• বিধায়ক জীবনকৃষ্ণ জেলে, বড়ঞায় ভোটের দায়িত্বে তৃণমূলের কমিটি
    বর্তমান | ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • ইন্দ্রজিৎ কর্মকার, কান্দি: নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় দলের বিধায়ক এখন জেলবন্দি। এমন অবস্থায় তৃণমূলের সাংগঠনিক কমিটির হাতেই দায়িত্ব পড়েছে বড়ঞার ভোট-কৌশল ঠিক করার। ইতিমধ্যে সেই কাজও শুরু করে দিয়েছে কমিটি। প্রতি সন্ধ্যায় এলাকার ২৩২টি বুথেই চলছে বিশেষ বৈঠক। প্রচার-যুদ্ধে বিজেপিকে টেক্কা দিতে সোমবার থেকে শুরু হয়েছে দেওয়ালে চুন লেপার কাজ।

    একুশের ভোটে ওই কেন্দ্রে জয়ী হয়েছিলেন তৃণমূলের জীবনকৃষ্ণ সাহা। প্রাপ্ত ভোট ছিল ৮১ হাজার ৮৯০টি। অপরদিকে, বিজেপির অমিয়কুমার দাস ভোট পেয়েছিলেন ৭৯ হাজার ১৪১টি। জীবনকৃষ্ণের জয়ের ব্যবধান ছিল ২ হাজার ৭৪৯টি ভোট। এবার ওই কেন্দ্রে বিজেপি শাসকদলের ঘাড়ে নিঃশ্বাস ফেলেছে বলে রাজনৈতিক মহলের খবর।

    এদিকে, নিয়োগ দুর্নীতি মামলায় দু’বার গ্রেপ্তার হয়েছে জীবনকৃষ্ণ। প্রথমবার ২০২৩ সালের ১৭ এপ্রিল তাকে গ্রেপ্তার করে সিবিআই। দ্বিতীয়বার গ্রেপ্তার হয় ২০২৫ সালের ২৫ আগস্ট। এবার তিনি ইডির হাতে গ্রেপ্তার হন। বর্তমানে তিনি জেলে বন্দি। ফলে বিধায়কহীন বড়ঞা। স্বাভাবিকভাবেই তৃণমূলের ভোট রণকৌশল কি হবে, তা নিয়ে দলীয় কর্মীদের কৌতূহল ছিল তুঙ্গে। সাধারণ মানুষের মধ্যে জল্পনার পারদ চড়ছিল। সম্প্রতি দলের জেলা কমিটি সব জল্পনার অবসান ঘটিয়েছে। নির্বাচনের বিষয়টি দলের ব্লক সংগঠনের উপরই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বলে দলীয় সূত্রে খবর। তৃণমূলের বহরমপুর সাংগঠনিক জেলা সভাপতি অপূর্ব সরকার বলেন, ‘বড়ঞায় দলের শক্তপোক্ত ব্লক কমিটি রয়েছে। যাঁরা অনেকদিন থেকেই নির্বাচন পরিচালনায় দক্ষ।’

    অপূর্ববাবুর কথার সুরে স্থানীয় তৃণমূল সূত্রেও বলা হচ্ছে, তৃণমূলের বিধায়কের অনুপস্থিতি বড়ঞায় কোনও ফ্যাক্টর হবে না। বড়ঞা ব্লক উত্তর সভাপতি গোলাম মুর্শিদ বলেন, ‘বিধায়ক কোনওদিনই সাংগঠনিক দায়িত্বে ছিলেন না। কাজেই ভোটের বিষয়ে ওঁর থাকা না থাকা কোনও বড় বিষয় নয়। তাছাড়া এই এলাকায় রাজ্য সরকারের বহু প্রকল্প তৈরি হয়েছে। ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। আমরা প্রতিটি বুথ কমিটির মিটিংয়ে সেগুলি তুলে ধরছি। প্রতি সন্ধ্যায় ২৩২টি বুথেই বৈঠক চলছে। নিয়ম করে দলীয় নেতৃত্ব বুথ কমিটির মিটিংয়ে পৌঁছে জেলা কমিটিকে রির্পোটও পাঠাচ্ছে। শীর্ষ নেতৃত্বের রণকৌশল মেনেই আমরা কাজ করে চলেছি।’

    এদিকে, বড়ঞাকে পাখির চোখ করে নেমেছে বিজেপিও। কিছুদিন আগে থেকেই বিজেপির পক্ষ থেকে প্রার্থীর নাম বাদ দিয়ে এলাকায় প্রতীক আঁকার কাজ শুরু হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা তথা বিজেপির বহরমপুর সাংগঠনিক জেলা সহকারী সভাপতি সুখেন বাগদি বলেন, ‘গত বিধানসভায় যেটা হয়নি। সেটা এবার হতে চলেছে। বড়ঞায় পদ্মফুল ফোটা শুধু সময়ের অপেক্ষা।’

    এতদিন তৃণমূলের পক্ষ থেকে শুধুমাত্র দেওয়াল দখলের কাজ চলছিল।. সোমবার থেকে দেওয়ালে চুন দেওয়ার কাজও শুরু হয়েছে। দলের দক্ষিণ ব্লক সভাপতি মাহে আলম বলেন, ‘নির্বাচন পরিচালনার ক্ষেত্রে দলের বুথ কমিটির চেয়ে বেশি দায়িত্ব কারও থাকতে পারে না। তাই বুথ কমিটির বৈঠকে জোর দেওয়া হয়েছে। পাড়ায় পাড়ায় বিজেপির বিরুদ্ধে ঐক্য গড়ে উঠছে। এসআইআর নিয়ে বিজেপির চরিত্র মানুষের কাছে পরিস্কার হয়ে গিয়েছে। ওরা বিভাজনে বিশ্বাসী। আমরা উন্নয়নে।’
  • Link to this news (বর্তমান)