কেতুগ্রামের খাটুন্দিতে কাঁদরের উপর হচ্ছে বড় সেতু, বরাদ্দ ৮ কোটি টাকা
বর্তমান | ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
সংবাদদাতা, কাটোয়া: কেতুগ্রামের খাটুন্দি থেকে চিতাহাটি যাওয়ার সেতু তৈরির কাজ চলছে পুরোদমে। কাঁদরের উপর সেতু তৈরির জন্য ৮ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে রাজ্য গ্রামন্নোয়ন দপ্তর। কাজ শেষ হলে কেতুগ্রাম-১ ও ২ ব্লকের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করবে ওই সেতু। বহু গ্রামের মানুষ উপকৃত হবেন ওই সেতুর কাজ শেষ হলে। এটাই যে শাসকদলের এবারের নির্বাচনের তুরুপের তাস হতে চলেছে। তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। কেতুগ্রামের বিধায়ক শেখ শাহনেওয়াজ বলেন, খাটুন্দি থেকে চিতাহাটি যাওয়ার রাস্তায় সেতু হচ্ছে। এতে প্রচুর গ্রামের মানুষ উপকৃত হবেন। দীর্ঘদিন ধরেই ওখানকার মানুষের সেতুর চাহিদা ছিল। ইতিমধ্যেই ওই এলাকায় সেতু তৈরির কাজ চলছে। আমি বিধানসভায় ওই সেতু তৈরির জন্য বলেছিলাম।
স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, কেতুগ্রামের-১ ও ২ ব্লকের বহু গ্রামের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষার জন্য খাটুন্দি-চিতাহাটি ৬৩ মিটার লম্বা সেতুর বড় প্রয়োজন ছিল। এতে বোলপুরের সঙ্গে কাটোয়া যাওয়ার রাস্তা অনেকটাই কমবে বলে জানান স্থানীয়রা। শুধু তাই নয়, প্রতিবছর বর্ষার সময় ব্যাপক দুর্ভোগে পড়েন ওই অঞ্চলের মানুষ। সেতু তৈরি হলে এবার সেই সমস্যা মিটবে। পয়রাকান্দি, হাটপাড়া, কৌরি, মিত্রটিকুরি, রঘুনাথপুর, ভুলকুড়ি, গুড়পাড়া, মালিয়া, পাণ্ডুগ্রাম সহ প্রায় ৫০ থেকে ৬০ টি গ্রামের মানুষ উপকৃত হবেন ওই সেতুর জন্য। ওখানে ঈশানী নদী বয়ে গিয়েছে। তবে এলাকার বাসিন্দাদের কাছে বড় কাঁদর নামেই পরিচিত। ওই এলাকায় একটি সংকীর্ণ সেতু রয়েছে। তাই বড় গাড়ি পারাপার করতে পারে না। পাণ্ডুগ্রাম স্বাস্থ্যকেন্দ্রে রোগীদের যেতে সংকীর্ণ সেতু দিয়ে পারাপার করতে ঝক্কি পোহাতে হত এতদিন। এবার নতুন সেতু চওড়া হচ্ছে। বোলপুর থেকে ফুটিসাঁকো হয়ে কাটোয়া আসা যায়। এবার চিতাহাটির সেতু হলে সেই দূরত্মও কমে যাবে।
স্থানীয় বাসিন্দা লক্ষণচন্দ্র মণ্ডল, প্রফুল্ল হাজরা, শিবানী কর্মকাররা বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই আমরা প্রশাসন ও বিধায়কের কাছে সেতু তৈরির জন্য জানিয়েছিলাম। আমাদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছিল। এবার সেতু হচ্ছে। হাঁফ ছেড়ে বাঁচলাম।
২০১১ সালে রাজ্যে পালাবদলের পর থেকেই বামেদের শক্তঘাঁটি হিসাবে পরিচিত কেতুগ্রাম এখন শাসকদলের উপরেই ভরসা রেখেছে। কেতুগ্রামের পালিটা, আনখোনার বাসিন্দা উত্তম ঘোষ, মনসুর শেখরা বলেন, বাড়ির মেয়েরা এখন কন্যাশ্রী, রুপশ্রী সব পাচ্ছেন। এত উন্নয়নের ফল ভোটবাক্সে পড়বেই। তবে লোকসভার সময় বিজেপি নেতারা ভুরি ভুরি প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। সেসব কোনওদিন তো পেলাম না!
কেতুগ্রামের বিজেপির সাংগঠনিক বোলপুর জেলার সম্পাদক মাধব সরকার বলেন, আমরা চেয়েছিলাম ভাগীরথী পাড়ের উদ্ধারণপুর থেকে ভাগ্যবন্তপুর পর্যন্ত একটি বড় সেতু হোক। সেটা হলে বহু মানুষ উপকৃত হতেন। আর চিতাহাটিতে শুধু একটি সেতু তৈরি করলে ভোট পাওয়া যায় না। সেটা আগামী দিনে প্রমাণ হবে।