বাংলায় বসে পাকিস্তানে OTP শেয়ার, মুর্শিদাবাদ থেকে গ্রেফতার ২ যুবক
আজ তক | ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
পাক গুপ্তচর সন্দেহে মুর্শিদাবাদে গ্রেফতার ২ যুবক। গত ১০ ফেব্রুয়ারি গোপন সূত্র মারফত খবর পেয়ে পশ্চিমবঙ্গ STF টিম বহরমপুরের গুধিয়া গ্রাম থেকে পাকড়াও করে জুহাব শেককে। তাকে জেরা করে উঠে আসে সহযোগী সুমন শেকের নাম। রবিবার STF-এর জালে ধরা পড়ে সে-ও। উদ্ধার হয়েছে একটি মোবাইল ফোন। এই ফোন থেকেই ২ ধৃত পাকিস্তানে OTP পাঠাত বলে খবর।
তদন্তে নেমে প্রথমে জুহাব শেককে জেরা করে STF জানতে পারে, সে তার সহযোগী, গুধিয়া গ্রামের দারগাতলার বাসিন্দা সুমন শেকের সঙ্গে হোয়াটসঅ্যাপে নানা OTP শেয়ার করত। এর জন্য পয়সাও পেত তারা। এই OTP গুলি নানা বেআইনি কাজে ব্যবহার করা হত বলে খবর।
ভারতীয় ন্যায় সংহিতা, ইন্ডিয়ান টেলিগ্রাম অ্যাক্ট ১৮৮৫ এবং ইমিগ্রেশন এবং ফরেনার্স অ্যাক্ট ২০২৫ অনুযায়ী STF হেডকোয়ার্টারে একটি মামলা রুজু হয়েছে। জুহাব শেককে পুলিশি হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করার পর গ্রেফতার করা হয় সুমন শেককে।
ধৃতের মা মেনকা বিবি বলেন, 'আমার ছেলে শিক্ষিত। ও চাকরি খুঁজছিল। কয়েকজন আমাদের বাড়িতে এসে ওর ফোন চেক করল। কিন্তু ওকে গ্রেফতার করা হবে, এমন কিছু বলেনি। মা হিসেবে ছেলেকে ফিরে পেতে চাই। ও কোনও ভুল কাজ করতে পারেন না।'
জানা গিয়েছে, ধৃত সুমন শেখ পুনের একটি লেদ কারখানায় গত কয়েকবছর ধরে কাজ করছিল। গোয়েন্দা সূত্রে খবর, পাকিস্তানি একাধিক ব্যক্তির সঙ্গে সোশাল মিডিয়ায় যোগাযোগ ছিল তার। ক্রিপ্টো কারেন্সির মাধ্যমে টাকাও পেয়েছে ধৃত। বেশ কিছু পাকিস্তানি নম্বরে নির্দিষ্ট কিছু OTP পাঠিয়েই এই টাকা পেয়েছিল সে। তার সহযোগী জুহাব শেক সিম কার্ডের ব্যবসা করত। তাদের মধ্যে ক্রিপ্টোকারেন্সির লেনদেন হয়। এই দু'জনের সঙ্গে পাক গুপ্তচরের যোগাযোগ ছিল কি না, সে ব্যাপারে খতিয়ে দেখছে STF।
উল্লেখ্য, ঠিক একইরকম সন্দেহজনক কাজে লিপ্ত থাকার অভিযোগে রবিবারই তামিলনাড়ুর তিরুপুর জেলার পোশাক কারখানা থেকে মিজানুর রহমান, মহম্মদ শবত, উমর, মহম্মদ লিটন, মহম্মদ শাহিদ এবং মহম্মদ উজ্জ্বল নামে ৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এদের সকলকে কোনও হ্যান্ডলার চালাত কি না, তাদের কোনও টাস্ক দেওয়া হয়েছিল কি না, তা-ও তদন্তকারীরা জানার চেষ্টা করছেন। কোনও জঙ্গি সংগঠনের বড়সড় প্ল্যানের অংশ ছিল কি না, সে ব্যাপারেও তদন্ত চালানো হচ্ছে।