিদ্যুৎ বিলের মতো একাধিক কারণ তুলে ধরছেন শিক্ষক- শিক্ষিকারা। সোনারপুর, নরেন্দ্রপুর, জয়নগর সহ বিভিন্ন থানা তাদের এলাকার স্কুলগুলির সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। কোথাও চিঠি দিয়ে বাহিনী থাকবে বলে জানানো হয়েছে। কোথাও আবার মৌখিকভাবে জানিয়েছেন পুলিশ আধিকারিকরা।
খেয়াদহ হাইস্কুলের তরফে আগাম প্রশাসনের কাছে আবেদন করা হয়েছে, তাদের যেন এই তালিকায় না রাখা হয়। কর্তৃপক্ষের দাবি, এই স্কুলটি তফসিলি জাতি ও উপজাতি অধ্যুষিত এলাকায় অবস্থিত। এখানে প্রথম প্রজন্মের ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা অনেক। জানুয়ারি মাসে নানা ছুটি ও কর্মসূচির কারণে খুব বেশি পড়াশোনা হয়নি। উচ্চ মাধ্যমিকের সেন্টার হওয়ায় চলতি মাসে ক্লাস বন্ধ রাখতে হয়েছে। তার উপর যদি বাহিনী রাখার জন্য মার্চ থেকেই স্কুল নিয়ে নেওয়া হয়, সেক্ষেত্রে আরও বড়ো সমস্যা হবে। জয়নগরের তসরলা সরবেড়িয়া সনাতন হাইস্কুল কর্তৃপক্ষও বাহিনী রাখার তালিকা থেকে অব্যাহতি দেওয়ার আর্জি জানিয়েছে।
ইতিপূর্বে বাহিনী রাখার ফলে স্কুলের যা হাল হয়েছিল, তা মাথায় রেখেও অনেক কর্তৃপক্ষ ক্যাম্পাস দিতে নারাজ। যেমন, সোনারপুরের পাঁচপোতা বদনচন্দ্র ইন্দুমতী হাইস্কুল। বিগত নির্বাচনে বাহিনীকে ঠাঁই দিতে গিয়ে স্কুলের একাধিক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল বলে দাবি করেছে কর্তৃপক্ষ। তাই এবার তারা গররাজি হয়েছে। নরেন্দ্রপুর থানার বলরামপুর মন্মথনাথ বিদ্যামন্দিরও আপত্তির কথা জানিয়েছে। এছাড়াও আপত্তি জানানোর তালিকায় রয়েছে একাধিক স্কুলের নাম। তবে স্কুল কর্তৃপক্ষ আপত্তি জানালেও তা মান্যতা পাবে কি না, সেটাই বড়ো প্রশ্ন। পুলিশ প্রশাসন জানাচ্ছে, নির্বাচন কমিশন যদি স্কুলেই বাহিনী রাখার নির্দেশ দেয়, তখন কারও কিছু করার থাকবে না।