বি বা দী বাগের ঐতিহ্যময় চেহারা ফেরাতে উদ্যোগ পুরসভার, অপেক্ষা অর্থ বরাদ্দের
বর্তমান | ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: বি বা দী বাগ চত্বরকে তার ঐতিহ্যমণ্ডিত চেহারায় ফিরিয়ে আনার পরিকল্পনা করেছে পুরসভা। মহাকরণ মেট্রো স্টেশন তৈরি হয়ে যাওয়ার পর এই এলাকাকে পুরানো আদলে সাজিয়ে তোলা হবে। তবে এর জন্য প্রয়োজন বেশ কয়েক কোটি টাকা। কিন্তু এখনও বরাদ্দ না আসায় কাজ এগয়নি। কবে সেই বরাদ্দ মিলবে, আপাতত তার জন্যই অপেক্ষা করছে পুরসভা।
এক সময় এই চত্বরে গেলেই নজরে পড়ত ব্রিটিশ আমলের নকশার আদলে কাস্ট আয়রনের রেলিং, সুদৃশ্য বাতিস্তম্ভ, হাতলওয়ালা লোহার বেঞ্চ। এখন অবশ্য সেরকম কিছু খুব একটা নজরে আসে না। সেগুলি নষ্ট বা চুরি হয়ে গিয়েছে। এই অবস্থায় গোটা বি বা দী বাগ, রাজভবনের একাংশে এসব সরকারি আসবাব নতুন করে বসিয়ে গোটা অঞ্চলের পুরানো আদল ফিরিয়ে আনার পরিকল্পনা করেছে কলকাতা পুরসভা। ডিপিআর তৈরি করে পাঠানো হয়েছে নবান্নে। কিন্তু বরাদ্দ আসেনি এখনও।
পুরসভার পরিবেশ ও হেরিটেজ বিভাগ সূত্রে খবর, ব্রিটিশ আমলের চেহারার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সাজানো হয়েছিল গোটা ডালহৌসি স্কোয়্যার। প্রায় ১৮ কোটি টাকা খরচ করে ২০০৬ থেকে ২০০৮ সালের মধ্যে চলে সেই কর্মযজ্ঞ। তখনই কাস্ট আয়রনের রেলিং লাগানো হয়েছিল ফুটপাতজুড়ে। বসানো হয়েছিল কালো রঙের পাথর। তৈরি করা হয়েছিল কাস্ট আয়রনের শিকল লাগানো ছোট ছোট রেলিং, ভিক্টোরিয়ান স্থাপত্যের ছোঁয়াযুক্ত বাতিস্তম্ভ, কাঠ এবং লোহার তৈরি সুদৃশ্য বসার জায়গা। রাইটার্স বিল্ডিং, সেন্ট জোন্স চার্চ, জিপিও সহ লালদিঘির চারপাশে সেই কাজ হয়। রাজভবনের পূর্ব এবং পশ্চিম গেট সংলগ্ন পথেও একইভাবে সৌন্দর্যায়ন হয়েছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে, সেই জিনিসগুলির প্রায় ২৫ থেকে ৩০ শতাংশ গায়েব। বলা ভালো, চুরি হয়ে গিয়েছে। এক বিভাগীয় পুরকর্তা বলেন, ‘অনেক জায়গায় রেলিংগুলি চুরি করা হয়েছে। কাঠের বিশেষ ফ্রেমের উপর কাস্ট আয়রনের বাতিস্তম্ভগুলি বসানো ছিল। সেগুলির বিভিন্ন অংশ উধাও। বেসরকারি বিদ্যুৎ বণ্টন সংস্থা অনেক সময় ফুটপাত খুঁড়ে কাজ করে। তখন ওই পুরনো আমলের কালো পাথরের ব্লকগুলি তুলে ফেলা হয়। কিন্তু তারপর অনেক ক্ষেত্রে আর সেগুলি বসানোই হয়নি। সেগুলি হারিয়ে গিয়েছে। তাই গোটা অঞ্চল নতুন করে সাজানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।’
তবে আধিকারিকরা জানাচ্ছেন, নতুন করে এসব বসানোর পরও চুরি হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তবে এ প্রসঙ্গে মেয়র ফিরহাদ হাকিম আশ্বাস দেন, ওই এলাকায় এই সমস্ত সরকারি সম্পত্তি যাতে চুরি না হয়, তার জন্য পুলিশের নজরদারি বাড়ানোর বিষয়ে তিনি কমিশনারের সঙ্গে কথা বলবেন। কিন্তু, বছরখানেক হয়ে গেলেও এ সংক্রান্ত ফাইলে আর্থিক অনুমোদন আসেনি। ফলে কাজও এগয়নি আর।