• মুকুলকে নিয়ে আবেগতাড়িত পোস্ট মমতার, স্মরণ করলেন TMC প্রতিষ্ঠার দিনগুলি
    আজ তক | ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • দীর্ঘ রোগভোগের পর রবিবার গভীর রাতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ মুকুল রায়। একদা সহযোদ্ধার প্রয়াণে বিচলিত হয়ে পড়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি এক্স হ্যান্ডলে একটি পোস্ট করে শোকবার্তা ব্যক্ত করেছেন। লিখেছেন, তাঁদের সুদীর্ঘ লড়াই, তৃণমূলের প্রতিষ্ঠার কথা। বাদ দেননি মুকুল রায়ের দল পরিবর্তনের কথাও। এইসঙ্গে শুভ্রাংশু রায়কে সহমর্মিতাও জানিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। 

    খাতায় কলমে BJP বিধায়ক হলেও শেষ জীবনে মুকুল রায় ছিলেন তৃণমূলেই। তবে শুরুটা হয়েছিল অনেক আগে। তৃণমূলের জন্মলগ্ন থেকে ছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পাশে। ছিলেন অঘোষিত 'সেকেন্ড ইন কমান্ড'। ১৯৯২ সালে মমতা যখন প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি পদের জন্য সোমেন মিত্রর বিরুদ্ধে লড়েছিলেন, তখন মুকুল মমতারই পক্ষে ছিলেন। কংগ্রেস ছেড়ে বেরিয়ে তৃণমূল গঠনেও মমতার সঙ্গ দিয়েছিলেন। তাই আস্থাভাজন মুকুলকেই মমতা সঁপেছিলেন সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব।

    অতীত স্মরণ করেই সোমবার শোকবার্তায় মমতা লেখেন, 'তিনি আমার দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সহকর্মী ছিলেন, বহু রাজনৈতিক সংগ্রামের সহযোদ্ধা ছিলেন। তাঁর বিদায়ের খবর আমাকে বেদনাহত করেছে।' মুখ্যমন্ত্রীর সংযোজন, 'প্রয়াত মুকুল রায় তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে দলের জন্য প্রাণপাত করেছেন। তিনি কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হয়েছিলেন, দলের সর্বস্তরে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা ছিল।'

    তবে মুকুল রায় যে তৃণমূল থেকে BJP-তে দলবদল করেছিলেন, সে কথাও এদিন স্মৃতিচারণায় উল্লেখ করেছেন মমতা। যদিও তাঁর কথায়, ' বাংলার রাজনীতিতে তাঁর অবদান এবং সাংগঠনিক দক্ষতার কথা ভোলার নয়। দলমত নির্বিশেষে তাঁর অভাব অনুভব করবে রাজনৈতিক মহল।'

    ছেলে শুভ্রাংশুকে সহানুভূতি জানিয়ে মমতা বলেন, 'মন শক্ত করো। এই সঙ্কটে আমরা তোমার সঙ্গে আছি।'

    ২০০৬ সালে মমতা মুকুলকে পাঠান রাজ্যসভায়। ২০০৯ সালে কংগ্রেসের সঙ্গে তৃণমূলের জোটের ক্ষেত্রে সেতুবন্ধনের কাজ করেছিলেন তিনি। ফলস্বরূপ পেয়েছিলেন জাহাজ প্রতিমন্ত্রীর পদ। সিঙ্গুর-নন্দীগ্রাম আন্দোলনে ছিলেন মমতার ছায়াসঙ্গী। ২০১২ সালে রেলমন্ত্রীর দায়িত্ব পান মুকুল। ২০১৬ সালের বিধানসভা ভোটের কয়েক মাস আগে মুকুলকে তৃণমূলের সর্বভারতীয় সহ সভাপতির পদ দেওয়া হয়।

    ২০১৭ সালের অক্টোবরে তৃণমূলের রাজ্যসভার সাংসদ পদ থেকে ইস্তফা দেন মুকুল। নভেম্বরে দিল্লিতে গিয়ে যোগ দেন BJP-তে। ২০২১ সালের ফল ঘোষণা হয়েছিল ২ মে। ১১ জুন তিনি ফের চলে যান তৃণমূলে। 


    উল্লেখ্য, মুকুল রায়ের প্রয়াণে শোকবার্তা জ্ঞাপন করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীও। তিনি বাংলায় লেখেন, 'প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শ্রী মুকুল রায় জি'র প্রয়াণে শোকাহত। তাঁর রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও সমাজসেবামূলক প্রচেষ্টা স্মরণীয় হয়ে থাকবে। তাঁর পরিবার ও সমর্থকদের প্রতি সমবেদনা জানাই। ওঁ শান্তি।'

     
  • Link to this news (আজ তক)