দীর্ঘ অসুস্থতার সঙ্গে লড়াইয়ে হার, প্রয়াত মুকুল রায়
আজ তক | ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
শারীরিক অসুস্থতার সঙ্গে দীর্ঘ লড়াইয়ে হার। প্রয়াত রাজনীতিবিদ মুকুল রায়। বয়স হয়েছিল ৭২ বছর। রবিবার মধ্যরাত দেড়টা নাগাদ শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। সল্টলেকের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন প্রায় বছর দু'য়েক। শেষের দিকে চলে গিয়েছিলেন কোমায়। হাসপাতালেই গভীর রাতে ম্যাসিভ কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট হয় তাঁর। চিকিৎসকদের সমস্ত চেষ্টা ব্যর্থ হয় তারপর। আর ফেরানো যায়নি বঙ্গ রাজনীতির এই বর্ষীয়ান নেতাকে। ছেলে শুভ্রাংশু রায় খবরটি নিশ্চিত করেন।
bangla.aajtak.in-কে শুভ্রাংশু বলেন, 'সব শেষ! রাত দেড়টা নাগাদ ম্যাসিভ কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট হয়। তারপর আর রিকভারি করা সম্ভব হয়নি।' বাবার প্রয়াণে গভীর ভাবে শোকান্ত ছেলে জানান, শেষ লড়াইটা আর জিততে পারলেন না। দু'বছর ধরে শারীরিক ভাবে অসুস্থ মুকুল রায় হাসপাতালেই চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে ছিলেন। শারীরিক অবস্থার অবনতি হচ্ছিল ক্রমশ। কোমায় ছিলেন, চোখের পলক পড়ত না তাঁর। কাউকে চিনতে পারতেন না। রাইলস টিউবে খাওয়ানো হত তাঁকে। রবিবার রাতে পরিস্থিতি গুরুতর হয়। তৃণমূল বা BJP, কারও পক্ষ থেকে শোকবার্তা এসেছে কি না, এ প্রশ্নের উত্তরে শুভ্রাংশু বলেন, 'এত রাতে ঘটনাটি ঘটার পর কাউকেই আর জানাতে পারিনি।' সোমবারই শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে মুকুল রায়ের। মরদেহ প্রথমে নিয়ে যাওয়া হবে বাড়িতে। পরবর্তীতে অনুগামীরা অন্য কোথাও শ্রদ্ধা জানানোর সুযোগ পাবেন কি না, তা এখন নির্দিষ্ট ভাবে পরিকল্পনা করতে পারেনি শুভ্রাংশু।
দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে রাজ্য এবং জাতীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন এই বর্ষীয়ান নেতা। রেলমন্ত্রী হিসেবেও দায়িত্ব সামলেছেন। বর্ণময় রাজনৈতিক জীবন ছিল তাঁর। বিতর্ক কম হয়নি তাঁকে নিয়ে। জন্মলগ্ন থেকে তৃণমূল কংগ্রেসের সেকেন্ড ইন কম্যান্ড ছিলেন মুকুল রায়। তবে তিনি দলত্যাগ করে ২০১৭ সালে যোগ দিয়েছিলেন BJP-তে। ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে কৃষ্ণনগর উত্তর কেন্দ্র থেকে বিজেপির টিকিটে জয়ী হয়েছিলেন মুকুল রায়। কিন্তু নির্বাচনের পর তিনি পুনরায় তাঁর পুরনো দল তৃণমূলে ফিরে আসেন। এর পরেই দলত্যাগ বিরোধী আইনে তাঁর বিধায়ক পদ খারিজের দাবিতে সরব হন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। বিধানসভার স্পিকার মুকুল রায়ের পদ খারিজ করতে অস্বীকার করায় মামলা গড়ায় কলকাতা হাইকোর্টে। সুপ্রিম কোর্ট মানবিক দিক থেকে বিবেচনা করে হাইকোর্টের দেওয়া বিধায়ক পদ খারিজের নির্দেশের উপর অন্তর্বর্তী স্থগিতাদেশ জারি করে। ফলে আমৃত্যু বিধায়ক ছিলেন মুকুল রায়।