• 'ও আমার ক্ষতি করার কারিগর, কিন্তু...' মুকুলকে যেভাবে স্মরণ করলেন কুণাল
    আজ তক | ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • 'ও আমার ক্ষতি করার কারিগর। অনেক পরেও সিবিআইকে কত বড় মিথ্যা বয়ান দিয়ে আমাকে আরও ফাঁসানোর চেষ্টা করেছে, আমি দেখেছি, আমি জানি, ঈশ্বর আছেন।', প্রয়াত মুকুল রায়ের স্মৃতিচারণায় পুরনো সেই দিনের 'অপ্রিয় কথা' তুলে ধরলেন তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ। 

    প্রসঙ্গত, রবিবার রাত দেড়টায় সল্টলেকের এক বেসরকারি হাসপাতালে প্রাণ হারান মুকুল রায়। তারপরই অনীল বিশ্বাস পরবর্তী বাংলার রাজনীতির 'চাণক্য' মুকুল রায়ের স্মৃতিতে একাধিক পোস্ট হতে থাকে সোশ্যাল মিডিয়ায়। আর সেই তালিকায় অবশেষে নাম লেখালেন তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষও। 

    নিজের লেখার প্রথমে তিনি মুকুল রায়ের শান্তি কামনাই করেন। কুণাল লেখেন, 'মুকুল রায় প্রয়াত,  চিরশান্তিতে থাকুক। দীর্ঘকাল চিনি। সাংবাদিক হিসেবে বা পরে রাজনৈতিক সহকর্মী হিসেবে। একটা সময়ে মমতাদির পরম অনুগত। দলের কঠিন সময়েও তৃণমূলভবন আগলে পড়ে থাকত। কর্মীদের সময় দিত। দিদির নির্ভরযোগ্য স্তম্ভ ছিল। বাংলা চিনত।'

    এরপরই লেখার মোড় বদলে যায়। নিজের ক্ষোভের কথা শব্দের মাধ্যমে প্রকাশ করেন কুণাল। তিনি লেখেন, 'পরে সময়ের সঙ্গে বদল। আমার রাজনৈতিক উচ্চাশা ছিল না। তবু, রজ্জুতে সর্পভ্রম করে আমাকে বধ করার দরকার মনে করেছিল। আমার বিশ্বাসের মর্যাদা না দিয়ে আমাকে খাদের ধারে নিয়ে গিয়ে ঠেলে ফেলে দেওয়ার মূল কারিগর ছিল মুকুলদা...'

    বিজেপিতে টেনেছিল মুকুলদা
    আজ মুকুল রায়ের স্মৃতিচারণায় 'বিজেপিতে টানার' প্রসঙ্গেও তোলেন কুণাল। তিনি লেখেন, 'পরে মুকুলদা তখন বিজেপিতে, আমাকে নানা কথা বলে আবার কাছে টেনে বিজেপিতে নেওয়ার চেষ্টা করেছিল। আমার বাড়িতে এসেছে একাধিকবার, আমি না বলায় আমার এলাকার ভাই, বন্ধুদের বুঝিয়েছে। বলেছে, 'অমুক অমুক ' কারণে এই পার্টি করা যাবে না। কুণাল চলে আসুক। আন্তরিকভাবে আমাকে ওর সঙ্গে নতুন দলে নিয়ে যাওয়ার জন্য বুঝিয়েছে। আমি বলেছি, সব বুঝলাম, কিন্তু দল ছাড়ব না, দলের ভেতরেই নিজেকে প্রমাণের চেষ্টা করে যাব।'

    তবে এহেন মুকুলদারও সুস্থতা চেয়েছেন কুণাল। তিনি লেখেন, 'আরও পরে মুকুলদা অসুস্থ। মনেপ্রাণে চেয়েছি, সেরে উঠুক। ওর ছেলে শুভ্রাংশুর সঙ্গে আমার টুকটাক যোগাযোগ থাকে। মুকুলদাকে দেখতেও গেছি। শুভ্রাংশু ও পরিবারের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা। মুকুলদা একজন দক্ষ রাজনৈতিক কর্মী ছিল। ওর সঙ্গে কিছু মুহূর্ত মনে থাকবে। ওর কেন্দ্রীয় মন্ত্রিত্বের আগের রাতে দিল্লির বাড়ির সামনের গাছের তলার আলোচনা এবং দিদির ঘরের দরজা নক করে আরও অনুরোধ ; কিংবা কালিম্পং-এ শীতের রাতে আমি আর মুকুলদা রুম হিটার কোলে নিয়ে জেগে গল্প, এরকম বেশ কিছু মুহূর্ত আছে।'

    রাগ অভিমান রয়েছে
    যদিও লেখার শেষে আবার ক্ষোভের কথা তোলেন তিনি। তাঁর কথায়, '...আমার রাগ, অভিমান আছে। কিন্তু ওর বৈশিষ্ট্যগুলো অস্বীকার করব কেন? ও আমার ক্ষতি করার কারিগর। অনেক পরেও সিবিআইকে কত বড় মিথ্যা বয়ান দিয়ে আমাকে আরও ফাঁসানোর চেষ্টা করেছে, আমি দেখেছি, আমি জানি, ঈশ্বর আছেন। কিন্তু ও  তৃণমূলের দুঃসময়ের অন্যতম সৈনিক, পাল্টেছে অনেক পরে। তবে, আমার মতে কারণ যাই হোক, ওর তৃণমূল ছাড়াটা মস্ত ভুল। তৃণমূলে ও একটা বড় নাম। তবে দলবদলের জটিল আবর্তে সম্মান ও গুরুত্বটা হারিয়ে ফেলেছিল। আজ ওর বিদায়ের মুহূর্তে সুন্দর কিছু স্মৃতি মনে থেকে যাক। বাকি পর্যালোচনা চলতে থাকবে।'

     
  • Link to this news (আজ তক)