দোল উৎসবের আগে কালনার মঠ-মন্দিরে পুণ্যার্থীদের ভিড়
বর্তমান | ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
সংবাদদাতা, কালনা: দোল উৎসব উপলক্ষে কালনা মহকুমাজুড়ে মঠ-মন্দির সহ বৈষ্ণব তীর্থক্ষেত্রগুলিতে দেশ-বিদেশের হাজার হাজার ভক্ত ও পর্যটক ভিড় জমিয়েছেন। হরিনাম সহকারে পরিক্রমা শুরু হয়েছে। নাদনঘাট থানার পূর্বস্থলী-১ ব্লকের বিভিন্ন বৈষ্ণব তীর্ঘক্ষেত্রগুলিতে ভক্তদের ভিড় সবচেয়ে বেশি। ভিড়ের জেরে বিশৃঙ্খলা রুখতে মঠ ও মন্দিরগুলিতে কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা করেছে নাদনঘাট থানার পুলিশ।
নবদ্বীপের সঙ্গে সংলগ্ন পূর্বস্থলী-১ ব্লকের মাগনপুর, বিদ্যানগর, সমুদ্রগড়, জাহান্নগর সহ একাধিক এলাকা চৈতন্য মহাপ্রভুর বিচরণক্ষেত্র ছিল। এইসব এলাকায় শ্রীচৈতন্যের স্মৃতিবিজড়িত একাধিক মঠ-মন্দির রয়েছে। সমুদ্রগড়ের চাঁপাহাটিতে গৌর গদাধর মন্দির, বিদ্যানগরে চৈতন্যদেবের বাল্যশিক্ষা কেন্দ্র গঙ্গাদাস পণ্ডিতের টোল, পণ্ডিত বাসুদেব সার্বভৌমের আশ্রম, জাহান্নগরের মামগাছিতে বৃন্দাবন দাসের পাঠবাড়ি, সারঙ্গ-মুরারির আশ্রম, মাধাইপুরে জগাই-মাধাই মন্দির, চৈতন্যদেবের ভিক্ষানগরী মাগনপুর প্রভৃতি। এছাড়াও কালনা শহরে রয়েছে পাঁচশো বছরের প্রাচীন চৈতন্য মহাপ্রভুর জীবদ্দশায় নির্মিত চৈতন্যদেব ও নিত্যানন্দ প্রভুর দারুমূর্তি শোভিত মন্দির। নিত্যানন্দ প্রভুর শ্বশুরালয় শ্যামসুন্দর মন্দির সহ একাধিক বৈষ্ণব তীর্থক্ষেত্র রয়েছে।
দোল পূর্ণিমায় চৈতন্য মহাপ্রভুর আবির্ভাব উপলক্ষে উৎসব মুখর নবদ্বীপের সঙ্গে কালনা মহকুমাজুড়ে দেশ বিদেশের ভক্ত, পুণ্যার্থী ও পর্যটকদের ভিড় উপচে পড়ছে। ভক্তরা নবদ্বীপ, মায়াপুরের সঙ্গে পূর্বস্থলী-১ ব্লকের বৈষ্ণব তীর্থক্ষেত্র পরিক্রমায় বের হন। দলবদ্ধভাবে হরিনাম সংকীর্তনের সঙ্গে হেঁটে নানা বৈষ্ণব ক্ষেত্র দর্শন ও পরিক্রমা করেন। ভক্তরা এই ব্লকের সঙ্গে কালনা, মন্তেশ্বর প্রভৃতি এলাকায় বৈষ্ণব ক্ষেত্রগুলিতে পরিক্রমায় অংশ নেন। হাজার হাজার ভক্তের নামগানে মাতোয়ারা হয়ে উঠছে এলাকা। পাঁচশো বছরের প্রাচীন নাদনঘাট চাঁপাহাটির গৌর গদাধর মন্দিরে চৈতন্যদেব ও গদাধর প্রভুর দারুমূর্তি দেখতে ভিড় জমাচ্ছেন ভক্তরা।
বিদ্যানগররের গঙ্গাদাস পণ্ডিতের টোলে চৈতন্যদেব বাল্যশিক্ষা গ্রহণ করেছিলেন। সেকারণে এই টোল ও বৃক্ষ দর্শনে ভক্ত ও পুণ্যার্থীদের পুণ্যলাভ হয় বলে অনেকে মনে করেন। চৈতন্যদেবের ভিক্ষানগরী মাগনপুর মোড়ে রাজ্যের মন্ত্রী স্বপন দেবনাথের উদ্যোগে শ্রীচৈতন্যের পূর্ণাবয়ব মূর্তি স্থাপন করা হয়েছে। সকাল হলেই নবদ্বীপের দিক থেকে হেমাতপুর মোড় হয়ে কাতারে কাতারে ভক্তপ্রাণ মানুষ হেঁটে মঠ-মন্দিরের উদ্দেশে আসছেন। গৌর গদাধর মন্দিরের সেবাইত নিত্যানন্দ ব্রক্ষ্মচারী বলেন, চৈতন্য মহাপ্রভু পরম কৃপাময়। তাঁর দর্শনে ভক্তি-প্রেম ভাব জাগ্রত হয়। প্রভুর আবির্ভাব উপলক্ষে ভক্তদের পরিক্রমা জীবের কল্যাণ, প্রেম ও মোক্ষ লাভের পথ।
কালনার এসডিপিও আফজল আবরার বলেন, নাদনঘাট থানা এলাকায় দোল উৎসব উপলক্ষে প্রচুর ভক্ত সমাগম হয়। তাঁদের নিরাপত্তায় সবরকম ব্যবস্থা, বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।