নিজস্ব প্রতিনিধি, বিধাননগর: দিন কয়েক আগেই নিউটাউনের সাপুরজিতে ডায়ারিয়ার প্রকোপ দেখা দিয়েছিল। সাপুরজির সুখবৃষ্টি আবাসনের ই-ব্লকের শতাধিক আবাসিক আক্রান্ত হয়েছিলেন তাতে। প্রশানসিক তৎপরতা শুরু হলেও এখনও আগের মতো স্বাভাবিক হয়নি ওই ব্লক। অনেকে আতঙ্কে ফ্ল্যাট ছেড়ে অন্যত্র চলে গিয়েছেন। সাপুরজির ওই ঘটনা সামনে আসার পর নিউটাউনের অন্যান্য আবাসনের আবাসিকরা উদ্বেগে রয়েছেন। ইতিমধ্যেই একটি অভিজাত আবাসনের জলের নমুনায় ‘কলিফর্ম’ ব্যাকটেরিয়া মিলেছে! নিউটাউন অ্যাকশন-১ এরিয়া এলাকার ওই অভিজাত আবাসনে প্রায় আড়াই হাজার আবাসিক রয়েছেন। সকলের মধ্যেই উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। যদিও সেখানে কেউ অসুস্থ হননি। ওই আবাসনে নিজস্ব আন্ডারগ্রাউন্ড বোরিং ওয়াটার রয়েছে। বিকল্প পরিস্রুত পানীয় জলের দাবি তুলেছেন আবাসিকরা।
জানা গিয়েছে, সুখবৃষ্টি আবাসনের ই-ব্লকের অসুস্থ আবাসিকরা এখন ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে উঠছেন। তবে, এখনও আতঙ্ক দূর হয়নি। এই আবাসনে নিউটাউন কলকাতা ডেভেলপমেন্ট অথরিটির (এনকেডিএ) তত্ত্বাবধানে পিএইচই দপ্তর পানীয় জল সরবরাহ করে। এই কাজের জন্য এনকেডিএ কর্তৃপক্ষ পিএইচই দপ্তরকে টাকা দেয়। ডায়ারিয়া সামনে আসার পর ই-ব্লকের রিজার্ভারে জলের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছিল। সেখানে কলিফর্ম ব্যাকটেরিয়া মিলেছিল। তারপর আন্ডারগ্রাউন্ড রিজার্ভার এবং ওভারহেড ট্যাংক পরিষ্কার করা শুরু হয়। নিউটাউনের অ্যাকশন-১ এরিয়ার এই অভিজাত আবাসনটি বিধাননগর পুরসভার অন্তর্গত। তবে, পুরসভা এখানে পানীয় জল সরবরাহ করে না। যেহেতু, পুরসভা এলাকা, তাই সেখানে পানীয় জল সরবরাহ করার এক্তিয়ার নেই এনকেডিএ কর্তৃপক্ষের।
তবুও বিকল্প পানীয় জলের দাবি তুলেছেন আবাসিকরা। রবিবার আবাসনের প্রতিনিধিরা স্থানীয় কাউন্সিলারের সঙ্গে বৈঠকও করেন। সেখানেই নিরাপদ ও পরিস্রুত পানীয় জল সরবরাহের দাবি তোলা হয়েছে। কাউন্সিলার বিষয়টি পুর কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছেন। জানা গিয়েছে, ওই আবাসন ভূগর্ভস্থ উৎস থেকে জল সংগ্রহ করে। তারপর অভ্যন্তরীণ জল পরিশোধন প্লান্টের মাধ্যমে শোধন করে সরবরাহ করে। তবে, ব্যাকটেরিয়া মেলায় সকলের মধ্যেই উদ্বেগ শুরু হয়েছে। তাই বিকল্প পরিস্রুত পানীয় জল সরবরাহের দাবি তুলেছেন আবাসিকরা।