নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে অস্বচ্ছতার অভিযোগ বিশ্বভারতীর বিরুদ্ধে
বর্তমান | ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
সংবাদদাতা, বোলপুর: নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ পিছু ছাড়ছে না বিশ্বভারতীর। কয়েকদিন আগেই বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগে অধ্যাপক ও প্রশাসনিক পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে যোগ্য প্রার্থীদের ডাকা হচ্ছে না বলে প্রধানমন্ত্রী, রাষ্ট্রপতি সহ একাধিক দপ্তরে অভিযোগ জানিয়েছিলেন কয়েকজন চাকরিপ্রার্থী। এই ঘটনার পরই বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগে নিয়োগ ঘিরে নতুন করে প্রশ্ন ও উদ্বেগ সামনে আসছে। এই আবহে বিদ্যাভবনের ইতিহাস বিভাগে সহযোগী ও সহকারী অধ্যাপক পদে নিয়োগ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন দুই আবেদনকারী। তাঁরা নিয়োগ প্রক্রিয়ার নিয়ে ব্যাখ্যাও চেয়েছেন।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি ইতিহাস বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক পদে নিজের নাম শর্ট লিস্টে না থাকায় প্রশ্ন তুলেছেন এক আবেদনকারী। তিনি বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের কাছে পাঠানো চিঠিতে জানান, তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী আবেদন করেছেন এবং ইউজিসি-র ২০১৮ সালের বিধি অনুযায়ী সমস্ত যোগ্যতা পূরণ করেছেন। তাঁর দাবি, প্রাসঙ্গিক বিষয়ে পিএইচডি, প্রায় ১৬ বছরের শিক্ষকতা ও গবেষণার অভিজ্ঞতা, ইউজিসি তালিকাভুক্ত জার্নালে প্রয়োজনীয় প্রকাশনা এবং অ্যাকাডেমিক পারফরম্যান্স— সব ক্ষেত্রেই তিনি যোগ্য। বর্তমানে তিনি একটি স্বীকৃত প্রতিষ্ঠানে সহযোগী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত। তাঁর অভিযোগ, সহকারী অধ্যাপক পদমর্যাদার প্রার্থীরা শর্ট লিস্টে স্থান পেলেও তাঁকে জার্নাল ও অন্যান্য প্রকাশনার প্রমাণ না থাকার অজুহাত দেখিয়ে বাদ দেওয়া হয়েছে, যা ইউজিসি নির্দেশিকার সঙ্গে সঙ্গতিপূর্ণ নয়। তিনি শর্ট লিস্টেড প্রার্থীদের এপিআই নম্বর প্রকাশ, নিজের মূল্যায়ন স্কোর জানানো এবং তাঁর আবেদন পুনর্বিবেচনার দাবি তুলেছেন।
এদিকে ইতিহাস বিভাগের অসংরক্ষিত পদের সহকারী অধ্যাপক নিয়োগ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন আর এক আবেদনকারী। বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন ও নিয়োগের স্ক্রিনিং কমিটির কাছে পাঠানো ইমেলে তিনি জানান, প্রভিশনাল স্ক্রিনিং রিপোর্টে তাঁর নাম ইন্টারভিউয়ের জন্য নির্বাচিত নয় বলা হয়েছে। তাঁর বক্তব্য, ‘নট শর্ট লিস্টেড অ্যাজ পার রুলস’ মন্তব্যটি অস্পষ্ট এবং কোন নিয়মে তাঁকে বাদ দেওয়া হয়েছে তা স্পষ্ট করা উচিত। তিনি কাট-অফ নম্বর, নিজের স্কোর ও মূল্যায়ন পদ্ধতি প্রকাশের দাবি জানান। এই দুই আবেদনকারী বলেন, আমাদের সমস্ত যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও ইন্টারভিউয়ে ডাকা হয়নি। কেন ইন্টারভিউয়ে ডাকা হল না, তার বিস্তারিত কারণ দেখায়নি বিশ্বভারতী। আমরা চাই নিয়োগ প্রক্রিয়া স্বচ্ছ করা হোক। তাঁদের এই অভিযোগের প্রেক্ষিতে এখনও বিশ্ববিদ্যালয় বা স্ক্রিনিং কমিটির তরফে প্রতিক্রিয়া মেলেনি। এই বিষয়ে বিশ্বভারতীর ভারপ্রাপ্ত জনসংযোগ আধিকারিক অতিগ ঘোষের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তাঁকে ফোনে পাওয়া যায়নি।