• স্কট লেনে দু’দিকের বদলে একপাশে বাজার, পুর-পদক্ষেপে খুশি স্থানীয়রা
    বর্তমান | ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • নিজস্ব প্রতিনিধি, কলকাতা: এখানে রাস্তা এমনিতেই অপরিসর। সেই রাস্তার দু’ধারে বসে রোজকার বাজার। ক্রেতা-বিক্রেতার ভিড়ে সেখান রাস্তা দিয়ে হাঁটাই দায়। অথচ একাধিক স্কুল-কলেজের পড়ুয়ার এই রাস্তা দিয়ে নিত্য যাতায়াত। চলে গাড়িও। অবস্থা এমন যে দমকলের গাড়ি তো দূরের কথা, অ্যাম্বুলেন্স ঢুকতেও সমস্যা হত। দিনের পর দিন সমস্যায় জেরবার স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে অবশেষে শিয়ালদহের স্কট লেনে রাস্তায় বসা ব্যবসায়ীদের নিয়ন্ত্রণ করল পুরসভা। রাস্তার দু’ধারের বদলে একদিকেই বিক্রেতাদের বসানোর ব্যবস্থা হয়েছে। এর ফলে একদিকে যেমন হাঁটতে-চলতে সুবিধা হচ্ছে পথচারীদের, তেমনই রাস্তাও কিছুটা চওড়া হয়েছে। ফলে গতি বেড়েছে যানবাহনের।

    শিয়ালদহ অঞ্চলের এই স্কট লেনে বাজার অবশ্য আজকের নয়। কয়েক দশক ধরে চলছে। রাস্তাটি খুব একটা চওড়া নয়। তার উপর দু’ধারেই বিক্রেতারা পসরা সাজিয়ে বসায় পরিস্থিতি সঙ্গীন হয়ে উঠেছিল। এই পথ ধরে শর্টকাটে পৌঁছে যাওয়া যায় বঙ্গবাসী কলেজে। কিন্তু বেলা পর্যন্ত বাজার চলায় তাড়াহুড়োর মধ্যে কলেজ পড়ুয়ারা সমস্যায় পড়তেন। তার থেকেও বড় সমস্যা ছিল অ্যাম্বুলেন্স ঢোকার অসুবিধা। কোনো দুর্ঘটনা ঘটে গেলে দমকলের গাড়িও যেতে পারত না। এই অবস্থায় সম্প্রতি মুচিপাড়া থানার সহযোগিতায় স্থানীয় ৪৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার মোনালিসা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্যোগে রাস্তায় বসা বাজারটি দু’ধার থেকে এক ধারে করা হয়েছে। ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলেই তাঁদের রাস্তার একদিকে বসতে বলা হয়। মোনালিসা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, ‘আমাদের পাড়া আমাদের সমাধান কর্মসূচিতে ওই অঞ্চলের অনেকেই এনিয়ে অভিযোগ জানিয়েছিলেন। অপ্রশস্ত রাস্তার দু’ধারে বাজার চললে সত্যিই সমস্যা। এখনও পর্যন্ত কোনোদিন দুর্ঘটনা ঘটেনি। তবুও কোনো অঘটন ঘটে গেলে বিপদ বাড়ত। তাই বিক্রেতা, ব্যবসায়ীদের স্কট লেনের একদিকে বসতে বলা হয়েছে। গোটা বাজারটাই রাস্তার ডান দিকে বসানো হচ্ছে।’ স্থানীয় বাসিন্দা কৌশিক বিশ্বাসের কথায়, ‘ছোটোবেলা থেকেই দেখছি, খোনে বাজার বসছে। তখন অবশ্য রাস্তার একদিকেই দোকানপাট বসত। তারপর আস্তে আস্তে দু’দিকেই বাজার বসা শুরু হয়। গাড়ি নিয়ে যাতায়াতে সমস্যা। বিশেষ করে অফিস টাইমে বাজার ভিড়ে থিকথিক করে। স্বাভাবিক হাঁটাচলা করতেও সমস্যা হতো। বাজারটা এখন একদিকে করে দেওয়ায় রাস্তার এদিকটা পুরো ফাঁকা হয়েছে। এখন রাস্তা অনেক চওড়াও মনে হচ্ছে।’
  • Link to this news (বর্তমান)